|
প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০২৬
সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা নদীতে পৌরসভার ইজারা নেওয়া টোল আদায় করতে না পেরে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইজারাদার। লোকসানের ভারে ব্যবসায়িকভাবে দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে তার। এ অবস্থায় ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ইজারাদার ইকবাল হোসেন রানা। তার অভিযোগ, দুটি নৌপরিবহন ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যরা টোল দিচ্ছেন না। তবে সংগঠনগুলোর নেতারা দাবি করেছেন, ইজারাদারের টোল আদায়ের দাবি ও পদ্ধতি নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানাযায়, সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল, বাংলা ১৪৩২ সনের পয়লা বৈশাখে সুরমা নদীপথে পণ্য লোড-আনলোড, মজুত ও আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইট, বালু, পাথর, চুনাপাথর, সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর নির্ধারিত টোল আদায়ের জন্য মেসার্স সামছু মিয়া অ্যান্ড সন্সকে ইজারা দেওয়া হয়।
ইজারাদার ইকবাল হোসেন রানার অভিযোগ, ইজারা নেওয়ার পর থেকেই শাহপরান ইঞ্জিন নৌকা মালিক সমিতি এবং একতা বালু উত্তোলন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্যদের কাছ থেকে টোল আদায় করতে পারছেন না তিনি। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিষয়টি একাধিকবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।
ইকবাল হোসেন রানা আরও অভিযোগ করেন, টোল আদায়ে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি তার লোকজনকে মারধর করা হয়েছে। বৈধভাবে টোল আদায় করতে যাওয়া এক শ্রমিককে অবৈধ টোল আদায়কারী আখ্যা দিয়ে মামলায় জড়ানো হয়। পরে বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে আদালত থেকে ওই শ্রমিকের জামিন করাতে হয়েছে তাকে। তার দাবি, গত বছরের ১৭ এপ্রিল পৌরসভা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সংশ্লিষ্ট সমিতির সভাপতি ও সাধারণ স¤পাদকেরা টোল আদায়ের বৈধতা স্বীকার করেছিলেন। এরপরও সমিতিগুলোর প্রায় ২০০ নৌযান থেকে টোল আদায় করা যাচ্ছে না।
ইজারাদার জানান, আর্থিক ক্ষতির প্রতিকার চেয়ে আদালতে অভিযোগ দায়েরের পর পৌর কর্তৃপক্ষের টোল আদায়ের কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। এ সময় পৌর কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার। উল্টো আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় অন্য এক ইজারাদারকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মেসার্স সামছু মিয়া অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী ইকবাল হোসেন রানা বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে বৈধভাবে ইজারা নিয়েও টোল আদায় করতে পারছি না। দুটি সমিতির সদস্যরা টোল না দেওয়ায় বিপুল টাকা লোকসান হয়েছে। ইজারা প্রক্রিয়ায় আমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত হয়ে কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টোল পরিশোধ করছেন না বলে আমার অভিযোগ। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ক্ষতির প্রতিকার চাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে একতা বালু উত্তোলন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ স¤পাদক দিলোয়ার হোসেন বলেন, তাদের নৌযানগুলো পৌরসভার সীমানায় আসে না। যেসব নৌযান আসে, সেগুলো নির্ধারিত টোলের চেয়ে কিছু কম টাকা পরিশোধ করে। তাদের অভিযোগ, ইজারাদার নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত হারে টোল আদায়ের চেষ্টা করেন।
শাহপরান ইঞ্জিন নৌকা মালিক সমিতির সভাপতি হাজি ছালেক মিয়া বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চলাচলরত নৌযান থেকে টোল আদায়ের বৈধতা নেই বলে তারা মনে করেন। এছাড়া ইজারাদারের কোনো ঘাট নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে ছাতক পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা স্বরদিন্দু রায় বলেন, ইজারাদার আবেদন করলে বিষয়টি আবার পর্যালোচনা করা হবে।
ছাতক পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন বলেন, ইজারাদার এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। যোগাযোগ করলে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D