ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত পাকিস্তান, মৃত সহস্রাধিক

প্রকাশিত: ৩:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২২

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত পাকিস্তান, মৃত সহস্রাধিক

প্রবল বন্যায় নাজুক পরিস্থিতি পাকিস্তানে। দেশটির দক্ষিণ প্রদেশের পরিস্থিতি আরও বেশি ভয়াবহ। পাকিস্তানের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ তথা এনডিএমএ’র তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে এখনও পর্যন্ত বন্যার কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১০৩৩ জন। যার মধ্যে গত ২৪ মিনিটে মৃতের সংখ্যা ৪৫, আহত ১১৩। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। নামাতে হয়েছে সেনা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে একটি ভিডিয়ো। রোমহর্ষক ওই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, একটি বাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে জলের গভীরে। বোঝা যাচ্ছে, কীভাবে বিপর্যয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে ইসলামাবাদে।

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী রানা সানাউল্লা জানিয়েছেন, দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলই এখন জলমগ্ন। গত এক দশকের মধ্যে এমন পরিস্থিতি পাকিস্তানে তৈরি হয়নি বলেই দাবি তাঁর। যার ধাক্কায় ৩ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি মানুষ বিপর্যস্ত। বন্যার ধাক্কায় প্রায় এক হাজার জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৫৬ জন।

সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, বন্যায় অন্তত ১০৩৩ জন মানুষ মারা গিয়েছে। এছাড়াও আহত ১৫২৭ জন আহত হয়েছে। আরও ১১৯ জন মানুষের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া গিয়েছে। এখন পর্যন্ত বন্যা বৃষ্টিতে পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ৯ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪৫৪ টি বাড়ি। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের ১১০ টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। আরও ৭২ টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে বলে জানিয়েছে জিও নিউজ।

গত ২৪ ঘণ্টায় আহত ১১৩ জন। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যয় মোকাবিলায় সেনা নামাতে হয়েছে পাক সংবিধানের ২৪৫ নম্বর পরিচ্ছেদে বর্ণিত ধারা মেনে। কেবল মৃত্যুই নয়, ৩ হাজার ১৬১ কিমি সড়ক বন্যার কবলে পড়েছে। ভেঙে গিয়েছে ১৪৯ সেতু। ৬ লক্ষ ৮২ হাজারেরও বেশি বাড়ি সম্পূর্ণ বা কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু জায়গায় রেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

এবারের বর্ষা বহু রেকর্ড ভেঙে দেওয়াতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পাকিস্তানে। কেবল আগস্টেই বৃষ্টি হয়েছে ১৬৬.৮ মিলিমিটার। যেখানে এই মাসে গড়ে বৃষ্টি হয় ৪৮ মিলিমিটার। অর্থাৎ স্বাভাবিকের থেকে তিন গুণেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সিন্ধ প্রদেশ ও বালোচিস্তানে যথাক্রমে ৭৮৪ শতাংশ ও ৪৯৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে এবার।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট