|
প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৭
‘প্রবাসে বাঙালি যারা আছেন, তারা যেন কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হন। তাদের দিকে মানবিক দৃষ্টি দিয়ে আচার-আচরণ করবেন। তাদের একটা আস্থার জায়গায় এনে দেবেন।’ কূটনীতিকদের উদ্দেশে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রাজধানী ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত ‘মানুষ ও শান্তির জন্য কূটনীতি’ শীর্ষক ৩ দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্বের ৫৮টি দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের কূটনীতিকদের অংশ গ্রহণে দূত সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রথমবারের মতো বিদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও স্থায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে এ দূত সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গ। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বৃহস্পতিবার মায়ানমারে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিকে সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে বিদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নির্যাতনের মুখে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দ্রুত মায়ানমারে ফেরত পাঠাতে ভূমিকা রাখার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশি কূটনৈতিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আমরা যাতে দ্রুত মায়ানমাররের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ফেরাতে পারি সেজন্য ভূমিকা রাখবেন। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরীতা নয়- আমরা এই নীতিতে সবার সঙ্গে সুসর্ম্পক রাখতে হবে।
কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের কখনই কোনো সমস্যা ছিল না। তবে এই ইস্যুতে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছ থেকে কূটনৈতিক সহায়তা পেয়েছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশ এর আগে এত বিশাল কূটনৈতিক সফলতা অর্জন করেনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে হবে। আমরা নিজের দেশের মানুষের ভাগ্যের যেমন উন্নয়ন করতে চাই, তেমনই প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষেরও। সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে, তবেই উন্নয়ন তরান্বিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু প্রতিবেশী দেশ, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে একটা ভালো সদ্ভাব রেখে আমরা কিন্তু সমস্যাটা সমাধান করতে চাই। এ ব্যাপারে সমাধান করে মায়ানমারের লোকদের যেন মিয়ানমারে পাঠাতে পারি, সে ব্যাপারেও আপনারা আরো সক্রিয় থাকতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ নিয়েছে। আর অন্য দেশের সন্ত্রাসীদেরও কোনোভাবেই বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
এ সময় বর্তমান সরকারের নেওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এখন আর কেউই বাংলাদেশকে করুণার চোখে দেখে না, বরং সমীহ করে। তবে অনেকেই বিদেশে বসে পরিকল্পিতভাবে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’ যা মোকাবিলায় বিদেশি মিশনগুলোকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘তারা তো ক্ষমতায় ছিল ২১ বছর। অর্থ, সম্পদ অঢেল তাদের। তারা আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার বিভিন্ন দেশে চালাচ্ছে। সেই সাথে কিছু কিছু সংস্থাও আছে। পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচারগুলো চালানো হচ্ছে, সেদিকেও আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে।’
শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘যেটা বাস্তব যেটা সত্য, সেটা যেন সে দেশগুলোতে তুলে ধরা যায়, সেদিকে আপনারা দৃষ্টি দেবেন।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জনগণ যদি আবার ভোট দেয় আসব। আর যদি না দেয়, আসব না। কিন্তু এ উন্নয়নের ধারাটা যেন অব্যাহত থাকে।’
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আপনারা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে, দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে। কিভাবে দেশে আরও বিনিয়োগ বাড়ানো যায় তাও দেখতে হবে। বিশ্বে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরুন।
স্বাধীনতাবিরোধী ও কয়েকটি এজেন্সির লোকজন বিদেশে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে উল্লেখ করে তা মোকাবিলায় তৎপর হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া প্রবাসীদের ভালো-মন্দ খেয়াল রাখতেও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D