১৩দিন পর সিলেটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার নিচে

প্রকাশিত: ১১:১১ পূর্বাহ্ণ, মে ২৪, ২০২২

১৩দিন পর সিলেটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার নিচে

গত ৩দিন ধরে আবহাওয়া অনুকুল থাকায় সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হয়েছে। গত রোববার, সোমবার ও আজ সিলেট ছিল রৌদ্রকোজ্জ্বল। এ কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে বন্যার পানি দ্রুত নেমে পড়ে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) সকাল ১০টায় সিলেট নগরীর উপশহরের প্রধান সড়কে গিয়ে দেখা যায় একেবারে পানিহীন সড়ক। এই আবাসিক এলাকার অন্যান্য সড়কগুলো থেকেও পানি নেমে গেছে। দুএকটি নিচু এলাকা ছাড়া নগরের বেশিরভাগ এলাকা থেকেই নেমে গেছে পানি।

মঙ্গলবার সকালে তালতলা এলাকায় গিয়েও দেখা যায়, পুরো পানিশূন্য সড়ক। এসব এলাকার বাসাবাড়ি থেকেও পানি নেমে গেছে। অথচ তালতলার অনেক এলাকায় দিন পাঁচেক আগেও কোমর পর্যন্ত পানি ছিল।

গত ১১ মে থেকে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আর নগর তলিয়ে যেতে শুরু করে ১৬ মে থেকে। ৮ দিন পর নগর থেকে নামলো পানি।

এদিকে, ১৩ দিন পর সিলেটে সুরমা নদীর পানিও বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। আজ সকাল থেকে সুরমার পানি সিলেট পয়েন্টে বিপৎসীমার প্রায় ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরআগে সোমবার দুপুর ১২টার পর থেকেই পানি কমতে থাকে।

তবে সিলেট পয়েন্টে কমলেও কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমার পানি এখনও বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর কুশিয়ারা নদীর পানি এখনও সবকটি পয়েন্টেই বিপদসীমার উপরে রয়েছে।

এতে নগরের পানি দ্রুত কমলেও গ্রামাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। জেলার ১২ টি উপজেলায় এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছে কয়েক লাখ মানুষ।

পানি কমলেও দুর্ভোগ কমছে না নগরবাসীর। পানি নেমে যাওয়া এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ। পানিতে অনেকের বাসাবাড়ির আসবাবপত্র ও দোকানের মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

পানি নেমে যাওয়ার পর থেকেই এসব ঠিকঠাক ও ঘর পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেছেন কয়েকদিন পানিবন্দি হয়ে থাকা মানুষ।

নগরের তালতলা এলাকার বাসিন্দা রজত কান্তি গুপ্ত বলেন, ৭ দিন ঘরের ভেতরে পানি ছিল। এখন পানি নামলেও ঘরের ভেতর ড্রেনের ময়লার স্তুপ জমে আছে। দুর্গন্ধে ঘরের ভেতরে ঢুকা দায়। পুরো এলাকাজুড়েই দুর্গন্ধ। বেড়েছে মশার উৎপাত।

তিনি সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে পানি নেমে যাওয়া এলাকার সড়ক ও বাসাবাড়ি পরিচ্ছন্ন করার দাবি জানান।

নগরের ঘাসিটুলা এলাকার বাসিন্দা বিমল রায় জানান, ব্লিচিং পাউডার দিয়ে তারা এখন নিজেদের বাসা-বাড়ি পরিষ্কার করছেন। আসবাবপত্র ধোয়ামোছার কাজও চলছে। তবু দুর্গন্ধ কমছে না।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, নগরের ২৭ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬ টি ওয়ার্ডই জলমগ্ন হয়ে পড়েছিলো। এখন দুএকটি এলাকা বাদে সব জায়গা থেকেই পানি নেমে গেছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘পানি নেমে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা শাখার দল গঠন করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে মশা-মাছি ও কীটপতঙ্গ নিধনের জন্য ওষুধ ছিটানো এবং ময়লা দুর্গন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তবে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, পানি নামার পর নিজেরদের বাসাবাড়ি নিজেরাই পরিষ্কার করতে হবে। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমদ বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। পানি দ্রুত নেমে যেতে শুরু করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দ্রুতই পুরো জেলার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে গত ১১ মে থেকে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ধীরে ধীরে বন্যা বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট মহানগরেরও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। মহানগরীর প্রায় ২০ টি ওয়ার্ড বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় অনেক মানুষই বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে অবস্থান নেন। পাঁচ দিন পানিবন্দী থাকার পর গত ২১ মে শনিবার রাত থেকে এসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার, আমলসীদ পয়েন্টে কুশিয়ারা বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার, শেওলা পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

পাউবো উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম নিলয় পাশা জানান, বন্যার পানি দ্রুতই কমছে। সিলেটে সুরমার পানি বিপদসীমার নিচে নেমে এসেছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে তারা ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ ও ডাইক মেরামতের কাজ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।


এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট