২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২২
বাবা-ভাইয়ের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসীর মেয়ে সামিরা ইসলাম (২০)। শনিবার (৬ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টায় সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর পারকুল মাদ্রাসা মাঠে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে উপজেলার দিরারাই গ্রামের বাড়িতে পরিবারিক কবরস্থানে বাবা-ভাইয়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাঈন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এদিন দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে সামিরার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এরআগে শুক্রবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাপসাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিরার মৃত্যু হয়।
এরআগে ২৬ জুলাই দুপুরে অচেতন অবস্থায় পরিবারের ৫ সদস্যকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা সামিরার বাবা যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম (৫০) ও তার ছোট ছেলে মাহিকুল ইসলামকে (১৮) মৃত ঘোষণা করেন। আর ঘটনার ১১দিন পেরিয়ে গেলেও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মারা যান সামিরা ইসলাম। তার মৃত্যুতে প্রবাসী এই পরিবারের ৩ সদস্যের মৃত্যু হলো।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৫ জুলাই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমোতে যান প্রবাসী পরিবারের ৫ সদস্য। তারা হলেন- যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম (৫০) ও তার ছোট ছেলে মাহিকুল ইসলাম (১৮)রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুছনারা বেগম (৪৫), ছেলে সাদিকুল ইসলাম (২৫) ও সামিয়া ইসলাম (২০)। পরদিন দুপুরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম ও ছেলে মাহিকুল ইসলাম মারা যান।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় অন্যদের ওসমানী ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে মা হুছনারা বেগম ও বড় ছেলে সাদিকুল ইসলাম সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেন। কিন্তু ১১দিনেও ফিরেনি সামিরার জ্ঞান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিষক্রিয়ায় সামিরার কিডনী, লিভার কাজ করছিল না। হাসপাতাল কর্তপক্ষ তাদের চিকিৎসায় বোর্ড গঠন করে। সামিরাকে বাঁচাতে প্রাণান্তর চেষ্টা করেও অজ্ঞান অবস্থায়ই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, যুক্তরাজ্য থেকে গত ১২ জুলাই তারা দেশে আসেন। গত ১৮ জুলাই সিলেটের ওসমানীনগরের তাজপুরে ওই ফ্লাটের ২ তলার একটি ইউনিটে ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। মূলত ছেলের চিকিৎসার সুবিধার্থে বাসা ভাড়া করে তারা এখানে উঠেছিলেন।
স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুলাই রাতের খাবার শেষে প্রবাসী রফিক মিয়া তার স্ত্রী সন্তানসহ একটি কক্ষে ঘুমোতে যান। পরদিন সকালে বাসার সুস্থ স্বজনরা ডাকাডাকি করে প্রবাসী রফিকুল ইসলামসহ তার স্ত্রী-সন্তানরা ঘরের দরজা না খোলায় ৯৯৯ নম্বরে কল করেন।
এদিন দুপুর ১টার দিকে উপজেলার গোয়ালাবাজার হুলিয়ারবন্দ এলাকায় তাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান ঝলক পালের মালিকানাধীন ভবনের ২য় তলার একটি ফ্লাট থেকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী পরিবারের ৫ সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের ৩ জনই মারা গেলেন। পুলিশের ধারণা বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হতে পারে। তবে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাতে ভিসেরা প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D