অধ্যাপক ডাঃ শাকিল আহমদের চোখে অনুজ মুক্তাদির

প্রকাশিত: ১০:১১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

অধ্যাপক ডাঃ শাকিল আহমদের চোখে অনুজ মুক্তাদির

অধ্যাপক ডাঃ শাকিল আহমদ


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারম্যান  তারেক রহমানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে উদ্দেশ্য করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন অধ্যাপক ডাঃ শাকিল আহমদ। শুক্রবার  (৬ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এর নিজের একাউন্ট থেকে ডাঃ শাকিল তার এই স্ট্যাটাস পোষ্ট করেন। নিচে তার ফেসবুক একাউন্টে লেখা স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল।

সিলেট এয়ারপোর্টের আগমনী হলে ছবিটা তুলেছিলাম মাস চারেক আগে। মুক্তাদিরের চোখে অনুচ্চারিত প্রশ্ন-বিস্ময় ছিল- “সাকিল ভাই আমার সাথে কেন ছবি তুলছেন!” উত্তরটা দেবার জন্য আজকের লেখা। “তোমার হাতের চটের ব্যাগটার জন্য ছবি তুলেছি।” ১.৬ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানী করা বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল এন্ড লিলেন এক্সপোটার্স এসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতির হাতে থাকবে Bennet Winch, Aspinal of London, Filson কিংবা Mulberry-র মসৃণ চামড়ার ব্যাগ! তার বদলে পাটের একটা শপিং ব্যাগ, এতটা ভাবিনি। আমার কাছে ভিন্ন এক হিসেবে মানুষ প্রতিভাত হল। সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবির সাথে একটা সাধারণ চপ্পল পড়া খোন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আমার সিলেট ক্যাডেট কলেজের অনুজ। আমি প্রথম আর সে সপ্তম ব্যাচ। কলেজে ইংরেজি বিতর্ক বক্তৃতায় অংশ নিত, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ছিল পদচারণা। একবার কলেজ থেকে খাদিমনগর চা-বাগানে একটা ভ্রমণে গিয়েছিল ওদের ব্যাচের সবাই। বাগানের স্বত্বাধিকারী তাঁর বাবা প্রাক্তন সংসদ সদস্য খোন্দকার আব্দুল মালিক সাহেবের বন্ধু। বললেন- “তোমার বাবাকে খবর দেই। দেখা হয়ে যাবে।“ ক্যাডেট কলেজে পড়ুয়াদের জন্য এতো বিরাট একটা সুযোগ। কিশোর মুক্তাদিরের উত্তর ছিল- “উনি Parent’s Day-তে আসবেন। এখানে কেন”? ক্যাডেট কলেজে মাসে একদিন বাবা-মায়ের সাক্ষাতের দিন হচ্ছে Parent’s Day। সেই বয়সেই তাঁর চিন্তার স্পষ্টতা এবং নিয়মানুবর্তিতা আমাকে অবাক করেছে। আমি হলে ঠিকই বলতাম- আব্বাকে খবর দেন চাচা।
তারপর সময়ের পরিক্রমায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স আর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করে এখন অনেকগুলো রপ্তানীমূখী ও দেশীয় প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগতা-মালিক। যুক্ত হয় রাজনীতিতে, প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে কাজ করে। কিন্তু শৈশবের বন্ধুদের হ্রদয়ে রেখেছে। প্রয়াত বন্ধু ইকবালের মায়ের পাশে দাঁড়াতে সিলেটের প্রত্যন্ত এক চা-বাগানে একাই চলে যায়।
২০১৮ সালে নির্বাচনে ডঃ আবদুল মোমেনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে মুক্তাদিরের প্রাপ্ত ভোট দেখে তৎকালীন সিলেটের এক আওয়ামী লীগ নেতার বিস্ময়- “দেখছনিবা উতুগুনি পুয়ায় কিতা করি লাইল! সেন্টার না আগলাইলে তো হে উল্টাই দিলনে সবতা!!”
আমরা প্রায়ই বলি দেশের রাজনীতি কলুষিত। শিক্ষিত-সজ্জন আর পরিশীলিত মানুষ এজন্যই রাজনীতিতে আসেন না। এখানেই মুক্তাদির অনন্য। সে রাজনীতিতে এসেছে। ঘাত প্রতিঘাত সামলেছে। কিন্তু তাঁর শৈশব-কৈশোরের শিক্ষা আর মূল্যবোধকে সাথে নিয়ে চলেছে আড়ম্বরহীন জীবনাচরণের ভেতর দিয়ে।
এবারে আমার এই ছোট ভাই সিলেট-১ নির্বাচনী আসন থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী। আমরা যারা সজ্জন মানুষের রাজনীতির কথা বলি, তাঁদের কাছে আমার এই অনুজের পাশে দাঁড়াবার আহবান। আমি নিশ্চিত মুক্তাদিরকে দেয়া প্রতিটা ভোট সে মানুষের জন্য ব্যয় করবে। যেমনটা তাঁর ছোটবেলার প্রয়াত বন্ধু ইকবালের মা’কে খুঁজে নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিল।
শুভ কামনা আরও বৃহত্তর দায়িত্বে আসীন হবার জন্য। সে যোগ্যতা তোমার আছে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট