১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২২
|| মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার ||
রমজান মাস হচ্ছে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াতের মৌসুম। যে ব্যক্তি রমজানে কোরআন আঁকড়ে থাকবে, এটি তাকে অশেষ নেয়ামত আস্বাদন করাবে। কোরআন তেলাওয়াতের সময় যার আচরণ হবে এমন যা তেলাওয়াত করছি তা থেকে কখন আমি শিক্ষা নেব, আল্লাহর আহ্বান কখন অনুধাবন করব; কখন সতর্ক হব, কখন উপদেশ গ্রহণ করব তখন এই কোরআন তার জন্য মহৌষধের মতো হবে। ফলে সে ধন-সম্পদ ছাড়া স্বাবলম্বী ও আপনজন ছাড়া শক্তিশালী হয়।
যে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য এ মাসে একটি নফল কাজ করবে, সে অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করার যে সওয়াব তা পাবে। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করবে সে অন্য মাসের সক্তরটি ফরজ আদায়ের সমান সওয়াব লাভ করবে। এইটা হচ্ছে ধৈর্যের মাস আর ধৈর্যের প্রতিদান হচ্ছে জান্নাত। এইটা হচ্ছে সহমর্মিতার মাস, আর এইটা হচ্ছে এমন একটি মাস যাতে মোমিনের রিযিক বাড়ীয়ে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে, সেই ব্যক্তির জন্য গুনাহ মাফ পাবার, এবং দোজখের আগুন থেকে মুক্তি পাবার কারন হয়ে যাবে। এছাড়া তার সওয়াব হবে সেই সায়েমের সমান কিন্তু সেই সায়েমের সওয়াব একটুও কমবে না। সাহাবায়ে কেরাম বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ (সঃ) আমাদের মধ্যে অনেকেই রোজাদারদের ইফতার করানোর সামর্থ নেই। হযরত রাসুল (সঃ) বললেন পেটভরে খাওয়ানো হবে এমনটা তো নয়। এক চুম্বক দুধ অথবা এক টুকরো খেজুর কিংবা এক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করালেই আল্লাহ তায়ালা তাকে সওয়াব দান করবে। আর যে ব্যক্তি কোন সায়িমকে তৃপ্তি সহকারে খাওয়াবে আল্লাহ তায়ালা তাকে আমার হাউদ (হাউজে কাউছার) থেকে পানি পান করাবেন। যার ফলে সে জান্নাত দাখিল হওয়ার আগ পর্যন্ত পানি পিপাসা হবে না। এ মাসে যার প্রথমাংশ রহমাতের, মধ্যাংশ মাগফিরাতের এবং শেষাংশ দোজখের আগুন থেকে মুক্তির। আর যে ব্যক্তি এ মাসে অধিনস্তদের কাজের ভার লাগব করে দেবে আল্লাহ তায়ালা তাকে মা করে দেবেন। এবং দোজখ থেকে তাকে নাজাত করে দেবেন।
দ্বিতীয় হিজরীর মাহে রমাদানে প্রথম সিয়াম পালিত হয়, আর সেই রমাদানের ১৭ তারিখে মোতাবিক ৬২৪ খৃষ্টাব্দে ১৭ ই মার্চ শুক্রবার মদিনা মনওয়ারা থেকে ৮০ মাইল দনি পশ্চিমে অবস্থিত বদর প্রান্তরে সংগঠিত হয় যে যুদ্ধ সেটাই বদর যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে মাত্র ৩১৩ জন সাহাবী নিয়ে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর নেতৃত্বে কাফির, মুশরিক, বাহীনির প্রায় এক হাজার সৈন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয় লাভ করেন। এই যুদ্ধে ইসলামের সুদৃড় প্রসারী বিজয়ের ধারা নির্মান করে দেয়।
৬৩০ খৃষ্টাব্দের রমজান মাসেই ফতেহ মক্কা বা মক্কা বিজয় সাধিত হয়েছিল। এই প্রসঙ্গেঁ সুরা বনি ইসরাইলের ৮১ আয়াতে ইরশাদ হয়, “জায়াল হংক্ক ওয়াজাহাকাল বাতিল ইন্নাল বাতিলা কানা জাহুকা” সত্য সমাগত এবং মিথ্যা দুরীভূত, নিশ্চয়ই মিথ্যা দূর হয়। হযরত মোহাম্মদ (সঃ) বলেন যখন মাহে রমাদানের প্রথম রাত আসে, তখন একজন আহব্বান কারী এই বলে আহব্বান করেন ‘‘হে কল্যান কামী অগ্রসর হও। হে মন্দান্বেষী থামো। (তিরমিজি শরীফ)
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন রোজা আমার জন্য আমিই এর পুরস্কার-দেব। কারন বান্দাতো তার যৌন ুধা এবং দৈহিক ুধা একমাত্র আমার জন্যই পরিহার করে। এই মাসের শ্রেষ্টত্বের আর একটি হচ্ছে এই মাসের শবে কদরেই কাল্লামুল্লাহে শরীফ নাজিল হয়, এই রাত্রি হাজার মাস হইতে উক্তম।
মহানবী (সঃ) বলেছেন, রোজাদার দুটি সন্তুষ্টি উপভোগ করবে, আর তার মধ্যে একটি দৈাহিক ইফতারের সময় আরেকটি পরকালে আল্লাহর সহিত দিদার লাভের সময় উপভোগ করবে। নবী করিম (সঃ) উল্লেখ করেছেন রোজা ঢাল স্বরূপ যখন রোজা এসে উপস্থিত হয় তখন তোমরা অশ্লিল ভাষা এবং উচ্চ স্বরে চিৎকার করা থেকে বিরত থাকবে। রাইয়াল নামক দরজা দিয়ে রোজাদার মোমেনকে বেহেশতে প্রবেশ করানোহবে। এ মাসের রোজা কোটি কোটি মুসলমানের একই সঙ্গে সারভাই ভাল ট্রেনিং এর মত। আর এতে এসে যায় নিয়ম শৃংখলা কষ্ট সহিঞ্চুতা ধার্মিকতা পরোপকার সৎ চিন্তা সৎ জীবন যাপন। স্বাস্থ্য বিধি পালন বাড়তি মেদ-হ্রাস ইত্যাদি। এ মাসে মুসলমানেরা যাকাত ফিতরা দান খয়রাত করে। রোজা না করাতে বা ক্রটিতে কাফফারার অর্থদেয় গরীরদের। এই হল গরীরে পে অর্থ নৈতিক এজেন্ডা রমজান মাসের। যাকাতই দরিদ্র দূর করতে সম এনজিওদের গলাকাটা সুদী মহাজনী ব্যবসায় নয়।
সমস্ত মুসলিম জাহানের পাপরাশিকে বিদগ্ধ ও ভম্মীভূত করার জন্য এই রমজান মাসের সীয়াম সাধনাই হোক আল্লাহ পাকের কাছে একমাত্র উছিলা। আল্লাহ পাক মুসলিম বিশ্বকে এর তাৎপর্য ও গুরুত্ব উপলদ্ধি করার তৌফিক দান করুন। এটাই আমাদের একান্ত কামনা ও প্রত্যাশা।
লেখক:-: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক বাংলা পোস্ট |√| বিশেষ প্রতিবেদক দৈনিক নয়াদেশ |√| ও প্রকাশক বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা |√|

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D