সিলেটে লাখের নিচে এসএসসি পরীক্ষার্থী, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন

প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

সিলেটে লাখের নিচে এসএসসি পরীক্ষার্থী, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবার বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বোর্ডের চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে এবার মোট পরীক্ষার্থী দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৪২১ জনে, যা ২০১৭ সালের পর প্রথমবার ৯০ হাজারের নিচে নেমে এসেছে এবং দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৮৯ হাজার ৪২১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৫৩০ জন এবং ছাত্রী ৫৩ হাজার ৮৯১ জন। অর্থাৎ এবারও ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মানবিক বিভাগে সর্বাধিক ৫৮ হাজার ৩২ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। এরপর বিজ্ঞান বিভাগে ২৫ হাজার ১৫৮ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬ হাজার ২৩১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এই তিন বিভাগ মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৪২১ জনে।

জেলা ভিত্তিতে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ৩৩১ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া মৌলভীবাজারে ১৯ হাজার ৯১৩ জন, সুনামগঞ্জে ১৮ হাজার ৩৮৩ জন এবং হবিগঞ্জে ১৫ হাজার ৭৯৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। চার জেলার ৯৭৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২২৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে।

গত এক দশকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২১ হাজার ১১১ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে ২০২৬ সালে তা ৮৯ হাজারে নেমে এসেছে। ২০২৫ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৭২ জন, ২০২৪ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৫৮০ জন এবং ২০২৩ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৩৪৯ জন। অর্থাৎ মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৩১ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী কমে গেছে।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসন প্রবণতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী হয়ে পড়ার কারণে বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে।

এ বছর মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়ে ২০ মে পর্যন্ত চলবে লিখিত পরীক্ষা, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। ব্যবহারিক পরীক্ষা ৭ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে।

এদিকে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াছমীন জানান, ২২৫টি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ পাঠানো হয়েছে। নকল প্রতিরোধে ১০টি বিশেষ ভিজিল্যান্স টিমসহ মোট ৪৪টি টিম কাজ করবে। তিনি আরও জানান, কেন্দ্র সচিব ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বোর্ডের কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে বলেও জানান তিনি।

তবে প্রস্তুতির মধ্যেই নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে সিলেট বিভাগের ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দিনে ও রাতে মিলিয়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ সংকটে অনেক শিক্ষার্থী ঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারছে না বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

সব মিলিয়ে একদিকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় ঐতিহাসিক পতন, অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের চাপ, দুই দিক থেকেই এবারের এসএসসি পরীক্ষা সিলেট অঞ্চলে বিশেষভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট