কৈতক হাসপাতালের ভূমি রক্ষা ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬

কৈতক হাসপাতালের ভূমি রক্ষা ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালের সরকারি ভূমি রক্ষার দাবিতে এবং নিরীহ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত বুধবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালের সামনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ, রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষাঙ্গনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বিশিষ্ট মুরব্বি হাজী আব্দুস ছোবহানের সভাপতিত্বে এবং সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রহিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রাজ উদ্দিন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আলহাজ মুক্তার মিয়া তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কদর মিয়া, গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ শাহ শফিকুল আলম মতি, সমতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সাউথ ওয়েস্ট সালেহ আহমেদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. রুহুল আমিন তালুকদার, ট্রাস্টি সদস্য মো. কয়েছ মিয়া, বিশিষ্ট মুরব্বি আদরিছ আলী, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালিক, অ্যাডভোকেট মো. শাহাব উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মো. কবির উদ্দিন সাজু, সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন, লিলু মিয়া তালুকদার, শামসুল কবির মুহিত, মাস্টার দেওয়ান আবুল কালাম, ব্যবসায়ী আবুল হোসেন, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শামীম আলম, বিএনপি নেতা আলী হোসেন মানিক, এস এম মাহমুদ, শাহজাহান হোসেন, আইয়ুব আলী, হাজী এখলাছ মিয়া, ঈমান আলী ও শিহাব উদ্দিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভূমিখেকো চক্রের সদস্য হিসেবে অভিযুক্ত লন্ডনপ্রবাসী কবির আহমদ ও নজির আলী দীর্ঘদিন ধরে কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালের সরকারি ভূমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে প্রতিহিংসাবশত সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রহিম, মো. রাজ উদ্দিন, আব্দুল গফুরসহ চারজনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

বক্তারা অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহার, গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ এবং হাসপাতালের সরকারি ভূমি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যথায় বৃহত্তর এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সমাবেশ শেষে বক্তারা কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালের সরকারি ভূমি দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। তারা বলেন, জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠিত এ হাসপাতালের ভূমি রক্ষায় এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট