আসন্ন জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের দাবিতে মিছিল-সমাবেশ

প্রকাশিত: ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২৬

আসন্ন জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের দাবিতে মিছিল-সমাবেশ

‎সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, সিলেট নগরের উদ্যোগে ১০ জুন বিকাল ৪টায় শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবিতে মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

‎সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর শাখার সভাপতি সুমিত কান্তি পিনাক এর সভাপতিত্বে এবং নগরের সহ-সভাপতি দোয়েল রায়ের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলা সাংগঠনিক কমিটির সমন্বয়ক কমরেড সঞ্জয় কান্ত দাস, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগরের সাধারণ সম্পাদক বুশরা সোহেল, সিলেট নগরের সদস্য সজীব আহমেদ ও এমসি কলেজের সংগঠক আমেনা বেগম।

‎এসময় বক্তাগন বলেন, সেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনেই হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।‌ আর সেই রাষ্ট্র বিনির্মাণের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো‌ সার্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা। কিন্তু আমরা দেখছি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পরিচালিত শিক্ষা খাতে অবহেলার ফলে এবং প্রতিবছর বাজেটের ঘাটতির ফলে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা একটি ভঙ্গুর অবস্থায় পর্যবসিত হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি ঘটছে অপরদিকে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে দিন দিন শিক্ষার বাণিজ্যিকরণ বেড়েই চলেছে।

‎ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থাগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী, একটি দেশের মোট জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা প্রয়োজন।

‎বক্তাগণ আরো বলেন, বাংলাদেশে গত এক দশকে শিক্ষা বাজেট জিডিপির ২ শতাংশের ঘর অতিক্রম করতে পারেনি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের মাত্র ১১.৮৮% এবং জিডিপির মাত্র ১.৬৯%। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের মাত্র ১২.১০ % এবং জিডিপির মাত্র ১.৫৩ %। যা শুধু বিশ্বে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায়ও অত্যন্ত কম। মুক্তিযু্দ্ধ পরবর্তী সব সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিকীকরণ ও সংকোচনের পথে ঠেলে দিয়েছে। মেগা প্রকল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং লুটপাট হলেও শিক্ষা খাতকে ধারাবাহিকভাবে অবহেলা করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, গরিব ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ক্রমেই দুরূহ হয়ে উঠেছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার প্রতিটি স্তরে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে।

‎বক্তাগণ আরো বলেন, সিলেটে শিক্ষার সংকট অনেক। সিলেট সিটির প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এছাড়াও সিলেটের ২২ টি চা বাগানের একটিতেও কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সবচেয়ে বড় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও এটি নানা সংকটে জর্জরিত। নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক লাইব্রেরি, গবেষণাগার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত আবাসন, পরিবহন, নিরাপদ পরিবেশ ও পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা নেই। আমরা মনে করি, শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ কোনো দয়া বা অনুদান নয়; এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। বর্তমান সরকার অভ্যুত্থান পরবর্তী একটি বিশেষ রাজনৈতিক বাস্তবতায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনে সরকার প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখবেন–এটি ছাত্র সমাজ প্রত্যাশা করে। এছাড়া শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। ছাত্রসমাজের চাওয়া, অতীতের গণবিরোধী ধারার পুনরাবৃত্তি না করে শিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নিবেন।

‎নগরীর চৌহাট্টা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ শেষে চৌহাট্টা পয়েন্ট হয়ে চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার রোডে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

‎এসময় বক্তাগন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আগামী দিনের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মনুষ্যত্ব রক্ষায় এবং শিক্ষার বাণিজ্যকরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট