সিলেটে মাজারে দুপক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৩০

প্রকাশিত: ১০:১২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০২৬

সিলেটে মাজারে দুপক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৩০

সিলেটের মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম এলাকায় একটি মাজার ওয়াকফ এস্টেট, মসজিদ ও ৪০টি দোকান কোটা নিয়ন্ত্রণ এবং দানবাক্সের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সাত পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে সিলাম চকের বাজার এলাকায় হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) জামে মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। এ সময় ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মসজিদের ক্যাশ বাক্সের টাকা নিয়ে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে উভয় পক্ষ ইটপাটকেল ও বিভিন্ন দেশীয় উপকরণ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ সদস্যরাও হামলা-পাল্টাহামলার মধ্যে পড়েন। এতে মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মনির হোসেনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া দুই পক্ষের আরও ২০/২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আহতদের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মুরব্বিদের হস্তক্ষেপে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষের কারণে চন্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে কিছু সময় যান চলাচলও বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

স্থানীয়রা জানান, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা, কমিটি গঠন ও দায়িত্ব পালনের বিষয়েও আইনি প্রক্রিয়া চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দানবাক্সের টাকা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এদিকে সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংঘর্ষের কারণে চণ্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। আহতদের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহতদের মধ্যে শেখপাড়া গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি ও মসজিদের মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি, লতিফুর রহমান মেহদি, শাহ আব্দুল মান্নান, শাহ আবুল ও শাহ সুমনসহ আরও অনেকে রয়েছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মনজুরুল আলম বলেন, শনিবার রাতে দুই পক্ষের মুরব্বিদের নিয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট