এলডিসি উত্তরণের আগে যত বেশি সম্ভব চুক্তি করতে চাই : বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১২:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

এলডিসি উত্তরণের আগে যত বেশি সম্ভব চুক্তি করতে চাই : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্যমন্ত্রী মো. হাবিবুর রহমান আজ জাতীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ এলডিসি (Least Developed Country) মর্যাদা ত্যাগ করার আগে যত বেশি সম্ভব দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, ‘এলডিসি উত্তরণের আগে আমাদের অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও রপ্তানি সক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য সময়সীমা সীমিত, তাই দ্রুত ও কার্যকর চুক্তি সম্পাদন করা জরুরি’। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রপ্তানি শিল্প, বিশেষ করে পোশাক, জুট, ও কৃষি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের প্রত্যাশা বাড়ছে।

বাংলাদেশ ২০২৩ সালে এলডিসি মর্যাদা ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছে; আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বাণিজ্য অংশীদাররা ইতিমধ্যে এই পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ চালিয়ে আসছে। ২০১৩ থেকে ২০২১ পর্যন্ত দেশে মোট ৪১টি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি অন্তর্ভুক্ত। তবে এলডিসি মর্যাদা ত্যাগের পর, কিছু বাজারে কাস্টমস ডিউটি ও কোটা সুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে, তাই নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করে এই ক্ষতি পূরণ করা প্রয়োজন। অতএব, সরকার পূর্বে নির্ধারিত ‘বাণিজ্য রোডম্যাপ’ অনুসরণ করে, নতুন বাজার উন্মুক্তকরণ ও বিদ্যমান চুক্তির পুনঃনবীকরণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

মন্ত্রীর বক্তব্যের পর, বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ও ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসি) ও রপ্তানি সমিতি থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। বিসিসি সভাপতি মো. রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের আগে চুক্তি স্বাক্ষর আমাদের রপ্তানি শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরে নতুন বাজারের দরজা খুলে দেবে’। অন্যদিকে, কিছু অর্থনৈতিক বিশ্লেষক সতর্কতা প্রকাশ করে, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের গতি যদি গুণগত বিশ্লেষণ ছাড়াই হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যিক ক্ষতির কারণ হতে পারে’। জনসাধারণের মধ্যেও প্রত্যাশা বাড়ছে; রপ্তানিকৃত পণ্যের দাম স্থিতিশীল হলে গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকার ইতিমধ্যে কূটনৈতিক মিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে কমপক্ষে ১০টি নতুন বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করা হবে, যার মধ্যে দক্ষিণ-দক্ষিণ বাণিজ্য ও আফ্রিকান বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রীর দপ্তর বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে চুক্তি আলোচনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নীতি সমর্থন প্রদান করবে। ভবিষ্যতে, এলডিসি উত্তরণের পরেও বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতি ‘উচ্চ মানের, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে টেকসই ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট