৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৫৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২০
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় দেলোয়ার বাহিনীর হাতে বিবস্ত্র অবস্থায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া ওই গৃহবধূ জবানবন্দি দিয়েছেন। ২২ ধারায় সেই জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন আদালত। এরপর আদালত ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই গৃহবধূকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নবনীতা গুহ ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
জবানবন্দিতে নির্যাতিতা গৃহবধূ জানান, তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জননী। গত ২ সেপ্টেম্বর নির্যাতনের ঘটনার আরও এক মাস আগে তার মেয়ের বিয়ে হয়। তারও আগে দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। মেয়ের বিয়ের পর তিনি ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন। এ সময়ে দেলোয়ার বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় তাকে অনৈতিক সম্পর্ক ও মাদক ব্যবসার প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। এসব প্রস্তাবে তিনি সাড়া না দেওয়ায় দেলোয়ার ও তার বাহিনীর সদস্যরা তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল।
এর মধ্যে তার মেয়ে তাকে অনুরোধ করে তারা স্বামী স্ত্রী যেন বিরোধ মিটমাট করে একসঙ্গে থাকে। তিনি মেয়ের অনুরোধে তার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বিরোধ মীমাংসার জন্য। ওই দিন (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পরে তার স্বামী তাদের বাড়িতে আসেন। একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে দেলোয়ার বাহিনীর সদস্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে আকস্মিক তাদের ওপর হামলা চালায়। একসময় হামলাকারীরা তার স্বামীকে বেঁধে রেখে ঘরের মধ্যে তাকে বিবস্ত্র করে বেদম মারধরসহ শারীরিক নির্যাতন করে। এ সময় দুইজন পুরো ঘটনাটি মোবাইলের মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তবে ঘটনার সময় আলো আধারিতে তিনি সবাইকে দেখতে পাননি।
এরপর হামলাকারীরা তাকে হুমকি দিয়ে যায়, এ ঘটনা কারো কাছে প্রকাশ করলে বা থানা পুলিশকে জানালে ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হবে। ঘটনার পর অনেক দিন হামলাকারীরা তাকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। একপর্যায়ে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে জেলা শহর মাইজদীতে বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাসায় আশ্রয় নেন। এর মধ্যে তিনি গোপনে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানালে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
এরপরও হামলাকারী দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার, সদস্য বাদল, কালাম তাকে ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার ভয় ও অনৈতিক প্রস্তাব দিতে থাকে। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় তারা তা ফেসবুকে ছেড়ে দেয়।
প্রসঙ্গত, রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরের দিকে ঘটনার ৩২ দিন পর গৃহবধূকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ পেলে তা ভাইরাল হয়। এতে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। ঘটনার পর থেকে গত ৩২ দিন অভিযুক্ত স্থানীয় দেলোয়ার, বাদল, কালাম ও তাদের সহযোগীরা নির্যাতিতা গৃহবধূর পরিবারকে কিছু দিন অবরুদ্ধ করে রাখে। একপর্যায়ে তার পুরো পরিবারকে বসতবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করলে পুরো ঘটনা দীর্ঘদিন স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ প্রশাসনের অগোচরে থাকে। পরে ঘটনার জানাজানি হলে পুলিশ ও র্যাব কয়েক দফায় অভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামি’সহ এ পর্যন্ত চার আসামিকে আটক করেছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D