চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন শাহনাজ রহমতউল্লাহ

প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০১৯

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন শাহনাজ রহমতউল্লাহ

রাজধানীর বনানীর সম্মিলিত সামরিক বাহিনীর কবরস্থানে ২টা ৪০ মিনিটে চিরনিদ্রায় শায়িত হন বাংলা সংগীতের প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমতউল্লাহ।

গত শনিবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িধারার নিজ বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পরে রোববার (২৪ মার্চ) বাদ জোহর তার প্রথম নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বারিধারার পার্ক মসজিদে। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমত উল্লাহ’র নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রোববার বাদ যোহর (বেলা ১.৩০ মিনিটে) বারিধারায় বায়তুল আতিক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দেশ বরেণ্য এই সংগীত শিল্পীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

তার পর শনিবার (২৩ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বারিধারার নিজ বাসায় হার্ট অ্যাটাকে মারা জান শাহনাজ রহমতউল্লাহ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। শাহনাজ রহমতউল্লাহর স্বামী মেজর (অব.) আবুল বাশার রহমতউল্লাহ ব্যবসায়ী, ছেলে এ কে এম সায়েফ রহমতউল্লাহ কানাডায় থাকেন, মেয়ে নাহিদ রহমতউল্লাহ থাকেন লন্ডনে।

প্রখ্যাত এই সংগীত শিল্পী ১৯৫২ সালে জন্ম নিয়ে মাত্র ১১ বছর বয়সে ১৯৬৩ সালে রেডিও এবং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে গানে জগতে প্রবেশ করেন। টেলিভিশনে ১৯৬৪ সালে প্রথম গান করেন। পাকিস্তানে থাকার সুবাদে করাচি টিভিসহ উর্দু ছবিতেও গান করেছেন। দেশীয় গানে সবার শীর্ষে আছেন শাহনাজ রহমতউল্লাহ। তার উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে আছে ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘আমার দেশের মাটির গন্ধে’, ‘আমায় যদি প্রশ্ন করে’, ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বল রে আমায় বল’ ‘যে ছিলো দৃষ্টির সীমানায়’ প্রভৃতি।

এছাড়া বিবিসির ২০০৬ সালের মার্চ মাসের জরিপে সর্বকালের সেরা ২০টি বাংলা গানের তালিকায় শাহনাজ রহমতুল্লাহর চারটি গান স্থান পায়। এগুলো হলো, ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’ ও ‘একতারা তুই দেশের কথা বলরে এবার বল’।

শাহনাজ রহমতউল্লাহ ১৯৯০ সালে ‘ছুটির ফাঁদে’ ছবিতে গান গেয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ১৯৯২ সালে পান একুশে পদক। ‘চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’ এর সৌজন্যে তিনি পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা। এছাড়া গান গেয়ে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।