সিলেটে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু

প্রকাশিত: ১০:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২৪

সিলেটে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু

সিলেট মহানগরীর ৩৪ নং ওয়ার্ডে শাহপরাণ থানাধীন বিআরটিসি এলাকার মীর মহল্লায় দুপক্ষের সংঘর্ষ এবং একটি বাসায় হামলা ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় অসুস্থ হয়ে পড়লে এক নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে খাদিমনগরে হিলভিউ টাওয়ারের সামনে সিলেট-তামাবিল সড়ক অবরোধ করা হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ঘটনার জেরে শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরেও এলাকায় দেখা দেয় উত্তেজনা। এসময়ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্থানীয় দুই কাউন্সিলর ও মুরুব্বিরা দুপক্ষকে শান্ত করে আইনি অথবা বিচার-সালিশে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেন।

নিহত ফাতেহা বেগম (৫০) খাদিমনগর বিআরটিসি এলাকার মীর মহল্লা গ্রামের নুরু মিয়ার বাসার বাসিন্দা আনছার আলীর স্ত্রী।

বিষয়টি নিয়ে মিলছে দুই রকম বক্তব্য। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে- দুই কিশোরের মারামারিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তবে ফাতেহা বেগম সংঘর্ষে মারা যাননি। অগ্নিসংযোগ দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৮টার দিকে মারা যান।

মাদকদ্রব্য বেচাকেনা করে একটি চক্র। শুক্রবার বিকালেও এমন ঘটতে থাকলে বহর কলোনির কয়েকজন যুবক প্রতিবাদ করেন। একে কেন্দ্র করেই মীর মহল্লার মাদক কারবারি গোষ্ঠী ও বহর কলোনির বাসিন্দাদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাত ৯টার দিকে সিলেট-তামবিল সড়ক অবরোধ করে একটি পক্ষ। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং অবরোধ তুলে দেয়। এ ঘটনার জেরে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্তও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে পুলিশ, আমি ও ৩৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় মুরুব্বিরা পরিস্থিতি শান্ত করি এবং দুপক্ষকে বিশৃঙ্খলা না করে আইনি অথবা বিচার-সালিশে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেই।

এক প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলর মো. জয়নাল আবেদীন বলেন- ফাতেহা বেগম নামের নারী অগ্নিসংযোগের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য্য রাজন বলেন- মাদক কেনাবেচা নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেনি, ঘটেছে দুই কিশোরের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে। আর ওই নারী সংঘর্ষে মারা যাননি, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। পরে হাসপাতালে মারা যান। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত বলা যাবে।

তিনি বলেন- লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে মামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

এদিকে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে এখনো বিআরটিসি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মীর মহল্লা ও বহর কলোনির বাসিন্দারা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট