|
প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০২৬
ডেস্ক ::: উচ্চ আদালতে মামলা চলাকালীন অবস্থায় সিলেট মহানগরীর মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম এলাকার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট মাজার ও মসজিদ এবং ৩৫-৪০টি দোকান কোটা নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ঘের ঘটনা ঘটে। আনুমানিক দুইঘন্টাব্যাপি চলা সংঘর্ষে ৭জন পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত জন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে এসএমপি’র মোগলাবাজার থানার পুলিশের সামনে সিলাম এলাকার চকের বাজার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) জামে মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- শেখপাড়া গ্রামের প্রবীণ মুরব্বী ও হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) জামে মসজিদের সাবেক মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি ও লতিফুর রহমান মেহদি, বাবু মিয়া, ছানু মিয়া, আলী রুবেল, শহিদ আহমদ, সোহান, সালমান, আবু বকর বাবুল, ছাইফং, বাবু, ইসলাম। আহত অন্যরা হলেন- শাহ আব্দুল মান্নান, শাহ আবুল, শাহ সুমন, শাহ বদরুল, শাহ হাসান উদ্দিন, শাহ মাহির, শাহ রাজিব, শাহ সায়েম, শাহ সাদি, শাহ আব্দুর রহিম, শাহ আশিকুর রহমান এপলু, শাহ সাবের, শাহ রাসেল, শাহ ফাহিম, শাহ সাইফ, শাহ আজমল, শাহ আশরাফ, শাহ আবজল, শাহ সাইদ, শাহ তুহিন, শাহ দুলাল, শাহ আলবাব, শাহ ওয়াহিদ, শাহ হারুন, শাহ ইয়াসির, শাহ নয়ন। আহতদের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে সিলাম শেখপাড়া এলাকায় দুইটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) উভয় পক্ষের লোকজন মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন। এ সময় মসজিদের বাইরে ওয়াকফ এস্টেট মাজার ও মসজিদ এবং ৩৫-৪০টি দোকান কোটা নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুইপক্ষের হামলা-পাল্টাহামলায় ওসি মো. মনির হোসেনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় দুইপক্ষের আরও ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। পরে মোগলাবাজার থানা পুলিশ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মুরব্বিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে ওই এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষের কারণে চন্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
সূত্র জানায়, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং–১২৭৩৫) পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত আরও আগে। গত ২৯ জুলাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেটের প্রশাসকের এক আদেশে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেটের জন্য নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
ওই কমিটিতে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহ-সভাপতি এবং মো. ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লী করা হয়। এছাড়া আবেদ রাজা ও আহমদুর রহমান ছাদেককে যুগ্ম মোতাওয়াল্লী এবং মোয়াজ্জেম হোসেন লনি, লুতফুর রহমান বাবু, আব্দুল মতিন শাহিন ও আব্দুস সামাদকে সদস্য করা হয়। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে শাহ আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে উচ্চ আদালতে রীট পিটিশন নং ১০৭৬৭/২৬ ইং দাখিল করেন। গত ১৬ আগস্ট মহামান্য হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্ট বিভাগের বিজয়-৭১ ভবনের ৩ নম্বর আদালতে এ রিটের শুনানি হয়। বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো. তাজরুল হোসাইনের আদালতে শুনানি শেষে বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেট অনুমোদিত কমিটিকে কারণ দর্শানোর জন্য আদেশ প্রদান করে ৪ সপ্তাহের রোল জারি করেন। আর সাময়িক সময়ের জন্য ওই কমিটির মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট ও মসজিদের সাময়িক সময়ে মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালনের জন্য আবেদ রাজাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D