সিলেটে শিশু ইনায়াকে গলা কেটে হত্যার রহস্য উদঘাটন

প্রকাশিত: ১১:২২ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২৫

সিলেটে শিশু ইনায়াকে গলা কেটে হত্যার রহস্য উদঘাটন

সিলেটের দেড় বছরের শিশু ইনায়াকে খুন করেছেন বাবা নিজেই। বাথরুমে নিয়ে বটি দিয়ে গলা কেটে তাকে খুন করে নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

গত বুধবার (২৫ জুন) বিকেলে শাহপরান (রহঃ) থানাধীন ইসলামপুর এলাকার কোরেশী ভিলা ১৮/এ বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

৪৫ দিন বয়সী নিষ্পাপ শিশুটির নাম ইনায়া রহমান। এ নির্মম ঘটনা ঘটিয়েছে তার পিতা আতিকুর রহমান (৪০)। তিনি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টংঘর গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে। পেশায় তিনি সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ঘরে উপস্থিত ছিলেন ইনায়ার মা ঝুমা বেগম। তাঁর দেয়া তথ্য ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাওয়া অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া গেছে—ইনায়ার পিতা নিজ হাতে তাকে বাথরুমে নিয়ে যায় এবং ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আতিকুর রহমান দাবি করেছেন, তিনি কিছুক্ষণের জন্য নিজের মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, “মাথাব্যথার কারণে হঠাৎ মাথায় কী যেন হয়ে গিয়েছিল, বুঝতেই পারিনি।”

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বটি দা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয়রা জানান, পরিবার নিয়ে ইসলামপুর এলাকার আনসার মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন আতিকুর। প্রতিদিনের মতো বুধবার দুপুরে খাবার খাওয়ার পর স্ত্রীসহ আতিকুর রহমানের পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে হঠাৎ করে আসরের দিকে চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে দেখতে পান আতিকুর রহমানের পাশে তার দেড় বছরের মেয়ে ইনায়া রহমানের গলাকাটা এবং পাশেই অটোরিকশা চালক আতিকুর রহমানের গলা অর্ধেক কাটা রয়েছে।

নিহত শিশুর মা ঝুমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, দুপুরের খাওয়া শেষে ঘুম থেকে উঠতে দেখেন, তার স্বামী শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যার পর তার নিজের গলা কাটছে। তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষজন এসে হতাহতদের উদ্ধার করে।

নিহত শিশুর খালা নাজমা বেগম ও মামা টিপু মিয়া বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। যখন তাদের বোন ফোনে চিৎকার দিয়ে বলে, তার মেয়েকে জবাই করে স্বামীও নিজের গলা কাটতেছে। তিনি স্বামীকে থামিয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করেন।

বর্তমানে শিশুটির বাবা আতিকুর রহমান ওসমানী হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক কান গলা বিভাগের প্রধান ডা. নুরুল হুদা নাঈম বলেন, আতিকুর রহমানের গলার আঘাত বেশ বড়। তার শ্বাসনালি অনেকটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। অস্ত্রোপচার শেষে তিনি এখন পর্যবেক্ষণে আছেন।