সিলেটে হতাশ চামড়া ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত: ১:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৭

সিলেটে হতাশ চামড়া ব্যবসায়ীরা

ওয়েছ খছরু : সিলেটে হতাশ চামড়া ব্যবসায়ীরা। সরকার নির্ধারিত চামড়ার দাম কম। কিন্তু তার চেয়ে বেশি দামে তারা সিলেটের বাজার থেকে চামড়া কিনেছেন। এখন বিক্রি করতে টাকা পাচ্ছেন না। ফলে এবার তারা লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন। একই অবস্থা ছিল মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের। কেউ পাননি চামড়ার দাম। এদিকে- লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক চামড়া কিনেছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া অনেক চামড়া তাদের কাছে আসেনি। ওই চামড়াগুলো পাচার হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তারা। সিলেটের বেশির ভাগ চামড়াই মাদরাসায় দান করা হয়। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ দান করা চামড়া বিক্রি করে এতিমখানা পরিচালনা করেন। কিন্তু এবার মাদরাসা কর্তৃপক্ষও চামড়ার দাম পেলো না। সবখানেই চামড়ার দাম নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে। চামড়ার দাম কম নিয়ে সিলেটের ঈদগাহের মাঠে অর্থমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছেন সিলেটের মাওলানা মুশতাক আহমদ। ঈদের বয়ানকালে তিনি অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন- ‘মাননীয় মন্ত্রী দেশে সবকিছুর দাম বাড়ে। কিন্তু চামড়ার দাম বাড়ে না। অথচ মানুষের দান করা এই চামড়া বিক্রি করে মাদরাসাগুলো চলে।’ আগামীতে চামড়ার দাম বৃদ্ধি করতে তিনি অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সিলেট নগরীতে এবার লক্ষাধিক গরু কোরবানি দেয়া হয়েছে। এলাকা ভিত্তিক মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নগদ টাকায় চামড়া কেনে নেন। কিন্তু এবার চামড়ার দাম মিলেনি বলে জানান কোরবানি দাতারা। তারা বলেন- লাখ টাকা দিয়ে গরু কিনে চামড়ায় মিললো ৫০০ টাকা। অথচ এই চামড়া এক সময় সিলেটের ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। চামড়ার এতো কম দাম হওয়ায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়েন। সিলেটের মেডিকেল, রিকাবীবাজার, শেখঘাট, দরগাহ এলাকার কয়েকজন মৌসুমী ব্যবসায়ী জানান- তারা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া ক্রয় করেছেন। ৪০০ থেকে ১০০০ হাজার টাকা দামেও তারা চামড়া ক্রয় করেন। কিন্তু ওই চামড়া তাদের বিক্রি করতে হয় ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে। এ কারণে এবার সিলেটের মৌসুমী ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েন। ঈদের দিন বিকালে নগরীর সুরমা মার্কেট এলাকায় চামড়া বিকিকিনির হাট বসে। এবারও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে নিয়ে গিয়েছিলেন ওই খানে। কিন্তু তারা দাম পাননি। সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীরা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দামেই তার কাছে চামড়া চান। এতে করে তারা লোকসানের মধ্যে পড়েন। তবে- সিলেটের অনেক চামড়া ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি দামে চামড়া কেনেছেন বলে তারা জানান। গতকাল সিলেট চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বলেন- মাদরাসা থেকে যেসব চামড়া কেনা হয়েছে সেগুলো দাম একটু বেশি দেয়া হয়েছে। এক সঙ্গে অনেক চামড়া কেনা হয়েছে। কিন্তু তারা বেশি দামে চামড়া কিনে সেটি সিলেটেই প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণ করেছেন। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা চামড়ার দাম দিচ্ছেন না। ফলে সিলেট চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতারাও লোকসানের মধ্যে পড়েছেন বলে দাবি করেন তারা। সিলেটে হযরত বুরহান উদ্দিন (রহ.) মাদরাসার প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা নাছির উদ্দিন জানিয়েছেন- তিনি প্রায় দুই শত চামড়া মাদরাসায় পেয়েছেন। কিন্তু এবার দাম পেলেন না। চামড়া ব্যবসায়ীরা কম দামে চামড়া কিনছেন। তারা অজুহাত হিসেবে দেখিয়েছেন সরকারের বেঁধে দেয়া দাম। তিনি বলেন- আগামীতে সরকারকে এ ব্যাপারে চামড়ার দাম নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি শাহীন আহমদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন- এবার সিলেটে চামড়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২০ হাজার। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় তারা চামড়া কিনেছেন ৬০ থেকে ৬৫ হাজার। দাম বেশি হওয়ায় তারা চামড়া কিনেননি। কিন্তু ওই চামড়াগুলো কোথায় গেল সেটি তারা জানেন না। এছাড়া সিলেট নগরীর বাইরে থেকে খুব কম চামড়া তারা পেয়েছেন। ওই চামড়াগুলো পাচার হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
অস্থায়ী মাংসের হাট: ঈদের দিন সিলেটে চোখে পড়ার মতো দৃশ্য ছিল অস্থায়ী মাংসের হাট। সিলেটের সুরমা মার্কেট থেকে শুরু করে মহাজনপট্টি পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় দানে পাওয়া মাংস বিক্রির হাট বসিয়েছিলেন বিক্রেতারা। আর এই মাংস কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন ক্রেতারা। এই ভ্রাম্যমাণ মাংসের হাটের মূল ক্রেতা সাধারণত নিম্ন আয়ের মানু্‌ষ ও হোটেল ব্যবসায়ী। কম দামে মাংস কিনতে পেরে সন্তুষ্টি দেখা যায় তাদের চোখে-মুখে। মৌসুমি কসাই, দিনমজুর, দুস্থ, ভিখারি-গরিব, শিশু যারাই কিছু মাংস জোগাড় করতে পেরেছেন, তা নিয়েই বসে গেছেন বিক্রি করতে। কোরবানিদাতাদের কাছ থেকে মাংস পেয়েছেন, তারাই মাংসের হাট বসিয়েছেন। মাংস বিক্রেতা হিসেবে কিছু শিশুকেও দেখা গেছে। সিলেট নগরীর বন্দরবাজারের বিভিন্ন স্থান, জিন্দাবাজার, হাউজিং স্টেট গলির ভেতর, জালালাবাদ আবাসিক এলাকার মুখে, আম্বরখানা পয়েন্ট, দরগামহল্লা, সুবিদবাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পলিথিনের প্যাকেটে কিংবা খোলা অবস্থায় ভাগ করে মাংস সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এই এক ভাগ মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়। এসব ভ্রাম্যমাণ হাটের ক্রেতারা মূলত নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। তবে সিলেটসহ আশপাশ এলাকার বিভিন্ন হোটেল থেকে এসব মাংস কিনতে দেখা যায়। বিক্রেতাদের অনেকে জানালেন, সারাদিন ঘুরে ৪-৫ কেজির মতো মাংস সংগ্রহ করা যায়। কিন্তু এসব মাংস রাখার জায়গা না থাকায় কিংবা কিছু টাকা লাভের জন্যই সংগ্রহ করা মাংস বিক্রি করে দেন তারা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট