পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তসহ ৭ দফা দাবি নিহত সেনা সদস্যদের পরিবারের

প্রকাশিত: ১১:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৪

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তসহ ৭ দফা দাবি নিহত সেনা সদস্যদের পরিবারের

রাজধানীর পিলখানায় ২০০৯ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) বিদ্রোহের সময় হত্যাকাণ্ডের মামলায় যেসব তদন্ত হয়েছে, সেসব তদন্তের প্রতিবেদন পাবলিক করা এবং ২৫ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ সেনা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার করার দাবি জানিয়েছেন নিহত সেনা সদস্যদের স্বজনরা।

শনিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এ সময় হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তসহ সাত দফা দাবি জানান তারা।

পরিবারগুলোর সাত দাবি
১. সত্য উদঘাটনের ক্ষেত্রে আগে যেসব তদন্ত হয়েছে, সেসব তদন্তের প্রতিবেদন পাবলিক করতে হবে।

২. হাইকোর্ট ডিভিশনের রায় মোতাবেক তিন বিচারক যে ইনকোয়ারি কমিশনের কথা বলেছেন অবিলম্বে সেই ইনকোয়ারি কমিশন গঠন করতে হবে। এতে পর্দার আড়ালে রয়ে যাওয়া ষড়যন্ত্রকারীদের নাম বেরিয়ে আসবে।

৩. অফিসিয়াল গ্যাজেট করে ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং গ্যাজেটে নিহতদের সবাইকে শহীদের মর্যাদা দিতে হবে।

৪. ২৫ ফেব্রুয়ারি শোক দিবসকে ঘিরে দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখতে হবে।
৫. পিলখানা ট্র্যাজেডিকে স্কুলের পাঠ্যবইয়ের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৬. এ ঘটনাকে ঘিরে যেসব সেনা কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন, তাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে অথবা যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৭. নির্দোষ কোনো বিডিআর জওয়ানকে যেন কোনোভাবেই সাজা না দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পিলখানায় নিহত সেনা অফিসার শফিকের ছেলে আইনজীবী সাকিবুর, বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন এবং নিহত বিডিআর কেন্দ্রীয় সুবেদারের ছেলে আব্দুল হান্নানসহ নিহত সেনা সদস্যদের ভাই, স্ত্রী, ও সন্তানরা বক্তব্য দেন। এছাড়াও বিডিআর বিদ্রোহ চলাকালে প্রত্যক্ষদর্শী লেফট্যানেন্ট কর্নেল (অব) সৈয়দ কামরুজ্জামান বক্তৃতা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিডিআরের সাবেক ডিজি জেনারেল শাকিলের ছেলে রাকিন বলেন,‘পৃথিবীর ইতিহাসে একজন দায়িত্বরত প্রধানমন্ত্রী একটি বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে ষড়যন্ত্র করে ৫৭ সেনা অফিসারদের হত্যা করেন। এ জন্যই আমরা শহীদ দিবস দাবি করছি। ১৫ বছরে যা তদন্ত হয়েছে, তা আমরা মানি না। কারণ, প্রধান হত্যাকারী যে নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি তখন ক্ষমতায় ছিলেন। পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ ফজলে নূর তাপস ও শেখ সেলিমসহ অনেকে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় যারা নির্দোষ, এখনো জেল খাটছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানাই।’
এ সময় নিহত সেনা কর্মকর্তা কর্নেল শফিকের ছেলে অ্যাডভোকেট সাকিব রহমান বলেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম বিডিআর হত্যাকাণ্ডে তদন্ত কমিটিতে ছিলেন। যে রিপোর্টটি প্রকাশ করেছেন, সেটিও সংশোধনের পর মিডিয়ায় দেয়া হয়েছিল। সেই রিপোর্টের অরিজিনাল কপি প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
নিহত পরিবারের সদস্যরা বলেন, হত্যকাণ্ডের ঘটনায় ডাল-ভাত নিয়ে দ্বন্দ্বের যে কথা প্রচার করা হয়, তা সত্য নয়। এ হত্যাকাণ্ডটিকে ভিন্নখাতে নিতেই এমন কথা প্রচার করা হয়েছিল।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার ৫০ দিনের মধ্যেই ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ হয়।
বিদ্রোহী বিডিআর সৈন্যরা পিলখানায় বিডিআর সদর দফতর দখল করে বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা ও ১৭ জন বেসামরিক লোককে হত্যা করে। তারা বেসামরিক লোকদের ওপর গুলি চালিয়েছিল, তারা অনেক অফিসার এবং তাদের পরিবারকে জিম্মি করেছিল, স্থাপনা ও সম্পদ ভাঙচুর করেছিল এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। সরকারের সাথে একাধিক আলাপ-আলোচনার পর বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণ করে এবং জিম্মিদের মুক্তি দেয়।


সূত্র : বাসস



 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট