১১ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:১৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০২৬
আপন ভাইয়ের মামলা দখলবাজী আর হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রোকসানা বেগম। যেকোনো সময় তার ভাই স্বামী ও সন্তানদের জানমালের চরম ক্ষতি করতে পারেন বলে হুমকির প্রেক্ষিতে আতঙ্কে আছেন তারা। হুমকি দাতা তার আপন ভাই আমির আহমদ মানিক।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্টিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের উপরহাজরাই গ্রামের মৃত আলকাছ আলীর মেয়ে ও নগরীর ৫নং ওয়ার্ডের রায়হোসেন কলবাখানি এলাকার ৬৭/২নং বাসার আলা উদ্দিনের স্ত্রী রোকসানা বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তারা তিন বোন ও দুই ভাই ছিলেন। এরমধ্যে ১ ভাই ও দুই বোন মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে তার একমাত্র ভাই ও তিনি নিজে জীবিত। এ অবস্থায় তার ভাই আমির আহমদ মানিক যুক্তরাজ্য ও সিলেটে যাতায়াতের মধ্যে থাকলেও তিনি নিজের বাবা-মা বা বোনদের কোনো দায়িত্বই পালন করেননি কখনো। অথচ তিনি পৈতৃক সম্পত্তি একাই ভোগ করছেন। কয়েক বছর আগে তাদের না বলে আদালতে নিয়ে বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে সেটাকে হেবা সম্পাদন বলে চালিয়ে পিতার সব সম্পদ থেকে তাকে বঞ্চিত করে রেখেছেন। এমনকি, তার নানার কোনো বৈধ উত্তরসুরী না থাকায় মানিক তার সম্পত্তিও দখল করে ভোগ করছেন। তিনি ২০১৬ সালে যুগ্ম জজ দ্বিতীয় আদালতে একটি স্বত্ত¡ বাটোয়ারা মামলা (নং ১৪৫/২০১৬) দায়ের করেছেন। মামলাটি এখনো বিচারাধীন।
পৈতৃক সম্পত্তি দখলের জন্য তিনি ২০১৩ ও ২০১৪ সালে মিথ্যা অভিযোগে চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ৯/১০টি মামলা দায়ের করেছেন। এই সবগুলো মামলাই আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে এবং তিনি ও তার স্বামী সন্তানরা খালাস পেয়েছেন। এরপর থেকেই তিনি প্রায়ই তাদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা জানান, ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর কোতোয়ালী থানায় মানিক নিজে বাদী হয়ে মিথ্যা সাজানো আরেকটি অভিযোগ দাখিল করেন। এতে তিনি অভিযুক্ত করেছেন রোকসানার স্বামী আলা উদ্দিন ও আম্বরখানা সেন্ট্রাল প্লাজা মার্কেটের লিজা এন্টারপ্রাইজ দোকানটি বর্তমান স্বত্ত¡াধিকারী আব্দুল হাফিজ সোহেলকে। এই দোকানটির মূল মালিক ছিলেন সোহেলের চাচা আনিছ মিয়া এবং ১৯৯৪ সালে আনিছের কাছ থেকেই সেটি বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন আলা উদ্দিন। তিনি নিয়মিত বন্দোবস্ত সংক্রান্ত যাবতীয় লেনদেন আইন অনুযায়ী সম্পাদন করছেন। এমনকি লেনদেনের রশিদও তার কাছে সংরক্ষিত। মানিকের মামলায় আলা উদ্দিন ও সোহেল কিছুদিন জেলও খেটেছেন। তবে জেল থেকে বেরিয়ে সোহেল এখন মানিকের সঙ্গে আঁতাত করে আলা উদ্দিনকে দোকান থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এর আগে দোকানটি মালিকানা দাবি করে বন্দোবস্তের জাল কাগজপত্র তৈরি করে মার্কেট কমিটির কাছে গিয়েছিলেন মানিক। কিন্তু তার কাগজপত্রে বৈধতা প্রমাণ করতে না পারায় মার্কেট কমিটি আলা উদ্দিনের পক্ষেই রায় দেন। তবে কয়েকদিন আগে মানিক আবারও মার্কেট কমিটিকে জানিয়েছেন, দোকানটির মালিকানা তার এবং অবিলম্বে যদি আলা উদ্দিন দোকানটি না ছাড়েন তাহলে তাদের জানমালের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
রোকসানা জানান, তিনি ও তার স্বামী-সন্তানরা আইনী পথে বিষয়টি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। তবে যদি এরমধ্যে তার স্বামী-সন্তান বা লিজা এন্টারপ্রাইজের কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে তার জন্য দায়ী থাকবেন, তার আপন ভাই মানিক ও আব্দুল হাফিজ সোহেল।
তিনি তার স্বামী ও সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নিজের দোকান লিজা এন্টারপ্রাইজ সুরক্ষার জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম. পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম, কোতোয়ালী থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাঈনুল জাকির ও আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ সচেতন সিলেটবাসীর সহযোগীতা চেয়েছেন।
এ ব্যাপারে আমির হোসেন মানিক ও আব্দুল হাফিজ সোহেলের বক্তব্য জানতে সোহেলের নম্বরে কল দিলেও সেটি ব্যস্ত পাওয়া যায়।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D