সিলেটে সীমান্তে বিএসএফের অনুপ্রবেশে, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ’র দুঃখ প্রকাশ

প্রকাশিত: ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২৫

সিলেটে সীমান্তে বিএসএফের অনুপ্রবেশে, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ’র দুঃখ প্রকাশ

সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সদস্যদের অনুপ্রবেশ ও স্থানীয় কৃষকদের ফসল নষ্টের ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিএসএফ পক্ষ তাদের সদস্যদের বেআইনি প্রবেশ ও ফসল নষ্টের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে।

জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার জানান, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কর্মকর্তাদের কাছে সীমান্তের মানচিত্রসহ বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এতে বিএসএফ সদস্যদের বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বৈঠকে বিএসএফ প্রতিনিধিদল তাদের টহল দলের অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে পরে জানানো হবে।

এর আগে রবিবার (২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের চরবাগান সীমান্ত চৌকি থেকে বিএসএফের চার সদস্য স্পিডবোটে করে সুরমা নদী পার হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। তারা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশে কৃষকদের ফসল রক্ষার জন্য স্থাপন করা বাঁশের খুঁটি উপড়ে ফেলেন।

স্থানীয়রা জানান, বিএসএফ সদস্যদের এমন কর্মকাণ্ড দেখে কয়েকজন যুবক প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করেন এবং পুরো ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, বিএসএফ সদস্যরা বাঁশের খুঁটি উপড়ে ফেলছেন, আর স্থানীয়রা জিজ্ঞেস করছেন— “এটি বাংলাদেশের মাটি, আপনারা কেন সীমান্ত অতিক্রম করেছেন?” কিছুক্ষণ পর স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও ভিডিও ধারণের মুখে বিএসএফ সদস্যরা স্পিডবোটে করে ভারতের দিকে ফিরে যান।

ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুশ শহীদ বলেন, “ভিডিওটি আমি নিজেও দেখেছি। ঘটনাস্থল সুরমা নদীর তীরের এপারেই বাংলাদেশের এলাকা। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ সদস্যদের ফিরে যেতে দেখা গেছে।”

বিজিবির পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফকে অবহিত করা হয়। পতাকা বৈঠকে সীমান্ত মানচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রমাণ করা হয় যে ঘটনাস্থল বাংলাদেশের ভেতরে। বিজিবি পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এমন অনুপ্রবেশ যেন আর না ঘটে সে বিষয়ে কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়।

বৈঠকে বিএসএফ প্রতিনিধি দল নিজেদের ভুল স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা এড়াতে টহল কার্যক্রমে সতর্কতা অবলম্বনের আশ্বাস দেয়।

সীমান্তে এ ধরনের অনুপ্রবেশে স্থানীয় কৃষকেরা আতঙ্কে রয়েছেন। তাদের দাবি, অনুপ্রবেশের ফলে ফসল ও বাঁধের ক্ষতি হয়েছে—এর যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বিএসএফ সদস্যরা টহলের অজুহাতে সীমান্ত অতিক্রম করে আসেন, যা তাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট