সিলেটে চুনাপাথর সংকট, উত্তোলন প্রকল্পে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৫:২৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২৬

সিলেটে চুনাপাথর সংকট, উত্তোলন প্রকল্পে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ

সিলেটে চুনাপাথর সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ছাতক সিমেন্ট কোম্পানীর। বিঘ্ন ঘটছে বিভিন্ন শিল্প কারখানায়। অথচ চুনাপাথরের খনি থাকার পরও উত্তোলনের যুযোগ দিচ্ছে না সরকার। পর্যটনের দোহাই দিয়ে স্থানীয় প্রশাসন করছে অসহযোগিতা। তারা মানছেন না উচ্চ আদালতের নির্দেশনা।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জালালাবাদ লাইম ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড ট্রেডিং এসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনা অংশিদার আফছার উদ্দিন।

তিনি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকায় অবস্থিত তাদের কোম্পানীর জায়গা থেকে চুনাপাথর উত্তোলনে সহযোগিতা করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, খনি চালু হলে একদিকে যেমন চুনাপাথরের সংকট কাটবে অপর দিকে লোকের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আফছার উদ্দিন জানান, ১৯৭২ সালে গোয়াইনঘাটের চৈলাখাল মৌজার ৩য় খন্ডের জাফলং এলাকায় অবস্থিত ৬ একর ৭৫ শতক জায়গা খনিজ উত্তোলনে সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেয় জালালাবাদ লাইম ম্যানুফ্যাকচার্স। পরবর্তীতে আরও ৭৮ একর ২৭ শতক জায়গা ইজারা দেওয়ার পর প্রকল্প থেকে চুনাপাথরও উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসন বাধা হয়ে দাড়ায়। এতে প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায। ২০০৭ সালে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করলে এতে চুনাপাথর উত্তোলনে কোনো বাধা না দিতে নির্দেশনা দেন আদালত। সর্বশেষ খনিজ ব্যুরো ইজারা বাতিল করে। ইজারা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করলে ২০২০ সালে ইজারা বাতিলের চিটি অবৈধ বলে আদেশ এবং ভোগদখল বজায় রাখতে স্থিতাবস্থার আদেশ দেওয়া হয়।

আফছার উদ্দিন জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে আদালতের সকল কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও কোনো সহযোগিতা করা হচ্ছে না। বরং তারা নানাভাবে কখনো অভিযানের নামে জরিমানা ও হয়রানী করেন। এখনও প্রশাসনে আওয়ামী লীগের দোসররা রয়েছেন। ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ইউএনও ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও খনিজ উত্তোলনে যন্ত্রপাতি নষ্ট করেন। তিনি দাবি করেন তাদের কোম্পানীর জায়গায় পর্যটনের নামে ব্যবসা করা হচ্ছে। অথচ তাদেরকে সেখানে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। প্রশাসন তাদের জায়গা থেকে টাকা আদায় করছে। বর্তমান সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধেও তিনি অসহযোগিতার অভিযোগ করেন।

আফছার জানান, সিলেটে চুনাপাথর সংকট রয়েছে। সিমেন্ট কোম্পানীগুলো ভারত থেকে আমদানি করছে। ব্যবসায়ীরাও করছেন। এতে ডলার সংকট দেখা দিচ্ছে। শিল্প কারখানার কাচামাল হিসেবে এসব চুনাপাথরের মজুদ থাকার পরও উত্তোলন করা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে বিভিন্ন মহল এসব করতে দেয়নি। খনিজ সম্পদকে তারা তাদের মত করে ব্যবহার করেছে। বেশ কিছুদিন ধরে চুনাপাথর ভারত থেকে আমদানি করতে পারছেনা প্রাচীন প্রতিষ্ঠান ছাতক সিমেন্ট কোম্পানী। তারা এক সময় সুনামগঞ্জের টেকেরঘাট থেকে চুনাপাথর আমদানি করত। পরে সেখানে মজুদ না থাকায় ভারত থেকে রুজ্জুপথে আমদানি শুরু করে। কিন্তু ভারত অংশে রুজ্জুপথ বন্ধ থাকায় আমদানি বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশের বৃহৎ কারখানা ছাতক সিমেন্ট কোম্পানী চুনাপাথরের কারণে সিমেন্ট উৎপাদন করতে পারছে না।

জালালাবাদ লাইম কর্তৃপক্ষ অন্তরবর্তী সরকারের প্রধান ড. মোহাম্মদ ইউনুসের কাছে জাফলং এলাকার চুনাপাথর খনি চালু করতে ও মালিকানা জায়গায় যাতে কেউ হস্তক্ষেপ না করতে পারে সেজন্য হস্তেক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন, মাহিন মোসলেহ, শহীদুল্লাহ কায়সার. ফয়সল আহমদ ও সাহিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।