৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০১৭
সিলেট সংবাদ ডেস্ক :: নেতৃত্ব নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে সিলেটের পরিবহন সেক্টরে। এই অবস্থার মধ্যে আজ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের বি: ১৪১৮ এর এক জরুরী সভা অনুষ্টিত হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টায় সভাটি অনুষ্টিত হয় দক্ষিণ সুরমা পুরাতন ষ্টেশন রোডের বাবনা পয়েন্টস্থ শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে। জরুরী সভার মুখ্য বিষয় ছিল, গত ২০ নভেম্বর ২০১৭ইং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নব নির্বাচিত কমিটির প্রথম অধিবেশনের এক বৈঠক নিয়ে। বিধি বর্হিভূতভাবে উক্ত বৈঠক সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্টিত হওয়ায়, এ নিয়ে কথা উঠে শ্রমিকদের মধ্যে। এক পর্যায়ে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন শ্রমিক নেতা ফলিক ও আবুল হাসনাত। পরবর্তীতে বিষয়টি চরম পর্যায়ে পৌছে।
একে অন্যকে চ্যালেঞ্জ ছুড়িয়ে দিয়ে, বিষয়টি আরও জটিল ও সাংঘর্ষিক করে তোলেন। এরকম অবস্থায় ফলিক, উত্তেজিত ভাবে আবুল হাসনাতকে বলেন, কোন অধিকারে উক্ত বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। আবুল হাসনাত পাল্টা জবাবে বলেন, এটা আমার শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়, এই ইউনিয়নের আমি সাংগঠনিক সম্পাদক। একার্যালয় আমার এখানে আমিই আসবো। এসময় ফলিক বলেন, আমরা তো তোমাকে দাওয়াত দেইনি। হাসনাত পাল্টা কথায় বলেন, ফলিক সাহেব তোমার দাওয়াতের ধার আমি ধারি না। তুমি এখন শ্রমিকের নেতা নও, মালিকের পকেটে এখন তোমার ঠিকানা। আমি শ্রমিকের ভোটে এসেছি, শ্রমিকদের সাথেই আছি।
উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে ফলিক, প্রচন্ড রেগে আপত্তিকর গালিগালাজ করে হাসনাতকে। এরপর হাসনাতকে কার্যালয় থেকে বের করে দেন। ঘটনার এখানেই শেষ করতে বিভাগীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক হবিগঞ্জের সজীব আলী আপোষ মিমাংসার জন্য ফলিককে অনুরোধ করেন, কিন্তু ফলিক তাকে পাত্তা না দিয়ে আবুল হাসনাতের কার্ড বাতিলের পায়তারা শুরু করেন। এই অবস্থার মধ্যে জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সেক্রেটারী রাকিব উদ্দিন রফিক চেস্টা করেন বিষয়টি সমাধানে, ফলিকের অসহযোগিতায় তিনিও ব্যর্থ হন। এর মধ্যে চেষ্টা চালান, সিলেট-ঢাকা রোডস শ্রমিক কমিটি সভাপতি রুনু মিয়া ও সিলেট-জকিগঞ্জ মিনিবাস রোডস শ্রমিক কমিটি সভাপতি আব্দুল মতিন চৌধুরী।
কিন্তু ফলিক পাত্তা দেননি তাদেরও। সমঝোতার বিপরীতে জরুরী সভার মাধ্যমে আবুল হাসনাতের কার্ড বাতিলের উদ্দেশে জরুরী সভা আহবান করেন ফলিক। দাওয়াত করেন জেলার প্রতিটি শাখার নেতৃবৃন্দ। সেই ডাকে জরুরী সভায় মিলিত হন নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি বৈঠকের মতলব বুঝতে প্রায় ৭০০/৮০০ শ্রমিক কার্যালয় এলাকায় অবস্থান নেয়। এরকম উত্তেজনার মধ্যে শুরু হয় বৈঠক। কিন্তু বৈঠকে ফলিকের সেই কার্ড বাতিলের আশা পূরণ হয়নি।
কারন শ্রমিকদের সহমর্মিতা ও সহযোগিতায় উজ্জীবিত ছিলেন আবুল হাসনাত। একই সাথে আবুল হাসনাত স্থানীয় তেতলি ইউনিয়নের বাসিন্দা। এলাকায় তার একটি নিজস্ব ইমেজ ও অবস্থান রয়েছে। ফলিকের সাংগঠনিক দূরভিসন্ধি কার্যকলাপ এখন সর্বত্র প্রকাশ হয়ে যাওয়ায়, বেকায়দায় পড়ে যান ফলিক।
তাই বৈঠকে কোনঠাসা হয়ে পড়েন ফলিক। শ্রমিক নেতা আব্দুল মতিন চৌধুরী, শ্রমিক ইউনিয়ন কোষাধক্ষ্য শামসুল হক মানিক, সহ-সভাপতি শাহ জামাল, পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ফলিককে রক্ষা করতে কৌশলী বক্তব্য রাখতে চাইলে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। শ্রমিকরা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে। তারা সুর চিৎকার করে বলতে থাকে, আবুল হাসনাত এখানে থাকবে ফলিক যেন চলে যায়। তারা চিৎকার দিয়ে বলতে থাকে মালিকের দালালের স্থান নেই এখানে। ঘটনায় চুপ হয়ে যান ফলিক। শ্রমিকদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে সভাস্থলে। পরিস্থিতি বেসামাল হওয়ার উপক্রম হয়। শ্রমিকরা তুলাধূনা করে ফলিককে।
অশালীন কথা বার্তা বলাবলি শুরু করেন। তাদের উত্তেজিত ও মারমুখি আচরনে সভা ও সভাস্থল উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠে। অসহায় হয়ে পড়েন ফলিক। বিএনপি নেতার দালালি করার কারনে আরো বিগড়ে যায় শ্রমিকরা। তারা তাকে দালাল ও শ্রমিক বিরোধী লোক হিসাবে চিন্থিত করে, ঘরে ফিরে যাওয়ার আহবান জানায়। অবস্থা বেগতিক দেখে, কৌশলে বিষয়টি সমাধানে চেষ্টা চালান ফলিক। পরে বাধ্য হয়ে আবুল হাসনাতকে জড়িয়ে ধরে ঘটনার সমাধান দেন ফলিক। বৈঠকের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে ফলিক বুঝতে পারেন শ্রমিক যে আজ আর তার নেই। যে শ্রমিক তাকে মাথায় তুলে ছিল সেই শ্রমিক তাকে মাঠিতে নামিয়ে দিল।
যে বিএনপি নেতার কারনে আজ তিনি অপমানিত, সেই নেতা এখন নতুন শ্রমিক নেতা খুজছেন বলে জানা গেছে। এমনকি ওই বিএনপি নেতা বিভিন্ন শ্রমিককে ফোন করে আজ বলেছেন, আমি আর ফলিকের সাথে নেই। তোমরা আমাকে ডাকলে আমি সহযোগিতা করবো। তিনি আরো শ্রমিকদের বলেন, ফলিক আমাকে তোমাদের নিকট কালার করছে, আমি তার কোন অপকর্মে নেই। এখন দেখার পালা ফলিক এর আশ্রয় কোথায় হয়।
তথ্য সূত্র : ড্রিম সিলেট ডটকম লিংক সংযুক্ত

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D