কারও সঙ্গে দেখা করবেন না বেগম খালেদা জিয়া

প্রকাশিত: ৮:৪৮ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২০

কারও সঙ্গে দেখা করবেন না বেগম খালেদা জিয়া

শরীরিক অসুস্থতা ও করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এসব পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত কারও সঙ্গে তিনি দেখা করবেন না। তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত ভিডিও কনফারেন্সে যোগাযোগ হচ্ছে তার। গণমাধ্যমে এ সব তথ্য জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার বোন বেগম সেলিমা ইসলাম।

তিনি বলেন, আমি ও আমার ভাইয়ের স্ত্রী এবং চিকিৎসকরা ছাড়া অন্য কেউ  খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কারোর সঙ্গে দেখা করবেন না।

বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) এখনো হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। তিনি রোজা রাখছেন, কঠিনভাবে ধর্মীয় বিষয় পালন করছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, লকডাউনের মধ্যে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগটা হয় টেলিফোনের মাধ্যমে। ওনার পাশে যারা আছেন ওনাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আগের তুলনায় একই রকম আছেন প্রায় বলা যায়। তবে একটু ইমপ্রুভ হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,  উনি এখনো কারও সঙ্গে দেখা করেননি। আমরাও চাই না দেখা করতে। ওনার শরীরের যে অবস্থা তা রিকভার করতে কয়েক মাস লাগবে। আর এখন তো তেমন কোনো পলিটিক্যাল ইস্যুও নাই।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আসলে যোগাযোগটা আমাদেরও নাই। আমরা নানাভাবে জানার চেষ্টা করি তিনি কেমন আছেন। শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন নাই। মানসিক একটু স্বস্তি যে বাড়িতে আছেন।

এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলেও নাতি-নাতনিসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত ভিডিও কনফারেন্সে যোগাযোগ করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বাসায় খালেদা জিয়ার রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা ছাড়াও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে নিয়মিত। দোতলায় বসে সেগুলো করছেন সার্বক্ষণিক সঙ্গে থাকা সেবিকা সাকিলা বেগম। এছাড়া দু-একদিন পরপরই বাসায় গিয়ে স্বাস্থ্যের খোঁজ নিচ্ছেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ডা. মামুন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার পুরো বিষয়টি লন্ডনে বসে তদারকি করছেন পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান।

গত ২৫ মার্চ কারাগার থেকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি সেদিনই তার ভাড়া বাসা ফিরোজায় ওঠেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে যান। এরপর থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি কারাবন্দি ছিলেন। সরকারের নির্বাহী আদেশে গত ২৫ মার্চ মুক্তি পান তিনি।