৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:১৪ অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০১৯
ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে ঝড় শুরু হয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়। আজ শুক্রবার (৩ মে) দুপুরে ঝড় শুরু হয়। সাগর ও অন্যান্য নদ-নদী উত্তাল হয়ে উঠেছে। ঝড় শুরু হওয়ার পরপরই চলে গেছে বিদ্যুৎ। এদিকে ফণীর প্রভাবে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়ে গেছে। কালের কণ্ঠ
উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের বিধ্বস্ত বেঁড়িবাঁধ এলাকা থেকে অস্বাভাবিকভাবে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। এতে চারিপাড়া, পশরবুনিয়াসহ পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তর পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফনী ধেয়ে আসার নমূনা দেখে আতঙ্ক বিরাজ করছে কলাপাড়ার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে। মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি ও বে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স, খাবার স্যালাইন, শুকনো খাবার, মেডিক্যাল টিম, সিপিপিসহ ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারী এবং ফায়ার সার্ভিসকর্মী এবং পুলিশ বাহিনীসহ সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রস্তুত রয়েছেন উদ্ধার কাজের জন্য। দুর্যোগ মোকাবেলায় জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে সিপিপি’র মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
প্রশাসনের উদ্যোগে সমুদ্রতীরবর্তী এবং বেঁড়িবাঁধের বাইরে বসবাসরত প্রায় ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার এবং সেখানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সাগর ও নদী থেকে মাছ ধরার সকল প্রকার নৌকা ও ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসান সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সকল প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে রয়েছে। সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক এবং দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এনজিও এবং জিও যার যার অবস্থান থেকে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে ফণীর প্রভাবে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে গুরুত্বপূর্ণ মালামাল নিয়ে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন পার্শ্ববর্তী নিরাপদ স্থানে।
শুক্রবার (০৩ মে) সকাল থেকে বলেশ্বর নদীর পানি বাড়তে থাকে। স্রোতের চাপে উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/১ ফোল্ডারের বেড়িবাঁধ ভেঙে বগী, সাতঘর এলাকার লোকালয়ে পানি ঢুকে ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে সন্তান-সন্ততি ও ম‚ল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ারও প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।
আতঙ্কের কথা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করছি। বেড়িবাঁধ ভেঙে বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। কি হবে জানি না। সন্তানদের আত্মীয় বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। বগী গ্রামের সিডরে মরেছে আত্মীয়-স্বজন। ফণীর কথা শুনেই আতঙ্কে আছি।
এদিকে জনগণের তুলনায় অপ্রতুল আশ্রয় কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন বলেন, ফণী আঘাত হানলে আমরা কিভাবে বাঁচবো। আশ্রয়কেন্দ্রে এত লোক থাকবে কীভাবে?
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য রিয়াদুল হোসেন পঞ্চায়েত বলেন, বেরিবাঁধটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ। সকালে জোয়ারের পানির চাপে ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। বেশকিছু ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে গ্রাম। পানির চাপ বাড়লে আরও কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে বেড়িবাঁধের আশপাশের মানুষগুলো ঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।’
তিনি বলেন, আমরা এর আগেও দাবি জানিয়েছিলাম মজবুত করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করার। কিন্তু তা করা হয়নি। কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিতে আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি।
সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, বগী এলাকার বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। লোকালয়ে পানি ঢুকছে।
তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বেচ্ছাসেবকরা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণী আতঙ্কে মোংলা, রামপাল ও কচুয়ার মাছ চাষিরা ঘেরের পাশে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। আতঙ্কে ঝড়ের তোরে ঘেরের পাড় ভেঙে মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খান বলেন, বেড়িবাঁধ ভাঙার খবর শুনেছি। আমরা খোঁজ নিচ্ছি। প্রকল্পের লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চেষ্টা করছি দ্রুত মেরামত করার।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D