আগস্টে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ৫০২, আহত ১২৩২

প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৫

আগস্টে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ৫০২, আহত ১২৩২

একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। আর এ কান্না যেন থামছেই না। সদ্য বিদায়ী আগস্ট মাসে সারাদেশে ৪৯৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০২ জন নিহত ও ১ হাজার ২৩২ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৬ জন নিহত হয়েছেন।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত দুর্ঘটনা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এতে বলা হয়, আগস্ট মাসে রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত, ২২ জন আহত ও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে সর্বমোট ৫৫২টি দুর্ঘটনায় ৫৬৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৬১ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ সময়ে ১৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৬ জন নিহত ও ১৪৪ জন আহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩ দশমিক ১৯ শতাংশ, নিহতের ৩৫ দশমিক ০৫ শতাংশ ও আহতের ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

এর মধ্যে আগস্টে সবচেয়ে বেশি ১৩২টি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এসব দুর্ঘটনায় ১২৮ জন নিহত ও ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন। আর সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে বরিশাল বিভাগে। ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ১২ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ১৬২ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ১৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯৭ জন শিক্ষার্থী, ১১ জন শিক্ষক, ৯৫ জন নারী, ৪২ জন শিশু, একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন আইনজীবী, তিনজন সাংবাদিক ও ২৬ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

এদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য, একজন সেনাবাহিনী সদস্য, একজন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন আইনজীবী, ১৪২ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৮২ জন পথচারী, ৭৩ জন নারী, ৩৮ জন শিশু, ৫১ জন শিক্ষার্থী, সাতজন পরিবহন শ্রমিক, সাতজন শিক্ষক ও ১১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য বলছে, বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশের সড়কের মাঝে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি, এসব গর্তের কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে; সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা, নসিমন-করিমন অবাধে চলাচল; জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়ক বাতি না থাকায় হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা; সড়কে মিডিয়ান বা রোড ডিভাইডার না থাকা, সড়কে গাছপালায় অন্ধ বাঁকের সৃষ্টি; মহাসড়কের নির্মাণ ক্রটি, যানবাহনের ক্রটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা; উল্টোপথে যানবাহন, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রীপরিবহন; অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন এবং বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণ।