১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৭
লন্ডন : ইসলামফোবিয়া বা ইসলামভীতির বিষয়টি পুনরায় সংজ্ঞায়িত করার জন্য যুক্তরাজ্যের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির কো-চেয়ার ও দেশটির মন্ত্রিসভার সাবেক সদস্য সাঈদা ওয়ার্সি।
প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ব্রিটেনের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া সাঈদা ওয়ার্সি বলেন, ‘ব্রিটেনের সর্বশেষ গোঁড়ামির অন্ধ স্পট’ যা ব্রিটেনের সবচেয়ে সম্মানজনক সার্কেলগুলোতে দেখা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার লন্ডনে ইসলামোফোবিয়া সম্পর্কে ‘রানিমেডে ট্রাস্টের’ নতুন রিপোর্ট প্রসঙ্গে সাঈদা ওয়ার্সি এই আহ্বান জানান।
সাঈদা ওয়ার্সি বলেন, ‘সরকার ইসলামোফোবিক তা বলা ভুল হবে। তবে, মুসলিম সম্প্রদায়গুলো কি তা বুঝবে? কখনোই না।’তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সরকার কি কেবল সন্দেহের বশে কিছু মুসলিম ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনকে বাদ দিচ্ছে না? হ্যাঁ।’
‘ইসলামোফোবিয়া: এখনো আমাদের সবার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ট্রাস্টের ওই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘ইসলামোফোবিয়া’ শব্দটি জনসাধারণের বুঝার জন্য ছড়িয়ে দেয়া।
প্রতিবেদনটি দেশটির ২৩ জন শিক্ষাবিদ অবদান রাখেন এবং এতে সমাজ জুড়ে ইসলামফোবিয়ার একটি চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।
‘ইসলামোফোবিয়া: আমাদের সকালের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ’ এর মূল প্রতিবেদনে পাবলিক বক্তৃতার মধ্যে ‘ইসলামোফোবিয়া’ শব্দটি উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এর দুই দশক পরে ইসলামোফোবিয়া শব্দটি এত প্রচলিত হয়ে উঠেছে যে ওয়ার্সি দাবি করেছেন এটি ‘ডিনার টেবিল টেস্টে উত্তীর্ণ হয়েছে’।
ওয়ার্সি বলেন, ‘আমরা যা ঘৃণা করি তা মুসলিম নয়। এটি হচ্ছে ইসলাম; যেটিকে আমরা হিংসাত্মক ধর্ম হিসেবে জানি।’
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সব ধর্মের মধ্যই অনন্ত যুদ্ধ বা শাশ্বত শান্তি তৈরি করার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর জন্য কেবল ইসলামকে দায়ী করা ছিল অন্যায় ও অবৈজ্ঞানিক।’
ওয়ার্সি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘দাবি করা হয় যে মুসলিমদের ভয় পাওয়া উচিত ‘কারণ তারা সর্বত্রই বিদ্যমান এবং তারা অচিরেই ব্রিটেনকে নিয়ন্ত্রণ করবে। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ অমূলক। কারণ পরিসংখ্যান বলছে যে ব্রিটিশ জনসংখ্যার মাত্র ৫ শতাংশ মুসলমান, পার্লামেন্টে মুসলিম সদস্যের সংখ্যা ২ শতাংশেরও কম।’
ওয়ার্সি বলেন, ‘যদি মুসলমানরা কোনো অপরাধ বা সহিংসতায় জড়িত হন, তাহলে এটিকে তাদের ধর্মের ফলাফল হিসাবে দেখা হয়। কিন্তু অন্য ধর্ম ও ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষদের একই কাঠামো ব্যবহার করে বিচার করা হয় না।’
এর আগে তিনি সরকারের বিতর্কিত ‘কাউন্টার-সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ’ এর কৌশল পুনর্বিবেচনা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। এটিকে তিনি একটি ‘ভাঙা ব্র্যান্ড’ হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন।
তার বই ‘দ্য এনিমি উয়িথিন: এ টেল অফ মুসলিম ব্রিটেন’ প্রকাশের আগে ‘সানডে টাইমস’ পত্রিকার টিম শিপম্যানকে দেয়া সাক্ষাত্কারে বারোনিস ওয়ার্সি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’কে জনসম্মুখে ইসলামোফোবিয়ার নিন্দা জানানোর জন্য আহ্বান জানান এবং পাবলিক লাইফে মুসলিম হওয়াকে একটি ‘নৃশংস’ অভিজ্ঞতা হিসাবে বর্ণনা করেন তিনি।
ইসলামোফোবিয়ার শিকারদের সাহায্য করার জন্য ন্যায়বিচার এবং বৃহত্তর জনসাধারণের কাছে এটি আরো ভালভাবে বুঝার প্রত্যাশা করেন তিনি।
রানিমেডের প্রতিবেদনে প্রস্তাব করেছে যে সরকার তাদের সংজ্ঞা অবলম্বন করেছে এবং এর সংক্ষিপ্ত সংস্করণটি হল: ‘ইসলামোফোবিয়া হচ্ছে মুসলিম বিরোধী বর্ণবাদ’।
রিপোর্টের একজন কন্ট্রিবিউটর এবং অপরাধবিষয়ক বিজ্ঞানের একজন সহযোগী অধ্যাপক ইমরান আওয়ান বলেন, ‘আমি আশা করি যে এই রিপোর্ট হতে একটি সম্মতিগত সংজ্ঞা বেরিয়ে আসবে। যদি আমরা একটি সার্বজনীন সংজ্ঞায় সম্মত হতে পারি, তা হবে একটি বড় সাফল্য।’
মুসলিম পরিষদের মুসলিম কাউন্সিলের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিকদাদ ভার্সি বলেন, তিনি আশা করেন যে এই রিপোর্টটি ইসলামের সমালোচনা তুলে ধরবে যা মুসলমানদের প্রতি ঘৃণাকে ঢেকে রাখে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই ডটনেট

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D