ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত সিলেটবাসী : আরিফুল হক চৌধুরী

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২৫

ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত সিলেটবাসী : আরিফুল হক চৌধুরী

সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সংস্কারে ধীরগতি, যাতায়াত ভোগান্তি, রেল ও বিমান চলাচলের সংকটময় অবস্থার প্রতিবাদে সিলেট নগরজুড়ে এক ঘণ্টার প্রতীকী ‘শাটডাউন’ পালন করা হয়েছে।

রোববার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দোকানপাট, যানবাহন চলাচল ও স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা বন্ধ রেখে নগরবাসী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরীর আহ্বানে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল কেন্দ্র ছিল নগরের কোর্ট পয়েন্ট। সেখানে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিতে সকাল থেকেই সমবেত হতে শুরু করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

নগরের প্রধান সড়কগুলোতে ছিল নিরবতা; অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল, রাস্তাঘাটে যান চলাচলও ছিল প্রায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ। এই এক ঘণ্টার কর্মসূচি সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বঞ্চনা ও অবহেলার বিরুদ্ধে একটি সংগঠিত প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে।

সমাবেশে যোগ দিয়েছেন সিলেটের বিভিন্ন সামাজিক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হন আরিফুল হক চৌধুরী নিজেও।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নির্মাণ কাজ বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। এতে শুধু ভোগান্তি নয়, অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সিলেটবাসী।” রেলপথে বগি সংকট ও টিকিটের কালোবাজারি এবং বিমানের ভাড়া অতিরিক্ত হওয়ায় সব পথেই সিলেটবাসীর যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

শনিবার দিনভর এই কর্মসূচিকে ঘিরে নগরজুড়ে চলে মাইকিং, প্রচারপত্র বিতরণ ও মতবিনিময় সভা। আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন কর্মসূচি সফল করতে।

প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়:

“সড়কপথ, রেলপথ ও আকাশপথে সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম দুরবস্থা আজ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। সিলেটবাসী অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।”

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। তাই আজকের এক ঘণ্টার কর্মসূচি সিলেটবাসীর ঐক্য ও প্রতিবাদের প্রতীক। সরকার যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে হবে।”

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে তার বাসভবনে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বৈঠকে এই প্রতীকী শাটডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে আরও কয়েকটি দাবি জানানো হয়—

দ্রুত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা, সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে নতুন ট্রেন ও বগি সংযোজন, বিমান ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা।

উল্লেখ্য যে, আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৫০.৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প ৮ বছরেও শেষ হয়নি। ভারতীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের ধীরগতি ও অনিয়মের কারণে মহাসড়ক এখন দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে আজকের এক ঘণ্টার এই ‘শাটডাউন’ ছিল একটি সতর্ক বার্তা— উন্নয়ন চাই, তা যেন হয় স্বচ্ছ, টেকসই ও সময়োপযোগী।

এদিকে, একই দাবিতে জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, আগামীকাল সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় দক্ষিণ সুরমার হুমায়ূন রশীদ চত্বরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সূচনাস্থলের দুই পাশে ‘গণ-অবস্থান ও মানববন্ধন’ কর্মসূচি পালন করা হবে।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট