এনডিএফ সিলেট জেলা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু হেনা চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

এনডিএফ সিলেট জেলা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু হেনা চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ আমলা দালাল মুৎসুদ্দি পুঁজি বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রসৈনিক, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) সিলেট জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আবু হেনা চৌধুরীর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৮টায় হযরত শাহজালাল দরগা গেইটস্থ উঁনার সমাধিস্তলে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয় এবং সন্ধ্যা ৬টায় এনডিএফ সিলেট জেলা কার্যালয়ে জেলা সভাপতি এডভোকেট কুমার চন্দ্র রায়’র সভাপতিত্বে এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছাদেক মিয়ার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মোঃ আবুল ফজল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা কমিটির আহবায়ক শুভ আজাদ শান্ত, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সিলেট জেলার যুগ্ম আহবায়ক পারভীনা আক্তার, সাবেক ছাত্রনেতা রমাপদ দাস, পরিবারের পক্ষ্যে উঁনার ছোট ভাই জিয়াউর রহমান চৌধুরী সিপার, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জলিল মীরা, বন্দর বাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি সাহাব উদ্দিন, মীরেরচক শ্রমজীবী সংঘের আহবায়ক আলী আহমদসহ প্রমুখ।

আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন এদেশের মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও মুৎসুদ্দি পুঁজির শৃঙ্খল থেকে মুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করা। বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারী শাসনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আশু লক্ষ্য হচ্ছে সা¤্রাজ্যবাদ ও তার এদেশীয় দালাল সমূলে উচ্ছেদ করে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে- শ্রমিক-কৃষকের মৈত্রীর ভিত্তিতে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠা করা। আর এ আদর্শেই আবু হেনা চৌধুরী আজীবন লালন করে গেছেন। বাংলাদেশ একটি নয়াঔপনিবেশিক আধাসামন্তবাদী রাষ্ট্র, যেখানে সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁজির স্বার্থে বাজার ও প্রভাব বলয় নিয়ে দ্বন্ধ বিরাজমান। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো এদেশে তাদের বিশ্বস্থ দালাল তৈরি করে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়ন করে চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব পরিস্থিতিকে ক্রমেই সংঘাতমুখর করে তুলছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্ব বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশও বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে জনগনের নাভিশ্বাস অবস্থা। লাগারতার ভাবে গ্যাস-বিদ্যুৎ এর মূল্য বৃদ্ধি করে চলছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন তারেক জিয়ার সরকার। অন্যদিকে প্রভু সা¤্রাজ্যবাদকে খুশি করতে গিয়ে মানবিক করিডোরের প্রস্তাব, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে ইজারা প্রদান, এনডিএসহ বিভিন্ন সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বিষয়গুলো জাতীয় স্বার্থ বিরোধী উল্লেখ করে সভা থেকে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়।
আজকের বাস্তবতায় প্রয়োজন আবু হেনা চৌধুরীর দেখানো পথ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলার মধ্য দিয়ে আবু হেনা চৌধুরীর অসমাপ্ত কাজ বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করা।

উল্লেখ্য যে, আবু হেনা চৌধুরী ২০০৬ সালের ২৪ অক্টোবর ভোর রাতে শ্বাসনালী ও খাদ্যনালী সংক্রমন জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। ৬০ এর দশকে রাশিয়াতে ক্রুশ্চেভচক্র ক্ষমতা দখল করার প্রেক্ষিতে বিশ^ কমিউনিস্ট আন্দোলনে যে বির্তক দেখা দেয় তার ঢেউ বাংলাদেশেও এসে লাগে এবং আলবেনিয়ার নেতৃত্বে সে বির্তকের দুই ধারার আদর্শগত সংগ্রামের পরিণতিতে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন সংশোধনবাদী ও বিপ্লবী ধারায় বিভক্ত হয়। সেই আদর্শগত সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন আবু হেনা চৌধুরী। এ সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের বিপ্লবী ধারার সিলেট জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। মার্কসবাদের কালজয়ী আদর্শকে তাঁর জীবনের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করেন। ষাটের দশকে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনসহ সা¤্রাজ্যবাদ বিরোধী অসংখ্য আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং কারাবরণ করেন। ষাটের দশকের শেষ দিকে মসজিদ আল-আকসাতে ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে ছাত্র জনতার আন্দোলনসহ অসংখ্য ছাত্র, গণ-আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।


 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বমোট পাঠক


বাংলাভাষায় পুর্নাঙ্গ ভ্রমণের ওয়েবসাইট