১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২০
বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, একেবারেই নতুন একটা পরিস্থিতিতে এই বাজেট ঠিক কেমন হওয়া উচিত, সেটার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ দিকনির্দেশনা সমাজের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে। অর্থনীতির থিংক ট্যাংক ও অর্থনীতিবিদরা নানাভাবে সরকারকে পথ দেখাতে চেষ্টা করেছ্নে। কিন্তু সরকার সেগুলোকে আমলে না নিয়ে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি নামের দলটিকেই নিশ্চিহ্ন করে ফেলতে চেয়েছে। বিচার-বহির্ভূতভাবে বহু নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে, গুম করেছে, অসংখ্য নেতাকর্মীকে জেলে নিয়েছে, হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছে। দলটির চেয়ারপারসনকে দুই বছরের বেশি সময় মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ রেখেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও আছে বহু মিথ্যা মামলা। কিন্তু জাতির এই সঙ্কটে বিএনপি তার ওপর এই অত্যাচারের কথা ভুলে সরকারের সাথে একসাথে কাজ করার চেষ্টা করেছে। বিএনপি আসন্ন বাজেটে কেমন হওয়া উচিত, সেটা নিয়েও আগাম প্রস্তাবনা দিয়েছিল ৯ জুন। এতে আমরা সুনির্দিষ্ট পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সমৃদ্ধ তিন বছরের একটি মধ্য মেয়াদি বাজেট রূপরেখা দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার বরাবরের মতো তার চরম কর্তৃত্ববাদী চরিত্র বজায় রেখে বিএনপির পরামর্শগুলো আমলে নেয়নি।
বুধবার বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাতে বিএনপির এমপিদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির দুই সংসদ সদস্য মোশররফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম ও বিএনপি চেয়াপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।
রুমিন ফারহানা বলেন, সরকার যে বাজেট প্রস্তাবনা সামনে এনেছে, সেটা একমাত্র ক্ষমতাসীন দল ছাড়া আর কেউ কোনোভাবেই একটা সঙ্কটকালীন বাজেট হয়েছে বলে রায় দেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি ক্ষেত্র থেকে বলা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেট করোনার ফলে সৃষ্ট জীবন ও জীবিকার সঙ্কট মোকাবিলায় আদৌ সক্ষম নয়। ফলে আগামী দিনগুলোতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। পুরো বাজেটটি নানা রকম স্ববিরোধীতা, অসামঞ্জস্যতায় পরিপূর্ণ।
করোনাকালীন বাজেট হওয়ায় করোনার সঙ্গে খুব সরাসরি জড়িত কয়েকটি খাত নিয়ে বিএনপির এই এমপি বলেন, স্বাস্থ্যখাতের বেহাল অবস্থার কথা আমরা জানতাম, কিন্তু করোনা এটাকে যাচ্ছেতাইভাবে প্রকাশ্য করেছে। স্বল্পমেয়াদে করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কর্মী নিয়োগের কোনো রূপরেখা বাজেটে নেই। স্বাস্থ্যখাতে যে বরাদ্দ দিয়েছে এটা দিয়ে বর্তমান সঙ্কট ও ‘লকডাউন’ খুলে দেবার কারণে সামনের দিনগুলোতে যে ভয়ঙ্কর অবস্থা তৈরি হতে যাচ্ছে সেটা কোনোভাবেই মোকাবিলা করা যাবে না। করোনার কারণে দেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে মানুষের সংখ্যা যখন দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে তখন আগের বছরের বৃদ্ধির চাইতে মাত্র তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি কোনোভাবেই সঙ্কট মোকাবিলা করতে পারবে না। এই তুচ্ছ বরাদ্দ দেশকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দেবে।
তিনি বলেন, করোনার খুব বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়া একটা খাত হলো কৃষি। এই সঙ্কটের সময়ে ৯৫ শতাংশ কৃষকই সরকারি অথবা বেসরকারিভাবে কোনো ধরনের সহায়তা পাননি। এই পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত বাজেটেও কৃষকের জন্য কোনো সুখবর নেই। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তো বটেই করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া লাখ লাখ মানুষের আপৎকালীন কর্মসংস্থান হতে পারতো কৃষিতে, কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে ন্যুনতম মনযোগ দেয়া হয়নি কৃষিতে। সরকারের আর সব বাজেটের মতো এই বাজেটে লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে উল্লেখ করে রুমনি ফারহানা বরেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ যেরকম ঢালাওভাবে করা হয়েছে সেটা বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে আর কখনো হয়নি। এবার মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করা যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই টাকার উৎস সম্পর্কে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না। এই বাজেটে ব্যাংক খাতের ক্যান্সার হয়ে পড়া খেলাপি ঋণ কমানোর কোন পদক্ষেপ নেই।
রুমিন ফারহানা বলেন, এই বাজেটে সরকারের ক্ষমতাশালীদের কমিশন পাবার শর্তে জনগণের টাকা কিছু লুটেরার হাতে তুলে দেবার কুইক রেন্টাল বিদ্যুতকেন্দ্র বন্ধ করার কথা নেই। এই বাজেটে তেলের দাম তলানিতে পড়ে গেলেও তেলের দাম কমানো হয়নি। এই বাজেটে মোট রাজস্বে আয়করের হিস্যা বাড়েনি। বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য নেই কোনো উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি। করোনা সঙ্কটের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতের একটা পর্যটন খাত নিয়ে দেয়া হয়নি একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও। এই দেশে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষও যে মোবাইল ফোনে কথা বলে, ইন্টারনেট ব্যবহার করে সেটা ব্যবহারের খরচ বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু শুল্ক কমানো হয়েছে ধনীদের ব্যবহার্য সোনার।
বিএনপির এই এমপি বলেন, করোনার সময়ে দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘকাল যে মন্দা থাকবে তাতে মানুষের আয় এবং অভ্যন্তরীণ ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে রাজস্ব আয়ে চরম ঘাটতি তৈরি হবে। তাই বলা যায়, এই ঘাটতি গিয়ে ঠেকবে প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকায়। ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকারের মূল পদক্ষেপ হবে ঋণ করা। ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের এই অকল্পনীয় পরিমাণ টাকা ধার করার ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ একেবারে শুন্যের কোঠায় চলে আসবে যা কর্মসংস্থানের পথ একেবারেই বন্ধ করে দেবে। এতেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে না, তাই সরকারকে বিপুল পরিমাণে নতুন টাকা ছাপাতে হবে। এই টাকা ছাপানো উচ্চ মূল্যস্ফীতি তৈরি করে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে প্রচণ্ডভাবে দুর্বল করে দেবে, যার ফল হবে মারাত্মক।
তিনি বলেন, এই বাজেট করোনার সময়ে বীভৎস স্বাস্থ্য সঙ্কটে পড়া মানুষের নাভিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দেবার বাজেট, এই বাজেট করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া কোটি কোটি অনাহারী মানুষকে দুর্ভিক্ষের মধ্যে ঠেলে দেয়ার বাজেট, এই বাজেট কৃষিকে ধ্বংস করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলার বাজেট, এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার না করে আরও গভীর মন্দায় ফেলে দেয়ার বাজেট, এই বাজেট দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে ফেলার বাজেট, এই বাজেট দেশের কর্মক্ষম বেকার মানুষকে এবং নতুন করে বেকার হওয়া মানুষকে বেকার রেখে দেয়ার বাজেট, সর্বোপরি এই বাজেট রাষ্ট্রীয় সম্পদ লূটপাটকারীদের আরো সুযোগ বৃদ্ধির বাজেট। একটা অনির্বাচিত, জনগণের কাছে ন্যুনতম জবাবদিহিতাহীন, আমলাচালিত, ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিস্ট’ সরকারের কাছে এমন বাজেটই প্রত্যাশিত। এই বাজেট আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D