বিএনপি নির্বাচন চায় না : ইনু

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৭

বিএনপি নির্বাচন চায় না : ইনু

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট দেশকে স্থায়ীভাবে অস্থিতিশীল করে রাখতে চায়। তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা জামায়াতসহ অন্যান্য সকল মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির সঙ্গে আঁতাত করেছে।

মন্ত্রী আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০১৭ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা’র অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ‘সব সময় ঝগড়া’ চায়। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আসন্ন নির্বাচনে জয়লাভ করি, তবুও তারা দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রাখতে চাইবে’।

ইনু বলেন, ‘তারা যদি ক্ষমতায় ফিরে আসে, তাহলে তারা সবকিছুই পরিবর্তন করে দেবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্জিত দেশের উন্নয়ন তারা থামিয়ে দেবে। দেশের চার মূলনীতি আর থাকবে না। দেশের জাতির পিতা পরিবর্তন হবে। জঙ্গিবাদ ও ধর্মান্ধদের সুদিন ফিরে আসবে’।

তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো এ সব বরদাশত করব না এবং জাতি তা বহন করবে না।’ দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য স্থায়ী শান্তির প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইনু আরও বলেন, ধর্মান্ধতা, জঙ্গিবাদ ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করাই বিএনপির বিরামহীন কর্মকান্ড।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন তাদের এজেন্ডা নয়। তারা জঙ্গিবাদ, ধর্মান্ধ ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চায়।’

তিনি এসব নাশকতামূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি সংসদের বাইরের দলগুলোর সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সমতা বজায় থাকবে।’

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সাংবাদিকদের মাঝে ‘ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টং অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেন।

বর্তমান নব্য সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও এক চিরসজীব প্রতিবাদ: ইনু
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা বর্তমান নব্য সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও এক চিরসজীব প্রতিবাদ। খবর বাসসের

তিনি বলেন, একবিংশ শতকেও যার প্রাসঙ্গিকতা কেবল ইতিহাস পাঠই নয়, বর্তমান সাংস্কৃতিক সংকট অতিক্রমণের কাঙ্ক্ষিত পথের নির্দেশকও।

আজ সকালে উত্তরা ক্লাবের লোটাস লাউঞ্জে ‘একুশ শতকে নজরুল’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগিতায় উত্তরা ইউনিভার্সিটি এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, নজরুল গবেষক ও এমেরিটাস অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. বরুণকুমার চক্রবর্তী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খন্দকার মোঃ নাসিরউদ্দিন, ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বেলা দাস, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুব হোসেন ও কবি পৌত্রী খিলখিল কাজী।

উত্তরা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে ‘একুশ শতকে নজরুল’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।

গবেষণা ও শিক্ষামূলক আন্তর্জাতিক মানের এ সম্মেলন আয়োজনের জন্য তথ্যমন্ত্রী আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় কবি তথা অখ- বাংলার কিংবদন্তি সাহিত্যিক কাজী নজরুল সাহিত্য, সঙ্গীত এবং ব্যক্তি জীবনের কর্মমুখরতায় এ ভূখ-কে ঋদ্ধ করেছেন।

তিনি বলেন, তার গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাসে শিল্প মাধুর্য যেমন প্রকাশিত তেমনি তাতে অসাম্প্রদায়িক চেতনাও জাগ্রত।
ইনু বলেন, জাতীয় কবির প্রতিভার সর্বাপেক্ষা গৌরবের দিকটি হলো, তাঁর ব্যক্তি ও সমষ্টির নির্বিরোধ মিলন।

বিদ্রোহী কবি হিসেবে বাংলার সাহিত্যে তার স্থান অমর হয়ে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রাবন্ধিকের প্রবন্ধের মাধ্যমে নজরুলকে নতুনভাবে জানা যাবে এবং বিদ্রোহী কবিকে নিয়ে গবেষণার নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে।

সম্মেলনের আরো বক্তৃতা করেন বাংলাদেশের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সফিকুন্নবী সামাদী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. খালেদ হোসাইন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাংবাদিক ও কবি জিয়াদ আলী, বিশ্বভারতীর অধ্যাপক অতনু শাশমল, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বিশ্বতোষ চৌধুরী, রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুব্রত কুমার পাল প্রমুখ।

আগামীকাল ২২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ.টি ইমাম প্রধান অতিথি থাকবেন।