কিছু গোষ্ঠী পিআর পদ্ধতি দাবি করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছে : এম এ মালিক

প্রকাশিত: ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২৫

কিছু গোষ্ঠী পিআর পদ্ধতি দাবি করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছে : এম এ মালিক

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক অভিযোগ করেছেন, ‘কিছু গোষ্ঠী প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতির দাবি করে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি বলেন, এই দাবির আড়ালে নির্বাচন প্রক্রিয়া বিঘ্ন করার উদ্দেশ্য রয়েছে।


বুধবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নে এক দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা এবং তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
এসময় এম এ মালিক অভিযোগ করেন, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন বানচালের জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা নির্বাচন বিলম্বিত করার অপচেষ্টায় জনবৈচিত্র্যের বিতর্ককে ব্যবহার করছে। এতে দেশীয় গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ছে।’
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির পর নির্বাচন স্থগিত হলে, তা হবে গত বছরের আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ছাত্রদের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা।’
এম এ মালিক আরও জানান, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান শীঘ্রই দেশে ফিরে নির্বাচনী প্রচারে নেতৃত্ব দেবেন। দলের পক্ষ থেকে ড. মুহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে একটি নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার বা কেয়ারটেকার কাঠামোর প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।’
তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ১৯৭১-পরবর্তী সময়ের অরাজকতার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। আর বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।’
বর্তমান সরকারকে ‘দানবীয়’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই সময়জুড়ে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে।’
দক্ষিণ সুরমার স্থানীয় সমস্যার প্রসঙ্গে মালিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই রাস্তা মেরামতের কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের জন্য মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হওয়া জরুরি নয়, দরকার আন্তরিকতা ও সময় ব্যবস্থাপনা।’ এ লক্ষ্যে স্থানীয় জনগণের মধ্যে থেকে দুইজন প্রতিনিধিকে কাজের সমন্বয় করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ সুরমার একটি স্কুল ভবনের সংস্কারে দ্রুত তহবিলের ব্যবস্থা করা হবে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে সম্ভাব্য দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সেখানে আনা হবে।
শেষে, তিনি ভোটারদের ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে বহু বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের সুযোগ।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন-সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুর রহমান, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান ফয়েজ, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল লতিফ খান, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজ রহমান, সিলেট বিভাগীয় প্রবাসী সৌদী আরব কল্যাণ শাখার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, মোল্লারগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার হোসেন ইমরান, সিলেট জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মিনার হোসেন লিটন, যুবদল নেতা শিপলু আহমদসহ অনেকে।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট