|
প্রকাশিত: ৭:১২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২২
জমে উঠেছে গ্রন্থমেলা
(( ধারাবাহিক : মুক্তচিন্তা- পর্ব–৪ ))

৫২’র ভাষা আন্দোলনে মাতৃভাষা বাংলার জন্য আত্মদানকারী ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে মাসব্যাপী চলে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। বাংলা একাডেমির উদ্যোগে এই গ্রন্থমেলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিবারের মতো এবারো মেতে উঠেছে লেখক-পাঠকদের মিলনমেলায়। বই কেনার আগ্রহ নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে খোলার আগেই পাঠকরা ভিড় করছে গ্রন্থমেলার গেইটে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে মেলাপ্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, দুপুর ২ টায় মেলার দ্বার খোলার কথা থাকলেও দেড়টা পর থেকে মেলায় প্রবেশের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকে। এরপর বেলা যত বাড়তে থাকে লেখক, পাঠক ও দর্শনার্থীদের ভিড়ও ততই বাড়তে থাকে।
এদিন স্কুল-কলেজ ছুটির পর দেখা গেলো আরেক দৃশ্য। শিক্ষার্থীরা বাসার পথ না ধরে গ্রন্থমেলার উদ্দেশ্যে ছুটে এসেছেন। একপর্যায়ে বিকাল ঘনিয়ে সন্ধ্যা আসতেই মেলাপ্রাঙ্গণে জনস্রোতে পরিণত হয়। মেলায় কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে, আবার কেউবা আসছেন দলবেঁধে। কেউ ঘুরে ঘুরে বই দেখছেন, কেউ প্রিয় লেখকের সাথে সেলফি তুলছেন, আবার কেউ কেউ চা-কফি হাতে আড্ডায় মেতে উঠছেন উদ্যানেী পুকুর পাড়ে
সরেজমিনে মেলা ঘুরে আরো দেখা গেছে, মেলার বিভিন্ন অংশে বঙ্গবন্ধুকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে তার জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটে ওঠে। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে বঙ্গবন্ধু পাঠকক্ষ রয়েছে। যেখানে আরামে বসে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত বই পড়া যাচ্ছে। মেলায় স্টলগুলোর আশেপাশে রয়েছে বসার স্থানও।
মেলাপ্রাঙ্গণে কথা হয় মেহের আফরোজ রোজার সাথে। যাত্রাবাড়ি আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সে। রোজা তার মা ও ভাইয়ের সাথে গ্রন্থমেলায় বই কিনতে এসেছে আগ্রহ নিয়ে। রোজা জানায়, আমার বই পড়তে অনেক ভালো লাগে। বিশেষ করে গল্প ও কবিতার বই পড়তে অনেক ভালোবাসি। আম্মুর সাথে গতবছরও বইমেলায় এসেছিলাম। এখন একটি গল্পের বই কিনেছি আরো বই কিনে নিবো।
জেরিন জাফরিন ছোঁয়া নামের ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী জানায়, দুপুর ১২ টা থেকে কলেজ সময় শেষে বন্ধুদের সাথে গ্রন্থমেলায় ছুটে এসেছি বইপাঠের খোরাক মিটাতে। তারা প্রতিবছরের ন্যায় এবারো গ্রন্থমেলায় এসেছে ঘুরেফিরে বই কেনার জন্য। নির্দিষ্ট কোনো পাঠকের বই কেনার জন্য নয়, তবে ভালো বই কেনার মন মানসিকতা নিয়ে গ্রন্থমেলায় এসেছেন বলে জানালেন তারা।
‘হ’য’ব’র’ল’ কাব্যগন্থের লেখক সাকিব চৌধুরী বলেন, প্রতিবছরের চেয়ে এবারের বইমেলা আলাদা মনে হচ্ছে। সবকিছু সাজানো-গুছানো দেখে একজন লেখক হিসেবে মন ভরে গেছে। ২২ বছর বয়সে এই লেখক মোট ১৪ টি কাব্যগ্রন্থ লিখেছেন বলে জানান।
দি ইউনিভার্সেল একাডেমীর মহাপরিচালক এম শিহাব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, এবার অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমরা বইমেলায় এসেছি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে বইমেলা শুরু হতে পারেনি। এরপর ১৫ তারিখ থেকে বইমেলা হওয়ার ঘোষণা হলে আমরা সংশয়ে ছিলাম, পাঠক আসবে কিনা? একারণে আমাদের কাজেও ব্যাপক সংশয় ছিলো। কিন্তু এবার বইমেলা শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদের সংশয় কেটে গেছে। প্রথম দিন থেকে পাঠক সমাগম হচ্ছে। এরপর দিন যতই যাচ্ছে পাঠক সমাগম ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন যারা মেলায় আসছেন, তারা শুধু বই দেখছেন না, কিনছেনও।
এদিন আরো দেখা যায়, মেলার উভয় অংশে তিনটি তথ্যকেন্দ্র রয়েছে। দুটি সোহরাওয়ার্দীতে ও একটি একাডেমি প্রাঙ্গণে। শিশু চত্বর বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। মেলার পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের ঘর রয়েছে। শারীরিক জরুরি প্রয়োজনের জন্য স্থাপিত টয়লেট ব্যবস্থা সম্প্রসারিত ও উন্নত করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারো মেলায় শারীরিকভাবে অক্ষমদের জন্য হুইল-চেয়ার সেবাও রয়েছে।
এছাড়া নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের নিরাপত্তাকর্মীরা কাজ করছেন। কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবীরাও। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে দুটি ফুডকোর্টও রয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রতিবছর ১লা ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু হলেও গত দুই বছর ধরে করোনা মহামারির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে শুরু করা সম্ভব হয়নি। এবারো ‘একুশে গ্রন্থমেলা-২০২২’ ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়। এদিন ভর্চুয়ালি বিকাল ৩টায় মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
লেখক : বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশক, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক ” বাংলা পোস্ট


EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D