২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৭
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের বিপুল পরিমাণ টাকা অর্থ পাচারের টাকা নয়, এগুলো ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা বলে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সাংবাদিকরা অন্যায়ভাবে এসব লেনদেনকে অর্থ পাচার হিসেবে তুলে ধরেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেয়া বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সুইস ব্যাংকে টাকা পাচারের বিষয়টি বাস্তবে মোটেই তেমন কিছু নয়। গত কয়েকদিন ধরে সংবাদ মাধ্যমে সুইস ব্যাংকের টাকা পাচারের কাহিনী ফলাও করে প্রচারিত হচ্ছে, হয়েছে। এতে বলা হয়েছে ২০১৬ সালের শেষে বাংলাদেশীদের জমাকৃত অর্থের পরিমাণ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে ২০১৬ সালে ৬৯৪ ডলার ১৫ সেন্টে উন্নিত হয়েছে। যা ২০১৫ সালে ছিল ৫৮২ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ইন্টিলিজেন্স ইউনিট অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে। সে তথ্য বিশে¬ষন করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। টাকার যে হিসাব কাগজে বেরিয়েছে ওইগুলো আসলে লেনদেন হিসাব এবং সম্পদের হিসাব।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশে অর্থ যে পাচার হয় না, সেকথা আমি বলব না। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমে যে পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে বলে প্রচার করা হয়েছে বিষয়টা বাস্তবে অতিশয়োক্তি বলে বিবেচনা করা চলে। তিনি বলেন, দেশের ব্যবসা বাণিজ্য বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে হয়ে থাকে। সুইজারল্যান্ডেও আমাদের যথেষ্ট লেনদেন আছে। ব্যবসা বাণিজ্য আছে। সুইজারল্যান্ডে ব্যাংকিং ব্যবস্থা অনেক উন্নত। ফলে নিকটস্থ অন্যান্য দেশের মত আমাদের ব্যবসা বাণিজ্যের দেনা পাওনার হিসাব সুইস ব্যাংকের মাধ্যমেও হয়ে থাকে। ২০১৩-১৪, ১৫ এবং ১৬ সালে সম্পূর্ণ প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে আমরা দেখেছি যে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা বাণিজ্যের কারণে অনেক লেনদেন হয়েছে। ২০১৬ সালের হিসাব মোটামুটিভাবে চূড়ান্তদ করা হয়েছে।সুইস ব্যাংকের লেনদেনের হিসাব দুটি ছকে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের খাতে সুইস ব্যাংকগুলোর সম্পদ। আর এক ছকে বাংলাদেশের খাতে সুইস ব্যাংকগুলোর দেনা। ব্যাংকের সম্পদ যেসব অর্থ তারা ঋণ দেয়। তাদের ঘরবাড়ি আছে বলেই তো তারা ঋণ দেয়। আর দেনা হচ্ছে তাদের কাছে ডিপোজিটরা যে টাকা রাখেন, সেটা দেনা। ডিপোজিটদের টাকা ফেরত দিতে হয়। বাংলাদেশের খাতে সুইস ব্যাংকের সম্পদ হচ্ছে ২০১৬ সালে ১৮২৩ কোটি টাকা। এই সময়ে তাদের দেনা ৫ হাজার ৫৬০ কোটি। অর্থাৎ ১৮২৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে এবং তাদের কাছে জমা হয়েছে ৫ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, সুইস ব্যাংকের বিনিময় হার সুইজারল্যান্ডের ১ ফ্র্যা সমান আমাদের ৮৪ টাকা। এতে দেখা যায় ২০১৫ সালে যে দেনা ছিল তা ২০১৬ সালের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম। আর ২০১৫ সালে যে সম্পদ ছিল তার থেকে ২০১৬ সালে ২ শতাংশ কমে গেছে। দেনার কেষত্রে জিসাব এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। আমাদের দেশে সুইচ ব্যাংকের দেনা পাওনার পরিমাণ খুব বেশি। এটি অবশ্য ব্যক্তির আমানত।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সুইজারল্যানের ব্যাংকের হিসাব ব্যক্তি খাতে মোট দেনা ৩৯৯ দশমিক ৮ কোটি। যা মাত্র ৭ শতাংশ। ব্যক্তি সম্পদ ১ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ১৮৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, সুইস ব্য্ংাকে ব্যক্তিখাতে অনেক হিসাব আছে। যারা বিদেশে চাকরি করে অথবা স্থায়ীভাবে বিদেশে কাজ করে। তাদের হিসাব এতে অর্ন্তভ্ক্তু আছে। তাদের কত টাকা আছে সেই তথ্য দিতে পারছি না। কারণ তাদের পাসপোর্টের হিসাব আমাদের কাছে নেই। কিন্তু আমাদের সাংবাদিকরা অত্যন্ত অন্যায়ভাবে এই টাকা পাচার বলে দিয়েছেন। সেজন্য দেশে একটা ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D