সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

প্রকাশিত: ৫:৩৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২৩

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের কৃষি শিক্ষার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।

২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দিবস উদযাপন হয় বলে জানিয়েছে জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তর।

এ উপলক্ষ্যে বেলা ১২টায় প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রাটি সমগ্র ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বৈশাখী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডাঃ মোঃ জামাল উদ্দিন ভূঞা। পরবর্তীতে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ানো হয়। টিএসসির আঙ্গিনায় বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কেক কাটা ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডাঃ মোঃ জামাল উদ্দিন ভূঞা এসময় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. সাদ উদ্দিন মাহফুজের সঞ্চালনায় সেখানে আরো বক্তব্য রাখেন ডিন কাউন্সিলের আহবায়ক প্রফেসর ড. মোঃ ছিদ্দিকুল ইসলাম, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ শাহ আলমগীর, গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ শহীদুল ইসলাম, সাদা দলের সভাপতি প্রফেসর ড. আতাউর রহমান, কর্মচারী সমিতির সভাপতি শাহ আলম সুরুক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিকৃবি শাখার সভাপতি আশিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ এমাদুল হোসেন প্রমুখ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডাঃ মোঃ জামাল উদ্দিন ভূঞা বলেন, “প্রতি বছর কৃষি বিজ্ঞানী তৈরি করে সারা বাংলাদেশ ছড়িয়ে দিচ্ছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। বিসিএস পরীক্ষাসহ দেশে বিদেশে সিকৃবির গ্র্যাজুয়েটদের ছড়াছড়ি। এরা সবাই এখন স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করে আছে এবং বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপ‚র্ণ অবদান রাখছে আমাদেও ক্যাম্পাস। কৃষি বিষয় প্রতিষ্ঠানগুলোতো বটেই, ব্যাংক থেকে সচিবালয় সবখানেই এখন সিকৃবির গ্রাজুয়েটদের দেখা মিলে। একজন ভাইস চ্যান্সেলরের পাশাপাশি শিক্ষক হিসেবে বিষয়টি নিয়ে আমি বেশ গর্বিত। তাদের একাডেমিক জ্ঞানটুকু মাঠ পর্যায়ে সাধারণ জনগনের কাজে লাগছে।”

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেছেন পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান। এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে ভাইস চ্যান্সেলরের বাণী প্রচার করা হয়।

এদিকে, এমন অনাড়ম্বর আয়োজনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক অনেক শিক্ষার্থী।

সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো প্রোগ্রামই হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে প্রোগ্রাম নেই এটা কোনোভাবেই মানা যাচ্ছে না। এখানে কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার অভাব স্পষ্টতই প্রতীয়মান হচ্ছে। ”

তারা আরো জানান, “শুধু এবার না ২০১৬ এর পর আর জাঁকজমকভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিগত সময়ে কয়েকটি কনসার্ট আয়োজন হলেও বরাবরের মতই এবারেও ঢিলেঢালাভাবে আয়োজন হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বর্তমান শিক্ষার্থী জানান,” আমরা টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এমনিতেও ক্লাস প্র‍্যাক্টিক্যালের চাপে খুব একটা উৎসব আয়োজনের সুযোগ পাই না। তাই সবাই অনেক অপেক্ষা করে থাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জন্য। তবে এত আশা নিয়ে অপেক্ষা করার পর যখন দেখি শুধু কেক কাটা ও পায়রা অবমুক্ত করণের মাধ্যমে আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন সম্পন্ন তখন বিষয়টা আমাদের খুবই হতাশ করে। ”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জামাল উদ্দিন ভুঞা বলেন, “বড় করে অনুষ্ঠান করার পিছনে সবচেয়ে বড় যে দুইটি প্রতিবন্ধকতা এবার দেখা দিয়েছে তার একটি হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সামর্থ্য ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি। দেশে বর্তমানে একটি রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। আমার অনেক শিক্ষার্থীরা অবরোধের কারণে ক্লাসেও আসতে পারছে না। পাশাপাশি সরকার থেকেও এখন এমন আয়োজনগুলোর ক্ষেত্রে বাজেট স্বল্প ব্যবহারের কথা বলা আছে। তাই এমন একটি পরিস্থিতিতে আমরা জাকজমকভাবে আয়োজন করে অনুষ্ঠান উদযাপন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাছাড়া ১৭ বছর উদযাপন এমন সিগনিফাইং কোনো সংখ্যা না। আমরা ২০ বছর, ২৫ বছর এমন মাইলফলকগুলো বেশ বড়ো করে আয়োজন করবো। তবে শিক্ষার্থীদের হতাশার কথা চিন্তা করে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি শান্তিময় থাকলে আমরা আসন্ন স্নাতক শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত জাকজমকভাবে আয়োজনের কথা ভাবছি।