৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮
সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বৈরিতা মোকাবেলা করে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও স্থিতিশীলতা সংরক্ষণে কৃষির ভূমিকা আজো মুখ্য। কৃষিতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন। এক্ষেত্রে তিনি পচনশীল কৃষি পণ্যের সংরক্ষণ ও বহুমুখীকরণেও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরীর ওপরও জোর দেন। আর এ ব্যাপারে দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবদান রাখতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন-বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন। সম্মানিত অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন-শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলামের উপস্থাপনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. গোলাম শাহী আলম। অনুষ্ঠানে ১৭৩৩ জন ¯œাতক, ৫১৫ জন এম এস এবং একজন পিএইডি ডিগ্রীধারীর সনদের স্বীকৃতি দেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় রাষ্ট্রপতি দুই জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে চ্যান্সেলর স্বর্ণ পদক এবং দুই জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে ভাইস চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক তুলে দেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও অগ্রগতির এক উজ্বল দৃষ্টান্ত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রেখে বর্তমান সরকার দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১ এর পথচিত্র অনুসরণ করে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে চলছে। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন যুদ্ধে জয়লাভের জন্য কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন অপরিহার্য।
রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, বর্তমান যুগ হচ্ছে বিশ্বায়ন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির যুগ। তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই বিশ্ব ব্যবস্থায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে তার আপন বৈশিষ্ট্য নিয়ে টিকে থাকতে হলে তার স্থানিক, জাতিক ও বৈশ্বিক অবস্থান স্পষ্ট করতে হয়। এটি সুনির্দিষ্ট করা সম্ভব প্রাতিষ্ঠানিক উপযোগিতা, মান ও আন্তর্জাতিক চারিত্র নিশ্চিত করার মাধ্যমে।
তিনি বলেন, উচ্চতর কৃষি শিক্ষার অন্যতম বিদ্যাপীঠ হচ্ছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। যুগের চাহিদানুযায়ী জৈবপ্রযুক্তি ও জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের আওতায় জীববিজ্ঞানের মলিকিউল ও জিন পর্যায়ে সর্বশেষ গবেষণা-অগ্রগতি সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ-যা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে এ স্বাতন্ত্র মর্যাদায় আসীন করেছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বৃহত্তর সিলেটের পাহাড়, নদী, হাওড়, সবুজ বনাঞ্চল ও প্রান্তর এই অঞ্চলকে এক অনন্য প্রাকৃতিক লীলাভূমিতে পরিণত করেছে। এখানকার বিস্তীর্ণ জলজ সম্পদ, উর্বর ভূমি, লালচে ও পাথুরে মাটি এবং বিস্তৃত প্রান্তরে ছড়িয়ে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। লাগসই কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এর উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। এভাবে এই অঞ্চলে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মাঠ পর্যায়ে গবেষণা পরিচালনার এক আকর্ষণীয় ক্ষেত্র তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকবৃন্দ ইতোমধ্যেই মাঠ গবেষণার মাধ্যমে উন্নত শস্যজাত উদ্ভাবনসহ বেশ কিছু চাষ ও ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে আরো সুদূরে। ২০৫০ সাল কিংবা ২১০০ সালে দেশের প্রক্ষেপিত জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা ও খাদ্য নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। দেশের কৃষি ও ভেটেনারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকের এই বর্ণাঢ্য সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মধ্যমণি তোমরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা সমাপনের স্বীকৃতি হিসেবে সনদপত্র লাভের মধ্য দিয়ে আজ তোমাদের জীবনের একটি অধ্যায় শেষ হলো। নিজেদেরকে তোমরা জ্ঞানে-দক্ষতায় সমৃদ্ধ করেছ। পেশাগত শিক্ষালাভের মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধকে শাণিত করার অনন্য সুযোগ পেয়েছ। এই সবই সম্ভবপর হয়েছে জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। এভাবে তোমাদের অনেক ঋণ জমেছে দেশ ও জাতির কাছে। এখন তোমাদের সেই ঋণ পরিশোধের পালা। গোটা দেশ আজ তোমাদের মুখের দিকে চেয়ে আছে। সমগ্র জাতি তোমাদের ঘিরে স্বপ্ন দেখে। দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্র্যাজুয়েটরা একযোগে কাজ করবে, বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘলালিত স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে অগ্রসেনানী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে-এই প্রত্যাশা করেন রাষ্ট্রপতি।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D