১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:০১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২৫
এক দশকের বেশি ধরে বন্ধ সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ক্যান্টিন। কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত একমাত্র ক্যান্টিনটি বন্ধ থাকায় বেশ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে থাকা ভ্রাম্যমাণ ঝালমুড়ি ও ফুসকা কিংবা রাস্তার পাশের অস্বাস্থ্যকর খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয় তাদের। এতে পেটের অসুখসহ নানা সমস্যায় ভোগতে হয় শিক্ষার্থীদের। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন অনেকে।
কলেজ প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১৪ সাল পর্যন্ত কলেজে ক্যান্টিনটি চালু ছিল। কিন্তু ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন) নেতারা বাকী খেয়ে বিল পরিশোধ না করায় ব্যবসা গুটিয়ে নেন ক্যান্টিনের ইজারাদার। এরপর আরও প্রায় ৪ বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল ক্যান্টিনটি। ২০১৭ সালে ক্যান্টিনের পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙে সেই স্থানে ১০ তলা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এরপর থেকে ক্যান্টিনের কোনো চিহ্নই নেই এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজে ক্যান্টিন না থাকায় ঝালমুড়ি, ফুচকা কিংবা বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবারই তাদের ভরসা। এসব খাবার অনেক ক্ষেত্রে ধুলোবালুর সংস্পর্শে থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হয় তাদের। আবার অনেক সময় খাবারের জন্য ক্যাম্পাসের বাহিরে যেতে হয় বলে পাঠদানেও ব্যাঘাত ঘটে।
সরেজমিন দেখা যায়, কলেজের মূল ফটক, শহীদ মিনার এলাকা ও পুকুরপাড়ে ভ্রাম্যমাণ দোকানে অসাস্থ্যকর পরিবেশে ফুসকা, ঝালমুড়ি, বেলপুরি, আচার ইত্যাদি খাবার বিক্রি করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের তেমন কোনো নজরদারি নেই।
অন্যদিকে ক্যাম্পাসে ক্যান্টিন না থাকায় রাস্তা পার হয়ে টিলাগড় বা এর আশেপাশে এলাকার দোকানগুলোতে খাবার খেতে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। এতে রাস্তা পারাপারেও অনেক ঝুঁকি থাকে।
এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই কলেজে ক্যান্টিন চালু করার দাবি জানিয়েছে আসছেন শিক্ষার্থীরা। মানসম্মত ক্যান্টিন চালুসহ একাধিক দাবিতে কলেজ প্রশাসনের নিকট স্বারকলিপিও দিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। কিন্তু কলেজ প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান তানিম বলেন, ‘এমসি কলেজে হাজারো শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। শুনেছি, আগে কলেজে ক্যান্টিন চালু ছিল, কিন্তু এখন নেই। ফলে ক্লাসের ফাঁকে ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তার অস্বাস্থ্যকর ঝালমুড়ি-ফুচকা খেয়ে প্রায়ই পেটের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই অবিলম্বে একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত ক্যান্টিন স্থাপন করার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। এটি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য রক্ষা করবে এবং শিক্ষা পরিবেশকে আরও উন্নত করবে।’
দর্শন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমন মালাকার শাওন জানান, কলেজে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য কোনো ক্যান্টিন নেই। ফলে প্রতিদিন ক্যাম্পাসে ঝালমুড়ি, ফুচকার মতো অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হয়, যা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি বলেন, ‘ক্যান্টিন থাকলে হয়তো কিছুটা হলেও ঘরোয়া পরিবেশে খাদ্য খাওয়া যেত। এতে কিছুটা হলেও স্বাস্থ্যকর খাবারের চাহিদা মিটতো। কিন্তু ক্যান্টিন না থাকায় তাও আর হয়ে উঠছে না।’
‘অনেক সময় বাইরে গিয়ে খাবার খেতে হলে নানা সমস্যা তৈরি হয়। বাইরে খাদ্যের পরিবেশ ও মান অনেক ক্ষেত্রেই ভালো নয়। এছাড়া বাইরে ধূমপানের মতো অস্বাস্থ্যকর ও বিরক্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এতে আমাদের শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নষ্ট হয়’ -যোগ করেন সুমন।
এমসি কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. মুছলেহ উদ্দিন মোনাইম বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে ক্যাম্পাসের ক্যান্টিন বন্ধ। আবার অনেকে জানেই না একসময় কলেজে ক্যান্টিন ছিল।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষুধা লাগলে উপায় না পেয়ে শিক্ষার্থীরা ভ্রাম্যমাণ অস্বাস্থ্যকর ঝালমুড়ি, ভেলপুরি, ফুচকা খেতে হয়। টুকটাক কিছুর জন্য টিলাগড় পয়েন্টে যেতে হয়, রাস্তা পার হয়ে সেদিকে যাতায়াত করাটাও ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ক্যান্টিন চালু হোক।’
এমসি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কলেজে ক্যান্টিন নেই। কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যান্টিনসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্তৃপক্ষ বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেছি। আশা করি কর্তৃপক্ষ দ্রুত এর সমাধান করবেন।’
এমসি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইসমাইল খান সৌরভ বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজে পুনরায় ক্যান্টিন চালু করা শিক্ষার্থীদের একটি দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ২৯ দফা দাবি জানিয়ে অধ্যক্ষের নিকট স্বারকলিপি জমা দিয়েছি। ক্যান্টিন না থাকায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বাহিরে গিয়ে খাবার খেতে হয়। যা শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক কষ্টের। তাই দ্রুততম সময়ে ক্যম্পাসে পুনরায় ক্যান্টিন চালুর দাবি জানাচ্ছি।’
মুরারিচাঁদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর গোলাম আহমদ খান বলেন, ‘ক্যম্পাসে ক্যান্টিন না থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা টিলাগড় বা আশেপাশের দোকানের তৈলাক্ত খাবার গ্রহণ করে যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কলেজে ক্যান্টিন স্থাপনের জন্য নতুন ভবনের একটি স্থান ধার্য করে রাখা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ক্যান্টিন স্থাপনের বিষয়ে ৩-৪ জনের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সম্ভবত একটি বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে। ক্যান্টিন স্থাপনের জন্য কেউ আগ্রহী থাকলে কমিটির সঙ্গে কথা বলে এই বিষয় সম্পর্কে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D