২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:২১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০২২
মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার
জিয়াউর রহমান এবং তাহের । মুক্তিযুদ্ধের আগুনে পোড়া দুই খাঁটি সোনা। দেশপ্রেম এবং বলিষ্ঠ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে সচকিত এদেশের দুই কৃতিসন্তান । দু’জনই আজ ইতিহাস । দুজনেরই রয়েছে অসংখ্য অনুসারী। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে দুজনেরই রয়েছে অত্যন্ত গৌরবজনক ভূমিকা। একথা স্মরণে রেখে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তাঁরা কী ভাবতেন, বিশেষ করে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী সম্পর্কে তাদের চিন্তা- ভাবনা কেমন ছিল তার বিবরণসহ সাত নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রেক্ষাপট রচনা তাদের ভূমিকার কিঞ্জিৎ আভাস কিছুটা তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন জাতীয়তাবাদী। জাতীয়তাবাদের পরশমণির স্পর্শে জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে সোনা ছড়িয়ে তিনি চেয়েছেন বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় গৌরবের আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে। সামাজিক শক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণমুখী করে সচেতন জনগণের মাধ্যম হিসেবে তিনি গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন । তাহের বিশ্বাসী আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রে। উৎপাদনের উৎপাদন গুলোর উপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং বণ্টন ব্যবস্থাকে গণমুখী করে তিনি চেয়েছিলেন সমাজবাদী কল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে জনকল্যাণ বৃদ্ধি করতে। উদারনৈতিক গণতন্ত্রের ( Liberal Democracy ) প্রতি একজনের বিশ্বাস ছিল অত্যন্ত দৃঢ়ও মজবুত। অন্যজন কিন্তু উদারনৈতিক গণতন্ত্রকে ‘ বুর্জোয়া গণতন্ত্র ‘ রূপে চিন্হিত করে এবং জনকল্যাণের জন্য অর্থহীন মনে করে বিশ্বাস করতেন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশে । জেনারেল জিয়ার গতি তাই নির্ধারিত হয়েছে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং তার আনুষাঙ্গিক ক্রিয়াকলাপের দিকে । অন্যজনের দৃষ্টি নিবন্ধ ছিল বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের- ( Scientific Socialism ) দিকে । সাময়িক বাহিনীর ভূমিকাও স্বরূপ সম্পর্কেও জিয়াউর রহমান ও আবু তাহেরের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র । জিয়ার নিকট রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় স্বাধীনতা সংরক্ষণের অতন্দ্র প্রহরীরূপেই প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভূমিকা পালনকারী প্রতিষ্ঠান। জিয়াউর রহমান চেয়েছিলেন প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনের মাধ্যমে,বিশেষ করে সৈনিকদের মধ্যে পেশাদারিত্ব ( Professionalism ) বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিকতার আলোকে সমুজ্জ্বল করতে । সমাজতান্ত্রিক আদর্শে দীক্ষা গ্রহণকারী তাহের কিন্তু চেয়েছিলেন মার্ক্সীয় দর্শনের সূত্র অনুযায়ী, ‘ পুরোনো সামরিক বাহিনীকে টুকরো টুকরো করে গুড়িয়ে দিয়ে, তারপর ( নতুন সমাজের উপযোগী করে ) পুনরায় তাঁকে গড়ে তুলতে ‘ ( Smash the old army, dissolve it and build a new/ Karl Marx, the Eighteenth Brumaire of Lousis Bonaparte -) ।
কর্নেল তাহের তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের ( জাসদের-) আন্ডারগ্রাউন্ড সশস্ত্র শাখা বিপ্লবী গণবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশব্যাপী বিপ্লবী শক্তিসমূহের বিকাশ ও বিস্তারে মনোযোগী হন, ১৯৭২ সালে প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর । বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে তাঁরই নির্দেশে গঠিত হতে থাকে শত শত বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা, অনেকটা বিপ্লবের পূর্বে রাশিয়ায় সৈনিক সোভিয়েটের আদলে । দেশে কতগুলো বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা গঠিত হয়েছিল তার প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি বটে, কিন্তু ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বগুড়া, এবং রংপুর সেনা ছাউনীগুলোতে বহুসংখ্যক সংস্থা গঠিত হয়েছিল । এভাবে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে জাসদ এবং বিপ্লবী গণবাহিনীর কমান্ডার তাহের চেয়েছিলেন দেশে একটি বিপ্লব সংঘটিত করতে যখন সৈনিক ও জনতা এক সাথে বিপ্লবের পতাকা উত্তোলন করে সরকারকে পর্যুদন্ত করবে এবং দেশময় এই বিপ্লবী পরিষদ গঠন করে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের বন্যায় সমাজকে প্লাবিত করবে ।
তাহেরের জন্য এই কাজটি সহজ হয়েছিল বিভিন্ন কারণে। এক_ তখন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী সংখ্যার নিরিখে শুধু যে ক্ষুদ্রতর ছিল তাই নয়,খন্ড – ছিন্নও বিভক্ত ছিল, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এবং পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত ( repatriates ) কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিল এক ধরনের অনতিক্রম্য দূরত্ব। দুই _ সরকার কর্তৃক সৃষ্ট জাতীয় রক্ষীবাহিনী এবং এই বাহিনীর প্রতি সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের সীমাহীন দূর্বলতা প্রতিরক্ষা বাহিনীর নৈতিক মান ( esprit de corps ) ভীষণভাবে অবনত করে । তিন _ কর্নেল তাহের ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় মুক্তিযোদ্ধা । বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর এডজুটেন্ট জেনারেল এবং ৪৪ ব্রিগেডের কমান্ডার হিসেবে তার ছিল কৃতিত্বপুর্ণ অর্জন । এসব কারণে তার দর্শন ও নির্দেশনা সাধারণ সৈনিকদের নিকট হয়ে ওঠে গভীর আবেদনপুর্ণও আর্কষনীয় । জাসদের তরুণ নেতৃত্বও ঐ সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রতিপক্ষরুপে প্রতিভাত হচ্ছিল এবং সেই আর্কষনীয় নেতৃত্বের ফলে ১৯৭২ সালের শেষদিক থেকে সে সময়ে বিপ্লবী চেতনার বিস্তার ঘটে দ্রুত গতিতে । বিপ্লবী গণবাহিনীতে তাহেরের যোগদান জাসদের সাময়িক উইংকে শক্তিশালী করে এবং জাসদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাহেরের সামরিক পরিকল্পনাকে দৃঢ়তর করে ।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট গণ অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলে কর্নেল তাহের খুশি হননি দুটো কারণে। এক_ যারা এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে তাদের কোন মহৎ উদ্দেশ্য ছিল না । তার মতে,সবচেয়ে উত্তম পন্থা হতো জনগণকে প্রতারণার কারণে একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ মুজিবকে সরিয়ে দেয়া ( ‘সমগ্র জনতার মধ্যে আমি প্রকাশিত ‘ – তাহেরের টেস্টিমনি-) । দুই _ খন্দকার মুশতাক আহমদের সরকার কোনক্রমে এর গ্রহণযোগ্যতা বিকল্প ছিল না । ১৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থানে, তার মতে, শুধু একটি পরিবর্তন এসেছিল এবং তা ছিল ‘ ইন্দো- সোভিয়েট কক্ষপথ থেকে বাংলাদেশ ছিটকে পড়েছিল আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী গহ্বরে ‘। তার নিজের কথায় ‘ আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ সিভিলিয়ান একনায়কতন্ত্র থেকে নিমজ্জিত হয়েছিল সাময়িক- ব্যুরোক্র্যাটিক একনায়কতন্ত্রের গভীর অন্ধকারে ।
যখন কর্নেল তাহের শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পেয়েছিলেন তখনই তিনি গণ অভ্যুত্থানকারীদের সাথে আলোচনার জন্য ছুটে গিয়েছিলেন ঢাকা রেডিও স্টেশনে। খন্দকার মুশতাক আহমদও তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন । কর্নেল তাহের তাদের জন্য কয়েকটি সুপারিশ করেছিলেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল চারটি ।( ১-) চতুর্থ সংবিধানে সংশোধনী আইনের আশু প্রত্যাহার ।( ২-) সকল রাজবন্দীদের মুক্তি দান। ( ৩-) বাকশাল ব্যতীত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি জাতীয় সরকার ( National Government-) গঠন,এবং (৪-) নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সাধারণ নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ ।
এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পর্যালোচনা করলেও কর্নেল তাহেরের পরিকল্পনা সম্পর্কে সম্যক জানা সম্ভব। সকল রাজবন্দীদের মুক্তি দেয়া হলে তখন মুক্তি পেতেন বিভিন্ন জেলখানা থেকে হাজার হাজার জাসদের নেতা- কর্মী। জাতীয় সরকার গঠিত হলে ঐ সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন জাসদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ । নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব হতো জাসদের নেতা- কর্মীদের । তেমন হলে তাহেরের পক্ষে সে সময় বৈপ্লবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব হতে পারত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায়। ৩ নভেম্বরে সংগঠিত গণ অভ্যুত্থানের ফলে দল হিসেবে জাসদের এবং সামরিক নেতা হিসেবে তাহেরের কর্মসূচি ভীষণভাবে ব্যাহত হয় এবং সবদিক পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে এও জানা যায়, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের প্রধানতম লক্ষ্য ছিল গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীকে বিপ্লবীদের হাত থেকে মুক্ত করা। তাই ৭ সাত নভেম্বরের সিপাহী জনতার বিপ্লবের মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে খালেদ মোশাররফকে ‘ ইন্দো- সোভিয়েট অক্ষশক্তির এজেন্ট ‘ রূপে চিন্হিত করে অল্প সময়ে ৩ নভেম্বরের গণ অভ্যুত্থানকারীদের পর্যুদস্ত করা । ৬ নভেম্বর রাত্রিতে কর্নেল তাহেরের সভাপতিত্বে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থাসমূহের যে সভা অনুষ্ঠিত হয় সে সভায় যে সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় তার কয়েকটি ছিল এমনি:-( ১-) খালেদ মোশাররফকে সদবলে উৎখাত করা। ( ২-) জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা। ( ৩-) সামরিক বাহিনী সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিচালনার জন্য একটি বিপ্লবী সামরিক কম্যান্ড কাউন্সিল গঠন করা ।( ৪-) দলমত নির্বিশেষে সকল রাজবন্দীকে মুক্ত করা এবং ( ৫-) বিপ্লবী সৈনিক সংস্থাসমূহের ১২ দফা বাস্তবায়ন করা। ১২ দফা দাবির মূল কথা ছিল দেশে শ্রেণীহীন সমাজ গঠনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এক শ্রেণীহীন সামরিক বাহিনী গঠন, যে বাহীনীতে প্রচলিত এলিট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অফিসারদের যে অবস্থান, তার বিলুপ্তি ঘটিয়ে সাধারণ সৈনিকদের ওপর সার্বিক ব্যবস্থাপনা অর্পন। সামরিক বাহিনীতে অফিসারদের আর প্রয়োজন নেই এই ধারণার বশবর্তী হয়ে এক পর্যায়ে সামরিক কর্মকর্তাকে প্রাণ দিতে হয় সাধারণ সৈনিকদের হাতে।
জেনারেল জিয়ার রহমানকে তখন তাদের প্রয়োজন ছিল শুধুমাত্র খালেদ মোশাররফকে পরাস্ত করার জন্য নয়, সাত নভেম্বর বিপ্লববোত্তর পর্যায়ে জাতীয় রাজনীতিকে স্থিতিশীল করার জন্য,কেননা জাতীয় জীবনের ঐ সন্ধিক্ষনে একমাত্র জিয়াউর রহমানের মত কৃতি সৈনিকই ঐক্যের প্রতীক হিসেবে জাতির সামনে মাথা উঁচু করতে পারতেন। তাহের তাকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন । ১৯৭৩ সাল থেকে গড়ে ওঠা বিপ্লবী সৈনিকদের সংগঠন এবং তাদের দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে । কিন্তু যার জন্য ইতিহাস নির্দিষ্ট করে রেখেছে বেশকিছু সংখ্যক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ__ বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন, জাতীয়তাবাদী অঙ্গীকারের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, সুষম অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে অপচয়প্রবণ এবং বিশ্বময় প্রত্যাখ্যাত সমাজতন্ত্রের প্রত্যাহার, রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় উদারনৈতিক নীতিমালার প্রবর্তন- তিনি কোন ব্যক্তি তা তিনি যতই মহান হোন অথবা কোন সংগঠন তা সে যতই শক্তিশালী হোক তার মাধ্যমে হিসেবে কাজ করবেন কেন ??
তাই ১৫ আগস্টের সামরিক গণ অভ্যুত্থান, ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান এবং নভেম্বরের সিপাহী জনতার বিপ্লবের ফলে কেন্দ্রে যে ক্ষমতার শূন্যতা সৃষ্টি হয়,সেই শূন্যতা পূরণের জন্য জিয়াউর রহমানকে ঐ সময়ে রাষ্ট্রীয় জাহাজের হাল ধরতে হয় । কোন পুর্ব পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি ক্ষমতাসীন হননি। কোন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেও তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেননি । ৭ ( সাত-) নভেম্বর বিপ্লবেও তার কোন ভুমিকা ছিল না । ৩ নভেম্বরে যখন তিনি গৃহবন্দী হন, তখন তিনি নিহত হতেও পারতেন। জাতীয় ক্রান্তিকালে যখন রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব অনিশ্চিত হয়ে পড়ে,ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু যখন আলগাও অবিন্যস্ত হয়ে ওঠে,জাতি যখন বিভিন্ন সামরিক কর্মকর্তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাও আদর্শিক দ্বন্দ্বে ক্ষত বিক্ষত তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপর দায়িত্ব এসে পড়ে। এ জাতির সৌভাগ্য,তিনি এই সময়ে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে জাতীয় ঐক্য সুসংহত করেন। নতুনভাবে দিক নির্দেশনার মাধ্যমে জাতীয় সত্ত্বাকে সঞ্জীবিত করে অগ্রসরমান করেন বাংলাদেশকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে ।
স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর অগ্রনায়ক জিয়াউর রহমান জাতির এক সংকট সময়ে এগিয়ে এসেছেন। অনিশ্চয়তাও দিশেহারা জাতির জীবনে সঠিক পথ নির্দেশক সুস্থও সুস্পষ্ট কর্মধারায় ভিত্তি রচনার সুকঠিনও মহান দায়িত্ব সংকট উত্তরণের পথ নির্দেশ দিয়েছেন।
৬ নভেম্বর ৭৫’ গভীর রাতে সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর জনগণ,সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী,বিমানবাহী, বিডিআর,পুলিশ আনসারসহ সকলের অনুরোধে পূর্বাহ্নে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকও চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্বভার সাময়িকভাবে গ্রহণ করেছিলেন । কিন্তু সংকট মুহূর্তে গৃহীত পদক্ষেপের সাথে প্রশাসন কাঠামোতে স্বাভাবিক ধারাকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি স্বীয় ভূমিকাও অবদান পালনে ক্ষণিকের জন্য দ্বিধান্বিত ছিলেন না। জনতার ভালবাসায়ও অভিনন্দনে সিক্ত স্বাধীনতা সংগ্রামের এক নির্ভীক সেনানী হিসেবে তিনি মুহূর্তের জন্য ক্ষমতাগর্বে আত্নহারা হননি ।
লেখক:- ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বাংলা পোস্ট |√| ও প্রকাশক বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল|√|

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D