ঐক্যফ্রন্টের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা ছিলেন না সুলতান মনসুর : মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ৪:২৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০১৯

ঐক্যফ্রন্টের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা ছিলেন না সুলতান মনসুর : মির্জা ফখরুল


গণফোরাম থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সুলতান মনসুর শপথ নেয়ায় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্যে টানাপোড়েন দেখা দেবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, সুলতান মনসুর ঐক্যফ্রন্টের তেমন কোনো নেতা ছিলেন না। তিনি চলে যাওয়ায় ঐক্যফ্রন্টের কোনো ক্ষতি হবে না।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারীর সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারী নির্যাতন, খুন ও গণধর্ষণের প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংসদে গিয়ে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, সুলতান মনসুর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন। ফ্রন্টের সিদ্ধান্ত না মেনে লোভে পড়ে সংসদে গিয়ে তিনি নিজেকে ছোট করেছেন।

বিএনপির কেউ একাদশ সংসদে যোগ দেবে না এমন সিদ্ধান্তের কথা আবারও জানিয়ে দলটির মহাসচিব বলেন, বিএনপি আগের সিদ্ধান্তেই অনড়। আমাদের কেউ সংসদে যাচ্ছে না।

এর আগে মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল সরকারের বিদায় চেয়ে বলেন, এই দখলদার সরকার সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে এবং জনগণের অধিকারকে বঞ্চিত করে ক্ষমতা দখল করেছে। এই সরকার আজ গোটা জাতির ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে। তাদের হাত থেকে মা-বোনরাও রেহাই পাচ্ছে না। তাদের নির্যাতন করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।

নারী দিবসে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন নারী অধিকারে সংগ্রাম করেছে। অথচ আজকে আমরা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি- আমাদের নেত্রীকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মুক্তি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। নারী সমাজের মুক্তিও খালেদা জিয়ার মুক্তির সঙ্গে জড়িত। তাই আসুন এই দিনে আমরা শপথ নিই দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হই। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে, নারী সমাজের আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে হবে।

সরকারের অবস্থান জনগণের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই সরকার দখলদারি সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত কোনো সরকার নয়। আজ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতো জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। জনগণকে সব অধিকার-বঞ্চিত করে দমন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে তাদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দল সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে এতে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরীন খান, সহসভাপতি জেবা খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।