বাংলাদেশিদের ভিসা দিচ্ছে না যেসব দেশ

প্রকাশিত: ২:৩৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০২৫

বাংলাদেশিদের ভিসা দিচ্ছে না যেসব দেশ

বিশ্ব পর্যটন দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘টেকসই উন্নয়নে পর্যটন’। কিন্তু বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য বিদেশ ভ্রমণ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ভিসার জটিলতা, ইমিগ্রেশনে সন্দেহজনক আচরণ, হোটেল ভাড়া ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি—সব মিলিয়ে বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন এখন অনেকেই ভেঙে পড়ছেন।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পাওয়াটা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। দুবাই, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান ও কাতারে ভিসা বন্ধ। ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসাও আগস্ট ২০২৪ থেকে স্থগিত রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া কঠোর শর্ত আরোপ করেছে।

চীনে ভিসা পাওয়া গেলেও বিমানবন্দরে যাচাই-বাছাইয়ে অনেককে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। থাইল্যান্ডে ভিসা পাওয়া গেলেও প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং সময় লাগছে। মালয়েশিয়াতেও ইমিগ্রেশনে সন্দেহজনক মনে হলে পর্যটককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ইউনাইটেড কনসালটেন্সি অ্যান্ড ট্যুরস-এর স্বত্বাধিকারী শেখ কামরুজ্জামান রনি জানান, “জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়া আরও কঠোর হয়েছে। কাগজপত্র, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্রকৃত পর্যটকরাও বিপাকে পড়ছেন।”

দেশের পর্যটন খাতও উন্নত না হওয়ায় অনেকেই বিদেশ ভ্রমণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতা, ব্যয়বৃদ্ধি এবং মানসম্পন্ন বিনোদনের অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশি পর্যটকরা বিদেশ ভ্রমণের আগে অবশ্যই ভিসা নীতি যাচাই করবেন, নির্ভরযোগ্য ট্রাভেল কনসালটেন্সির সাহায্য নেবেন এবং আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, হোটেল বুকিং ও রিটার্ন টিকিট প্রস্তুত রাখবেন। দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকেও কাজে লাগানো জরুরি।

টেকসই পর্যটনের কথা বলা হলেও বাংলাদেশিরা এখন ভিসা বাধা, ইমিগ্রেশন সংকট ও আন্তর্জাতিক অনাস্থার মুখে দাঁড়িয়ে। সরকার ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ না করলে বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন আরও ফিকে হয়ে যাবে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট