বেইলি রোডে নিহত বেড়ে ৪৬, পরিচয় শনাক্ত ৩৮ জনের

প্রকাশিত: ১:১৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২৪

বেইলি রোডে নিহত বেড়ে ৪৬, পরিচয় শনাক্ত ৩৮ জনের

রাজধানীর বেইলি রোডের আগুনের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। আজ শুক্রবার (১ মার্চ) সকাল ৯টা পর্যন্ত স্বজনরা শনাক্ত করার পর মরদেহগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


ঢাকা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এডিসি মোস্তফা আব্দুল্লাহ আল নুর।

তিনি বলেন, স্বজনরা মরদেহের চেহারা ও জামাকাপড় দেখে শনাক্ত করেন। পরে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে মরদেহগুলো তাদের কাছে দেয়া হয়েছে।

বাকি মরদেহের বিষয়ে মোস্তফা আব্দুল্লাহ আল নুর বলেন, শনাক্ত না হওয়া ৬ জনের মধ্যে ৫ জনেরই চেহারা বোঝা যাচ্ছে। তবে একটি মরদেহ পুড়ে একেবারে অঙ্গার হয়ে গেছে। মরদেহটি ডিএনএ টেস্ট ছাড়া হস্তান্তর করা সম্ভব হবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ ইউনিটের চেষ্টায় দুই ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুড়ে গেছে বাণিজ্যিক ভবনটি। রাতেই ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ হস্তান্তরের জন্য নিহতদের স্বজনদের কাছে তথ্য চাওয়া হয়। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ।

এ ঘটনায় দগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট ও ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছেন ২২ জন। আহতদের বেশির ভাগেরই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।

বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে আগুন দেখা যায়। ৯টা ৫৬ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট কাজ শুরু করে। একে একে যোগ দেয় ১৩টি ইউনিট।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পান তারা। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। প্রথম দুই ঘণ্টা কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। রাত ১২টার পর থেকে আহত ব্যক্তিদের ভবন থেকে বের করে আনা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেছেন, পুরো ভবনে অসংখ্য গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ছিল। এমনকি সিঁড়িতেও মজুদ ছিল সিলিন্ডার। ফলে ভবনটিতে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তা দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ভবনটিতে কাচ্চি ভাই, পিৎজা ইন, স্ট্রিট ওভেন, খানাসসহ বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এছাড়া ইলিয়েন, ক্লোজেস্ট ক্লাউডসহ বেশকিছু পোশাকের দোকানও রয়েছে। ঘটনা তদন্তে এরই মধ্যে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে ফায়ার সার্ভিস।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট