মওদুদ আহমেদ ‘পল্টিবাজ নেতা’ : হানিফ

প্রকাশিত: ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৭

মওদুদ আহমেদ ‘পল্টিবাজ নেতা’ : হানিফ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদকে ‘পল্টিবাজ নেতা’ নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে মওদুদ আহমদ ডিগবাজির ওস্তাদ ও আজন্ম দুর্নীতিবাজ।

মঙ্গলবার দুপুরে টিসিবি ভবনে নিজের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

হানিফ বলেন, মওদুদ সাহেবের রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস আছে। তার রাজনীতিতে ডিগবাজি ছাত্রজীবন থেকেই শুরু। এক সময় ঢাকা কলেজে শাহ মোয়াজ্জেমের হাত ধরে সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েই তিনি খেলাফত ছাত্র সংসদে যোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা হয়ে যান।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে। হয় তিনি সম্মানজনকভাবে ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন। না হয় তাকে অসম্মানজনকভাবে টেনেহিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামানো হবে।’

মওদুদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য উস্কানিমূলক। এটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। আমি বিশ্বাস করি, তার এই বক্তব্যের সঙ্গে খোদ বিএনপির অনেক নেতা একমত নন। এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে মওদুদ আহমদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে পল্টি খাওয়া এবং এই দল থেকে ওই দলে যাওয়ার এত দক্ষ লোক বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কোনো লোকের নেই। ভবিষ্যতে তার মতো কেউ পারবে কি না, সন্দেহ আছে।’

হানিফ বলেন, ‘সেই ধরনের একজন ব্যাক্তি, বর্তমান সরকার সম্পর্কে যখন এমন উক্তি ব্যবহার করে, তা জনগণের কাছে দৃষ্টতা বলেই মনে হয়। এটা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাক্ষাৎ বেশ আলোচিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘এই সাক্ষাৎ কোনো রাজনৈতিক সংলাপের ইঙ্গিত বহন করে না। আমার সঙ্গেও অনেকবার মির্জা ফখরুলের দেখা হয়েছিল। আমরা একসঙ্গে কফিও খেয়েছি। এটা সামাজিক বন্ধন। রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে সামাজিক সম্পর্ক ভিন্ন বিষয়।’

মাহবুব উল আলম হানিফ আরো বলেন, ‘১৯৭৫ সারের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি শুরু হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকে হত্যা করা হয়।