জামালপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড

প্রকাশিত: ৭:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২৬

জামালপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড

জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম যৌতুকের জন্য স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী জনি (৩৫) কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই সাথে ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হেয়ছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি ফজলুল হক জানান, দন্ডপ্রাপ্ত জনি জামালপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা গ্রামের মোঃ ইয়াকুব আলীর পুত্র। বিগত ২০১৪ সালের শেষের দিকে একই উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের কন্যা তমার সাথে জনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের সময় তমার পরিবার সাধ্যমত আসবাবপত্র দেন। বিয়ের ৪ মাস পর জনি তার স্ত্রীকে নিয়ে কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থানরত তার শ্বশুরালয়ে গিয়ে অটো রিকশা কিনার জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় জনি স্ত্রীকে সাথে নিয়ে জামালপুরে বাড়িতে চলে আসে। ঘটনার দিন ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ বেলা ১১টার দিকে তমা তার স্বামীকে বাজারে যেতে বলে। এ সময় জনি স্ত্রীকে মারধর শুরু করে, একপর্যায়ে জনি তার স্ত্রীকে ঘরের ভিতর নিয়ে দরজা বন্ধ করে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে ঘরের জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে তমার মা-বাবা ঢাকা থেকে এসে মেয়ের লাশ দেখতে পায়। এ ব্যাপারে ২০ মার্চ জামালপুর সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয় এবং লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তে হত্যার বিষয়টি প্রমানিত হলে জনি সহ ৪ জনে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরে করেন নিহতের মা উম্মে কুলছুম।

তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে ৪ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করে । মামলায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে বিচারক উপরোক্ত রায় ঘোষণা করেন। মামলার ৪ জন আসামির মধ্যে ইতিপূর্বে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার তাদের খালাস প্রদান করা হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্ত আসামি জনির অনুপস্থিতিতে বিচার কাজ সম্পন্ন হয়।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট