|
প্রকাশিত: ৫:৪৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে কলেজকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়ার দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার বেলা ২টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলছিল। এতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছেন কলেজের অধ্যক্ষসহ ১৪ শিক্ষক। একই ভবনে ৬ থেকে ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীও অবস্থান করছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। ফটক বন্ধ থাকায় ভবনের ভেতরে থাকা অধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বাইরে বের হতে পারছেন না। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, পুরকৌশল এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল এই তিনটি বিভাগ রয়েছে। বর্তমানে পাঁচটি ব্যাচে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। আন্দোলনে অধিকাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় তাদের বিএসসি প্রকৌশল ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে এলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। প্রশাসনিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্বের কারণে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, তারা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকতে চান না। বিএসসি প্রকৌশল ডিগ্রির স্বকীয়তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কলেজকে অন্য একটি উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়ার দাবি তাদের। এ ক্ষেত্রে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে ক্লাস, পরীক্ষা, ব্যবহারিক পরীক্ষা, পাঠাগার ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
এদিকে রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উভয় কর্মকর্তাকে সোমবারের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
তবে অধ্যক্ষের বদলির এই আদেশও প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহাদ বলেন, তাদের মূল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। একইভাবে নতুন অধ্যক্ষকেও ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
ফাহাদ বলেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাঈদা পারভীন ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে জানিয়ে দেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, অধ্যক্ষ বদল বা প্রশাসনিক কোনো সিদ্ধান্ত দিয়ে তাদের মূল দাবিকে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই। তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত চান।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যাওয়ার দাবি করছেন। তাদের আন্দোলনের কারণে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে প্রায় ২০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবস্থান করছেন। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

EDITOR & PUBLISHER :
DR. ARIF AHMED MOMTAZ RIFA
MOBILE : 01715110022
PHONE : 0821 716229
OFFICE : SHUVECHCHA-191
MIAH FAZIL CHIST R/A
AMBAKHANA WEST
SYLHET-3100
(Beside Miah Fazil Chist Jame Masjid & opposite to Rainbow Guest House).
E-mail : sylhetsangbad24@gmail.com
Hello : 01710-809595
Design and developed by M-W-D