|
প্রকাশিত: ২:১৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২২

একুশের পড়ন্ত বিকাল। জাদুঘরের পাশে থাকা গাছগুলোতে ফুটেছে ফাগুনের রক্ত রাঙা শিমুল-পলাশ! রাজধানীর এই এলাকাটাতেই বসন্তের প্রকৃত রূপ দৃষ্টিগোচর হয়। একুশে ফেব্রুয়ারি বইমেলায় যাওয়ার স্রোতটিতে শাহবাগ থেকেই মানুষের গিজগিজ। গায়ের সঙ্গে গা ঘেঁষে কচ্ছপ গতিতে এগোতে হচ্ছে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত। মেলা পর্যন্ত যেতেই একবারেই নাজেহাল অবস্থা।
একেকদিনের একেক বৈশিষ্ট্য; এ কারণে অনেক ভোগান্তি সত্ত্বেও মানুষ বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করেই বের হন! গতকাল ভাষা শহীদ দিবসে স্রোতের মতো বইমেলায় দর্শনার্থীদের আগমন ছিল। পুরোপুরি একুশের চেতনায় নিজেকে সজ্জিত করে প্রাণের মেলায় এসেছেন তারা। এতে যেমন ‘পোয়াবারো’ হয়েছে প্রকাশকদের তেমনি ছুটির দিনটিকে উপভোগ করছেন মেলায় আগত দর্শনার্থীরাও।
গতকাল ছিল অমর একুশ ভাষা শহীদ দিবসে স্রোতের মতো বইমেলায় দর্শনার্থীদের আগমন ছিল । ঠিক তার পরের দিন আজ ২২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার মেলায় দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, কেউ নিচ্ছেন নতুন বইয়ের গন্ধ, কেউ কেউ আবার নিজের তালিকার বই সংগ্রহে ব্যস্ত। অনেকেই সঙ্গী সাথী নিয়ে একবারেই ঘোরাঘুরির মুডে! সঙ্গে স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে এবং বই হাতে পোজ দিয়ে ছবি ও সেলফি তোলা তো রয়েছেই।
মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অবসর প্রকাশনীর সামনে প্রতিবেদক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদারের সঙ্গে কথা হয় খিলক্ষেত থেকে আসা মিতু রহমানের সঙ্গে। তিনি একুশের ফেব্রুয়ারির ভিড় ভাট্টা ঠেলে শোকের সাজে ৭ বছরের ছেলেকে নিয়ে এসেছেন মেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ শিক্ষার্থী জানান, নতুন বইয়ের গন্ধ নিতেই তার মূলত একবার হলেও বই মেলায় আসা চাই-ই।
‘নতুন বইয়ের গন্ধ আমার আত্মা ছুঁয়ে যায়। আজকে ভিড় জেনেও এসেছি, কারণ ছুটি; তার উপর ছেলেকে একুশের চেতনায় উজ্জীবিত করা। আমার ছেলে বড় হয়েছে তার অনেক বইয়ের বায়না আছে সেগুলোও কিনে দেব। আমি মুক্তিযুদ্ধের বইও কিনে দেব। আমি চাই আমার ছেলে পড়ুয়া হোক; বাকিটা ওর ব্যাপার।’
কথা প্রকাশনীর স্টলে রবীন্দ্রনাথের ভ্রমণসাহিত্য, আবুল ফজলের প্রবন্ধ, মামুন মুনতাসিরের ঢাকা ইতিহাস নেড়ে চেড়ে দেখছেন ষাটোর্ধ্ব ভারিক্কি চেহারার এক ব্যক্তি। হঠাৎ সেলিনা হোসেনের ‘শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ’ হাতে নিয়ে সঙ্গে থাকা মেয়েকে বললেন, জানো- ‘বাংলাদেশে জীবিত লেখকদের মধ্যে উনি এখন পণ্ডিত লেখক, অসাধারণ লেখেন এই লেখিকা’।
জাফর নামে এই ব্যক্তি প্রতিবেদক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদারকে জানান, ‘আজকাল লেখক কই, ঘুরে ফিরে আগের লেখক ও তাদের নিয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর দিকেই যেতে হয় আমাদের। মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বেড়েছে। দেখবেন কেউ কেউ এসেছে- তার বন্ধুর বই বেরিয়েছে তা কিনতে, সেটা কিনে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে আলমারিতে তুলে রাখবে বইটি। বইয়ের প্রতি আন্তরিকতা কমে গেছে।’
মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থী ও বইপ্রেমীদের প্রচণ্ড ভিড়। স্টলে স্টলে বই উল্টে পাল্টে দেখছেন ক্রেতারা। অন্যান্য দিনের তুলনায় প্রকাশকদের বেচাবিক্রিও বেশ। এরপরও সন্তুষ্ট নন তারা।
কথা প্রকাশনীর বিক্রয় কর্মকর্তা ড্যানিয়েল প্রতিবেদক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদারের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘মেলায় অনেক মানুষ দেখছেন কিন্তু কয়জনের হাতে বেই দেখছেন বলেন। বেশির ভাগই আজকে ঘুরতে এসেছেন। তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় বই বিক্রি বেড়েছে। এখন দেখা যাক রাত পর্যন্ত কি হয়।’
তবে বাংলা প্রকাশনীর বিক্রয় কর্মকর্তা মুনা একবাক্যে জানালেন, ‘আজকে বেচাবিক্রি বেশ ভালো।’
সাদা ব্যাগে বই নিয়ে সোহরাওয়ার্দীর লেকের সামনে দাঁড়িয়ে বইপ্রেমী মো. মানিক। নতুন লেখকদের নিয়ে আশাবাদী ব্যবসায়ী মানিক জানালেন, নতুন লেখকদের একবারেই হেলাফেলা করা যাবে না। তারাও অনেক মেধাবী। মূল সমস্যা হচ্ছে প্রচারণার অভাব। এদের অনেকেই ভালো বই লেখেন কিন্তু প্রচারণার অভাবে আড়ালেই থেকে যান।
মেলায় ক্ষুদে পাঠকদরে চাহিদার যেন শেষ নেই ।
হাতে থাকা বইটি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দেখেন আমার বন্ধু লিখেছে বইটি। আমরা একসঙ্গে জগন্নাথে পড়তাম। বইয়ের নাম ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ সবাই ভালো বলছে। আমি এক কপি কিনলাম; যাতে উৎসাহ পান। মোট কথা হচ্ছে এখন মোবাইলে একটা আঙুল ছোঁয়ালে সব কিছু পাওয়া যায়, এ কারণে সবার আগ্রহ কম বই পড়ায়। তবে যাই হোক বই পড়ার বিকল্প নেই।’
বাংলা সাহিত্য ও ভাষাবিদরা মনে করেন, বইমেলা হচ্ছে বাঙালির প্রাণের স্পন্দন। মেলায় পুরাতন পাঠকদের সাথে যোগ হয় নতুন প্রজন্মের বই পড়ুয়া পাঠকরা। এই পরিবেশ দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে, অনুপ্রেরণা যোগায়। কারণ বইমেলার কেন্দ্রবিন্দু হলো বই। তাই মেলায় ঘুরতে আসলেও বইয়ের ছোঁয়া নিয়েই তারা থাকেন।
এবারের বইমেলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজের মুঘল হেরেমের সুন্দরী নর্তকী আনারকলির জীবন ও ঘটনাবলি নিয়ে ‘আনারকলি: মুঘল হেরেমের রহস্যময়ী নারী’ স্টুডেন্ট ওয়েজ প্রকাশনী থেকে বের হয়েছে।
নিজের বই সম্পর্কে এই লেখক বলেন, ‘আমরা সাধারণ মুঘল আমলের রাজনীতিক ইতিহাস জানি, আলোচনা করি। কিন্তু এর প্রেম ও অন্দরমহলের রহস্য ও ইতিহাস সম্পর্কে অনেকেরই অজানা। এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে আমার বইয়ে।’
বইমেলার গুরুত্ব সম্পর্কে ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, আমাদের ভাষা ও সাহিত্য বিকাশে বইমেলা নানা মাত্রা যোগ করে। মননশীলতার চর্চার জন্য বইমেলার গুরুত্ব অনেক। এখন অনেক ভালো ভালো বই বের হচ্ছে। তবে আমার একটাই চাওয়া বইমেলা যেন শুধু বাণিজ্যিক না হয়ে মননশীল চর্চার ক্ষেত্র হয়।
প্রাকৃতজ শামিমরুমি টিটনের রচিত দেশপ্রেমের কবিতা সমগ্র পাওয়া যাচ্ছে দি ইউনিভার্সেল একাডেমীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দি ইউনিভার্সেল একাডেমীতে ।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D