অনাস্থা ভোটে হেরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে বিদায় নিলেন ইমরান খান

প্রকাশিত: ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২২

অনাস্থা ভোটে হেরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে বিদায় নিলেন ইমরান খান

অবশেষে অনাস্থা ভোটে হেরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব হারালেন ইমরান খান। শনিবার (৯ এপ্রিল) রাতে দেশটির পার্লামেন্টের অধিবেশনে তার বিরুদ্ধে আনা বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হয়। এতে ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট পড়েছে ১৭৪টি। প্রস্তাব পাসের জন্য দরকার ছিল ১৭২ ভোট। খবর ডনের।


ভোট শেষে ফল ঘোষণা করেন স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়া প্যানেল চেয়ারম্যান আয়াজ সাদিক।

ইমরান খান ছিলেন পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী। তার ক্ষমতাচ্যুতির মধ্য দিয়ে দেশটির নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রীও তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারলেন না।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতে শনিবার রাত ১২টার আগে শুরু হয় ভোটাভুটি। তবে শুরু হয়েই চার মিনিটের জন্য স্থগিত করা হয় অধিবেশনের অনাস্থা ভোটের প্রক্রিয়া। পরে আবার তা শুরু হয়। অধিবেশনের কার্যসূচিতে ৪ নম্বরে রাখা হয় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি। অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোর সব আইনপ্রণেতা অংশ নেন।

প্রে‌সি‌ডেন্ট আরিফ আল‌ভি রোববার পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের ডাক দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট সেটিকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেওয়ায় অনাস্থা ভোট সামনে এসে পড়ে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনে দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদের স্পিকার আসাদ কায়সারের সভাপতিত্বে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় অধিবেশন শুরু হয়। দিনভর চলে নাটকীয়তা। কয়েক দফায় অধিবেশন স্থগিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান‌কে ক্ষমতাচ্যুত করার বি‌দে‌শি ষড়য‌ন্ত্রের অংশ হ‌তে পার‌বেন না জা‌নি‌য়ে শনিবার রাতে পদত্যাগ করেন পা‌কিস্তা‌নের সংস‌দের নিম্নকক্ষ জাতীয় প‌রিষ‌দের স্পিকার আসাদ কায়সার।

আর্থিক দুরবস্থা ও ভুল পররাষ্ট্রনীতির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিরোধী দলগুলো। এ অনাস্থা প্রস্তাবকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে ৩ এপ্রিল খারিজ করে দেন জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি। ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। এতে চরম রাজনৈতিক সংকটে পড়ে পাকিস্তান।

এ অবস্থায় স্বতঃপ্রণোদিত নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। বিরোধীরাও আদালতের শরণাপন্ন হন। টানা পাঁচ দিনের শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ ও জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন সর্বোচ্চ আদালত। একই সঙ্গে শনিবার অনাস্থা প্রস্তাবের সুরাহার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ।


 

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট