২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:২১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৭
মোঃ রেজোয়ান করিম শাব্বির : সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চা বাগান সহ সারী নদীর সৌন্দর্য্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এছাড়াও জৈন্তাপুরে রয়েছে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান। এমনকি রয়েছে অনেকগুলো বিল ও হাওর। এসব বিল ও হাওরে সারা বৎসর সহ শীত মৌসুমে আগমন ঘটে অতিথি পাখির। ভাদ্র মাস হতে শীতের মৌসুমের আবাস শুরু হয় উত্তরপূর্ব সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলায়। ভোরে দেখা মিলে কুয়াশার। শীত মৌসুমকে কেন্দ্র করে এক শ্রেনীর মানুষ মেতে উঠে অতিথি পাখি নিধনে বা শিকারে। শীত শুরুর আগেই জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাটের বিভিন্ন হাওর এলাকায় ফাঁদ পেতে বন্য প্রাণী ও অতিথি পাখী শিকার উৎসব শুরু হয়। শিকারিরা পাখি শিকার করে বাজারে এনে চড়া দামে বিক্রি করে। এমনকি শিকার করা পাখিগুলোর চোখ কানা করে বাজারে এনে বিক্রি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যবসায়ী ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে সেগুলোর চোখ কানা করে রেখে বিক্রি করতে এসেছেন বাজারে। সেখানকার কয়েকজনের সাথে আলাপকালে জানা যায় প্রতিনিয়তই বিভিন্নভাবে ফাঁদ পেতে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করে বাজারে বিক্রি করতে আসেন অনেকেই। এছাড়াও উপজেলার চিকনাগুল বাজার, চতুল বাজার, গোয়াইঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ফাঁদ পেতে অতিথি পাখি শিকার করে চোখ বেঁধে বা কানা করে বিক্রি করতে দেখা যায়।
এলাকাবাসী জানান শীত মৌসুমে যখন জৈন্তার বিভিন্ন বিলে অতিথি পাখির আগমন ঘটে সেসময় সুযোগ সন্ধানী কিছু শিকারীর দেখা মিলে। আবার অনেকেই আছেন শখের বশে এসব বিলে গিয়ে ফাঁদ পেতে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করেন।
পাখি শিকারীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ফাঁদ পেতে, কিংবা ছোট মাছের মধ্যে পটাশ মিশিয়ে ঝোঁপ জঙ্গলে রেখে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি শিকার করা হয়।
এদিকে, বিল এলাকায় কয়েক জন শৌখিন পাখি শিকারীর সাথে আলাপকালে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন শহর হতে শখের নেশায় শত শত টাকা খরচ করে তারা পাখী শিকার করেতে আসেন। শখ বলে কথা তাই মাঝে মধ্যে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর কবলে পড়লে ঝমেলা এড়াতে কোন না কোন ভাবে লিয়াজো করে পাখি শিকার করি। তারা আরও বলেন স্থানীয় শিকারীদের কারনে অনেক সময় তারা পাখি শিকার করতে পারেন না। তবে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলা সীমান্তবর্তী হওয়ার কারনে বিল গুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি সহ আঞ্চলিক পাখি পাওয়া যায়। ফাঁদ কিংবা জ্বাল পেতে বন্যপ্রানী শিকার করে থাকেন বলে জানান তারা।
সিলেট শহর হতে ৪০ কিলোমিটার দূরে জৈন্তা-খাসিপুর পাহাড়ের পাদদেশে জৈন্তাপুর উপজেলা অবস্থিত। ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে সংগঠিত জৈন্তাপুর। সেখানে দরবস্ত, হরিপুর ও জৈন্তাপুর ইউনিয়নে রয়েছে পাঁচটি হাওর। দরবস্ত ইউনিয়নে রয়েছে বেদু হাওর, বর হাওর, হরিপুর ইউনিয়নে রয়েছে বুজি হাওর, ডেঙ্গার হাওর, জৈন্তাপুর ইউনিয়নে রয়েছে কেনদ্রী হাওর। এই হাওর গুলোতে প্রতিবছর শীতের শুরুতেই আগমন ঘটে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির। তারমধ্যে পাতিহাঁস, বালীহাঁস, ডাউকপাখি, সাদাবক ও কানাবক এর বেশী আগমন ঘটে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হরিপুর, চিকনাগুল ও দরবস্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন- আমাদের এলাকায় বিভিন্ন উৎসবে, বিয়ে সাদিতে, জামাইদের বাড়ীতে দাওয়াত খাওয়াতে এমনকি ছোট খাট অনুষ্টানে পাখি না খাওয়ালে যেন উৎসবের আনন্দের ঘাটতি থেকে যায়। তাই এ অঞ্চলে পাখির চাহিদা একটু বেশি। বাজারে চাহিদা থাকায় শিকারীরা তাদের ধরে আনা পাখি গুলো বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসে। আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর চোঁখ এড়াতে এবং চড়া দামে বিক্রির জন্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা শিকারিদের নিকট হতে অল্প দামে পাখি সংগ্রহ করে এনে বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে থাকে।
বাপা সিলেট এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, সিলেটে শীতকালে মূলত পাখি শিকার হয়। আর এগুলো সিলেট মহানগরীসহ আশপাশে বিক্রি করা হয়। অনেক সময় এটা প্রশাসনের নাকের ডগাতেই করা হয়। এই অবস্থায় পাখি শিকারের আইন কার্যকর করতে হবে। প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। যে সমস্ত এলাকাতে এসব পাখি শিকার করা হয় সে সমস্ত এলাকাকে বিশেষ করে তরুন যুব সমাজকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অতিথি পাখি শিকার বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
সারি রেঞ্জ এর বিট অফিসার আব্দুল জব্বার বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত্ই এসব পাখিদের রক্ষার্থে কাজ করে আসছি। বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়েও আমরা এসব পাখিদের রক্ষা করে থাকি। এসব ক্ষেত্রে আমাদের আরও ভাল হয় যদি কেউ আমাদেরকে তথ্য দিয়ে থাকে যে কোনো জায়গায় যদি কেউ গোদামে এসব আটকে রাখে বা বিক্রি করছে এরকম। তবে এর মাঝেও আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। যেমন আমাদের এখানে জনবল সংকটও রয়েছে। যার কারনে আমরা সঠিকভাবে এসব প্রাণী রক্ষার্থে বাঁধার মুখে পড়তে হয়। তবে এরপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D