|
প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২৬
সিলেটে ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৯ জনের পরিচয় মিলেছে। দুর্ঘটনায় আহত ২৪ জনের ১৪ জন ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজি সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল এলাকার জাহাঙ্গীরের মেয়ে চার বছর বয়সী শিশু কন্যা ফাইজা আক্তার, সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার বাসিন্দা উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চণ্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (২৬), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ইমন (৪৫), এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা হলেন- ওয়াহাব (৪৫), ঢাকার মনসুর আলী (৩৪), ব্রাম্মণবাড়িয়ার আতিকুল ইসলাম (৪৮), কিশোরগঞ্জের বাবুল (৪০), ব্রাম্মণবাড়িয়ার মফিজ মিয়া (৫৫), সাজিদ নুর (৪৫), নুরুন্নাহার (৪০), মুক্তার হোসেন (২৯), জাহাঙ্গীর (২৮), আফজল(৩০), আফরোজা (৩৮), মন্টু (৩০), সুমানগঞ্জের রাজু দাস (৩৫)।
আহত অন্যরা হলেন- কিশোরগঞ্জের ফারুক আহমদ (৫০), ফরিদপুরের শামীম আহমদ (৫০), ঢাকার মঞ্জু দাস (৫০), কুমিল্লার ইমরান (৩৫) গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর কাশিকাপন নামক এলাকায় ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-২৫৬৩) বাসের সঙ্গে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার (ঢাকা-মেট্রো-ব-১২-৫৯৮৭) কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, বেঙ্গল পরিবহণ ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীতগামী ইউনিক পরিবহণ বাসের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহণের ডান দিক বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং বাসটি রাস্তার পাশে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা, শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ওসমানীগর ফায়ারা সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌছে হতাহতদের উদ্ধার করে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। নিহতের লাশ শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। এসময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হলে পুলিশ আধা ঘন্টা চেষ্টা করে যানচলাচল স্বাভাবিক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচ গাড়ি ওভারটেক করতে গিয়ে ঢাকাগামী ইউনিকবাসকে আঘাত করে। ঘটনার পর স্বজনহারাদের ভীড় নামে শেরপুর হাইওয়ে থানা ও ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে নিহত ও আহতদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নিহতদের স্বজনদের খুঁজছে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ।
হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে মোট ১৬ জন আহতকে আনা হয়। এরমধ্যে চার বছরের শিশু জাইফাকে মৃত অবস্থায় আনা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রীতম নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মবিন বলেন, আহতদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। ক্যাজুয়ালটি বিভাগে থাকা পাঁচজনের অবস্থা শঙ্কামুক্ত এবং শিগগিরই তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হবে। ইএনটি বিভাগে ভর্তি দুইজনের অবস্থাও স্থিতিশীল। চক্ষু বিভাগে পাঁচজনের মধ্যে চারজনের চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে এবং একজনের চোখে গুরুতর আঘাত থাকায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। নিউরো সার্জারিতে ভর্তি তিনজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা ভালো হলেও আফতাব নামে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাকে আইসিইউতে রেখে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অনুমোদনহীন স্লিপার বাস, কাগজে-কলমে নেই বৈধতা:
এদিকে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, একটা অনুমোদনহীন স্লিপার বাস কাগজে-কলমে যার কোনো বৈধতাই নেই। অথচ মহাসড়কে দানবের মতো কিভাবে চলে? ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকে এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একটা সিঙ্গেল-ডেকার বাসের চ্যাসিস এনে, জোড়াতালি দিয়ে সেটিকে দোতলা স্লিপার কোচ বানানোর অনুমতি এই পরিবহন মালিকদের কে দিল? ওপরের দিকে অতিরিক্ত ওজনের কারণে যে বাসের ভারসাম্যই থাকে না, সেটি কোন সাহসে হাইওয়েতে ১০০ স্পিডে ওভারটেক করে?
অভিযোগ রয়েছে, বিআরটিএ কাগজে-কলমে এগুলোকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেই খালাস, আর হাইকোর্ট রুল জারি করেই দায়িত্ব শেষ করছেন। কিন্তু চোখের সামনে শত শত ফিটনেসবিহীন, অননুমোদিত স্লিপার বাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। একে তো কাঠামোগত ত্রুটি, তার ওপর চালকদের ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতা।
এঘটনায় মর্মাহত মানুষজন প্রশ্ন তুরছেন, দেশের গাবতলীসহ বিভিন্ন জায়গায় যে গাড়ির বডি বিল্ডিং কারখানাগুলো আছে এগুলো এসবের পেছনে দায়ী। বাংলাদেশের বেশিরভাগ বাসের ইঞ্জিনিয়রিং ত্রুটি স্পষ্ট। এসব সস্তা বডি বিল্ডিং কারখানাগুলো কোন গাড়ির সামনে মার্সিডিজ কোনো গাড়ির সামনে বিএমডব্লিউ স্টিকার লাগিয়ে দেয়।
দুর্ঘটনা থেকে বেচে যাওয়া ব্রাম্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে আব্দুর রহমান বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বেঁচে যাই। ঘটনার কথা মনে হলে শরীর কেঁপে উঠে। মুহুর্তের মধ্যে ইউনিক গাড়িকে ধাক্কা দিলে এ ঘটনাস্থলে তরতাজা প্রাণগুলো ঝরে যায়।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মোস্তফা বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা থানা পুলিশ এবং ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস মিলে হতাহতদের উদ্ধার করি। নিহতদের লাশ শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি জব্দ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (তাজপুর) স্টেশনের স্টেশন অফিসার অপু মিয়া জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিজ লেনেই চলছিল। এ সময় ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে বিপরীত পাশে চলে আসে এবং ইউনিক পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনা ঘটে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D