ভবন নির্মাণের পাওনা টাকা চাওয়ায় হুমকি, নিরাপত্তাহীনতায় কন্ট্রাক্টর

প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২৫

ভবন নির্মাণের পাওনা টাকা চাওয়ায় হুমকি, নিরাপত্তাহীনতায় কন্ট্রাক্টর

সিলেট নগরীর শামীমাবাদে ভবন নির্মানের পাওনা ১৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা না দিয়ে উল্টো পাওনাদার কন্ট্রাক্টরকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৫ তলা ভবন নির্মানের পাওনা টাকা প্রদান না করেই ভবনটির নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে মালিকপক্ষ। অন্যদিকে পাওনা টাকা আর জীবনের নিরাপত্তার জন্য সালিশ, থানাপুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কন্ট্রাক্টর রাসেল আহমদ।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৬নং ওয়ার্ডের বালুচর নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা কন্ট্রাক্টর রাসেল আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের মৃত রমিজ উল্লাহ ও আসিফুল নেছা খাতুনের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবুল বাসার সিলেট মহানগরীর ১০নং ওয়ার্ডের শামীমাবাদের ৫নং গলির ২২২নং বাসার পাশের নির্মানাধিন ৫ তলা ভবনের মালিক। ওই ভবন নির্মাণের জন্য তার প্রতিনিধি ও শ্যালক সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলসের জগথপুর গ্রামের মো. মোজাম্মেল ওরফে তোতা মিয়ার ছেলে ইউরাজ মিয়ার সাথে ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর চুক্তি করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী কাজ ও লেনদেন চলছিল। তবে গত বছরের শেষের দিকে আবুল বাসার টাকাপয়সা দিচ্ছেন না জানিয়ে ইউরাজ নির্মান কাজ ধীরগতি করে দেন। এরমধ্যে আবুল বাসার দেশে ফিরে টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি নিরবে আবার লন্ডন ফিরে যান।

এরপর ফোনে কাজের বিস্তারিত জানতে চাইলে জানানো হয়, টাকা না দেওয়ায় কাজ মন্থর গতিতে চলছে।

তখন আবুল বাসার আরো জানান যে, ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা ইউরাজকে দেওয়া হয়েছে। সেসময় তিনি কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং রোজার পরে দেশে ফিরে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেন। কিন্তু তিনি আবারও দেশে ফিরে দেখা না করে টাকা না দিয়েই লন্ডন ফিরে যান।

এর পরে দৃশ্যপটে আবির্ভাব ঘটে আবুল বাসারের পুত্র নগরীর ধোপাদিঘীর পূর্বপারের আনন্দ টাওয়ারের আল-ইহসান ট্রাভেলসের কর্মকর্তা সোহেলের। তিনি নিজেকে ঐ ভবনের অন্যতম মালিক দাবি করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

রাসেল আহমদ জানান, এ সময় পাওনা বাবদ মোট ১৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সোহেল এতে কর্নপাত করেননি বরং ইউরাজ ও সোহেল দুজনে মিলে আমাকে বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেন। এরপর আমি শামীমাবাদ এলাকার নেতৃস্থানীয় মুরব্বিদের বিষয়টি অবগত ও সমাধানের চেষ্টা করি। কিন্তু সোহেল বা ইউরাজের অসহযোগিতায় তা আর সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী থানায় গত ৭ জুলাই একটি অভিযোগ দিলেও কাঙ্খিত কোনো ফলাফল পাইনি।

ভুক্তভোগি রাসেল জানান, ধার-কর্য করে এ ভবন নির্মানে বিনিয়োগ করে এখন তিনি নিঃস্ব, রিক্ত।

এ অবস্থায় তার জীবনের নিরাপত্তার জন্য সিলেটের পুলিশ প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

সেইসাথে ইউরাজ, সোহেল ও আবুল বাসারের প্রতি অবিলম্বে তার পাওনা পরিশোধ করার আহবান জানান। তা না হলে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।

এ ব্যাপারে আলাপকালে ইউরাজ ও সোহেল মিয়া তাদের বিরুদ্ধে তোলা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট