আজ আখেরি চাহার সোম্বা

প্রকাশিত: ১:৪৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৮

আজ আখেরি চাহার সোম্বা

আজ বুধবার আখেরি চাহার সোম্বা। এক হাজার ৪০০ বছর আগে হিজরি ২৩ সনের সফর মাসের শেষ বুধবার মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) দীর্ঘ রোগ ভোগের পর সুস্থ বোধ করেন।

দিনটি শ্রদ্ধা, ধর্মীয় ভাবগাম্বীর্যের সঙ্গে পালন করে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্ব।

২৩ হিজরির শুরুতে মহানবী (সা.) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ক্রমেই তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তিনি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েন যে, নামাজের ইমমাতি পর্যন্ত করতে পারছিলেন না। ২৮ সফর বুধবার মহানবী সুস্থ হয়ে ওঠেন। দিনটি ছিল সফর মাসের শেষ বুধবার। এ দিন শেষবারের মতো গোসল করেন রাসূল (সা.)। শেষবারের মত নামাজে ইমামতি করেন এই দিন।

নবীর রোগমুক্তিতে তার অনুসারীরা এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে তাদের কেউ দাসমুক্তি করেন, কেউবা অর্থ বা উট দান করেন। এই খবরে আবু বকর সিদ্দিক ৫ হাজার দিরহাম, উমর ৭ হাজার দিরহাম, ওসমান ১০ হাজার দিরহাম, আলী ৩ হাজার দিরহাম, আবদুর রহমান ১০০ উট, ইবনে আউফ ১০০ উট দান করেন। তবে ২৯ সফর আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন মহানবী (সা.)। তার মাত্র ১৫ দিন পর ১২ রবিউল আউয়াল ইন্তেকাল করেন মানবতার মুক্তিদূত মহানবী (সা.)।

ফারসি বাক্য ‘আখেরি চাহার সোম্বা’র বাংলা অর্থ ‘শেষ বুধবার’। দিনটি শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে ইসলাম ধর্মবিশ্বাসীরা। সাহাবিদের অনুসরণে এ দিনে দান-খয়রাত করেন। মজসিদে মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করেন অনেকেই।

বাংলাদেশে আখেরি চাহার সোম্বার দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসা দরবার খানকায়ে ওয়াজ নসিয়ত জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এদিনে। সাধারণ মুসলমানরা এ দিনটিকে খুশির দিন হিসেবে উদযাপন করে।

বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে এ মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় আগেই চাঁদ দেখার হিসাব অনুযায়ী জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল ৭ নভেম্বর (২৭ সফর) বুধবার আখেরি চাহার সোম্বা পালিত হবে।